বন্ধুরা…

তোমাদের মধ্যে কতজন আছো…

যারা একটা Foreign Language শিখতে চাও?

অথবা…

নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি…

আরও একটা Indian Language আয়ত্ত করতে চাও?

যদি তোমার উত্তর “হ্যাঁ” হয়…

তাহলে আজকের গল্পটা তোমার জন্য।

কিন্তু…

একটা কথা আগে থেকেই বলে রাখি।

এটা কোনো সাধারণ Language Learning ভিডিও নয়।

আজ আমরা শিখব…

যেকোনো অজানা ভাষা কীভাবে আয়ত্ত করা যায়।

আর সেই শিক্ষকের নাম শুনলে…

হয়তো তুমিও একটু অবাক হবে।

যাঁকে আমরা আজীবন শুধু একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবেই মনে রেখেছি…

কিন্তু খুব কম মানুষ জানে…

তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ Language Learner-ও।

বলতে পারো…

আমি কার কথা বলছি?

হ্যাঁ…

তিনি আর কেউ নন…

আমাদের প্রিয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছ।

আজ নেতাজিই আমাদের শেখাবেন…

কীভাবে নতুন ভাষা শেখাকে কঠিন না ভেবে…

একটা আনন্দের যাত্রায় পরিণত করা যায়।

তাহলে…

চলুন তবে শুরু করা যাক।


চলুন ..তাহলে আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে ফিরে যাই।

স্থান…কটকের র‍্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুল । ফোর্থ ক্লাসের ঘর । ক্লাসে সংস্কৃত – এর শিক্ষক বিশ্বনাথ কাব্যতীর্থ পড়াচ্ছেন । সেইসময় স্কুলের প্রধানশিক্ষক বেণীমাধব দাশ একটি নতুন ছেলে-কে সাথে করে ক্লাসে ঢুকলেন ।

” এই ছেলেটি এই ক্লাসে আজ ভর্তি হল ” – নতুন ছাত্রটিকে পৌঁছে দিয়েই ফিরে গেলেন প্রধানশিক্ষক মহাশয় । নতুন ছাত্র-টি প্রথম বেঞ্চিতে ধীরেসুস্থে বসলো । সংস্কৃত – এর শিক্ষক কাব্যতীর্থ মহাশয় চশমার ফাঁক দিয়ে তাকালেন ।

– তোমার নাম কী হে ?

নতুন ছাত্রটি উঠে দাঁড়িয়ে বললে –

– শ্রী সুভাষচন্দ্র বসু ।

– এর আগে কোন স্কুলে পড়তে ?

– প্রোটেস্টান্ট ইউরোপীয়ান স্কুলে ।

– কী কী পড়তে সেখানে ?

– ল্যাটিন , ইংলিশ , ইংল্যাণ্ডস হিস্ট্রি , জিওগ্রাফি আর এরিথমেটিক ।

নতুন ছাত্রটির ইংরেজি উচ্চারণ শুনে বাকি ছাত্ররা হকচকিয়ে গেল । শিক্ষক কাব্যতীর্থ-ও একটু বিরক্ত.. রেগে গেলেন.. প্রশ্ন করলেন –

– সংস্কৃত জানো ? শব্দরূপ ? নরঃ নরৌ নরাঃ ? আরে হাঁ করে আছো কী ! গৌ গাবৌ গাবঃ – জানো ?

মাথা নিচু করে নতুন ছাত্রটি বললে – জানি না ।

– ধাতুরূপ ? গচ্ছতি গচ্ছতঃ গচ্ছন্তি – জানো ?

– জানি না ।

– সংস্কৃত কতদূর জানো ? শিক্ষক কাব্যতীর্থ ঝাঁঝিয়ে উঠলেন ..

– কিছুই জানি না .. অক্ষর পরিচয়ও হয়নি । মাথা নিচু করেই বললে নতুন ছাত্রটি ।

ক্লাসের সব ছাত্র হো হো করে হেসে উঠল । শিক্ষক কাব্যতীর্থ তাদের থামিয়ে আবার ঝাঁঝিয়ে প্রশ্ন করলেন – আর বাংলা ?

– বাংলাও ঐ স্কুলে পড়ান হতো না ।

– বলো কী ! তোমার মাতৃভাষা-ও তোমাকে পড়ানো হতো না !

– না .. তাই জন্য তো ঐ স্কুল ছেড়ে এই স্কুলে ভর্তি হলাম ।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শিক্ষক কাব্যতীর্থ বললেন – ভাবছি .. তোমার কী দশা হবে !

– দু একদিনে শিখে নেব । শান্তমুখে বললে নতুন ছাত্র সুভাষচন্দ্র ।

হো-হো করে আবার হেসে উঠল ছাত্ররা .. যার বাংলা-সংস্কৃতে কোনও অক্ষর জ্ঞান পর্যন্ত নেই সে কিনা দু একদিনেই দিগগজ হবে !!

অসম্ভব রেগে গিয়ে শিক্ষক কাব্যতীর্থ মুখ বাঁকিয়ে বলে উঠলেন .. এ‍্যাঁ .. দু একদিনেই শিখে নেবে ! .. কী দরকার ছিল এই স্কুলে ভর্তি হবার .. সাহেব স্কুলে সাহেব থাকলেই তো পারতে ।

মাথা তুলে দীপ্ত মুখে নতুন ছাত্রটি বললে – বিশ্বাস করুন স্যার , দু একদিনে শিখে নেবো ।

এ অসম্ভবকে বিশ্বাস করা কারুর পক্ষেই সম্ভব নয় । শিক্ষক কাব্যতীর্থ মহাশয়ও বিশ্বাস করলেন না .. তিনি আরো রেগে গিয়ে নতুন ছাত্রটির সামনে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বললেন – ছাই শিখবে .. কিচ্ছু হবে না তোমার .. তোমার লেখাপড়া কিচ্ছু হবে না ।

কিছু দিন পরে …

র‍্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুল – এর প্রধানশিক্ষক বেণীমাধব দাশ স্কুলের ক্লাস চলাকালীন স্কুলের বারান্দা দিয়ে ঘুরে ঘুরে পায়চারি করে সব কিছু লক্ষ্য নজর করেন , এ তাঁর চিরাচরিত অভ‍্যাস । একদিন এমনই লক্ষ‍্য নজর রাখতে রাখতে একটি ছাত্রকে ডাক দিলেন ..

– ওহে চারু শোনো ।

ছাত্রটির নাম চারুচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় । এই স্কুলেরই ইংরেজির শিক্ষক গোপালচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় – এর ছেলে ।

চারু কাছে এসে দাঁড়াল ।

– তোমাদের ক্লাসে একজন নতুন ছাত্র এসেছে .. আলাপ হয়েছে ?

– হ্যাঁ স্যার .. সুভাষ – সুভাষচন্দ্র বসু ।

– খাঁটি ছেলে ।

– হ্যাঁ স্যার .. ইংরেজি-তে বেশ স্ট্রং ।

– তুমি তো ক্লাসে প্রথম হও .. তারপর হেসে বললেন , তোমার এবার একজন প্রতিদ্বন্দ্বী জুটলো ।

– কিন্তু স্যার .. ও সংস্কৃত কিছুই জানে না .. আর বাংলাতেও খুব কাঁচা ।

বেণীমাধব মহাশয় এবার একটু আনমোনা হয়ে গেলেন .. আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলে উঠলেন , শিখে ফেলবে .. দেখতে দেখতে শিখে ফেলবে .. যেমন বুদ্ধি তেমন মেধা .. ভেতরে স্থির শিখার সঙ্কল্পের আলো জ্বলছে ।

বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের দিন …

বারান্দায় প্রধানশিক্ষক বেণীমাধব দাশ .. চারু-কে দেখতে পেয়ে ডাকলেন

– এবার বার্ষিক পরীক্ষা-য় তোমাদের ক্লাসে কে ফার্স্ট হল ?

– সুভাষ , স্যার ।

– বলো কী ! সংস্কৃতে কত পেয়েছে ?

– একশোর মধ্যে একশো ।

– বলো কী !! .. বেণীমাধব মহাশয় যত না বিস্মিত , মনে মনে তার থেকেও বেশি গর্বিত .. বললেন , একশোর মধ্যে একশো ! আর তুমি ?

চারু হেসে বললে , নিরানব্বুই ।

এমন সময়ে দেখা গেল সংস্কৃত – এর শিক্ষক যাচ্ছেন , বেণীমাধব মহাশয় তাঁকে ডাকলেন । বিশ্বনাথ কাব্যতীর্থ কাছে এসে দাঁড়ালেন ।

বেণীমাধব মহাশয় জিজ্ঞেস করলেন , সুভাষ-কে একশোর মধ্যে একশোই দিয়ে দিলেন !

কাব্যতীর্থ মহাশয় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন , কী আর করবো বলুন স্যার .. একশো-র মধ্যে একশো দশ তো আর দেওয়া যায় না ।

সুভাষচন্দ্র বসু-র ছাত্র জীবন – এর এই ঘটনা আমরা সকলেই কম – বেশি জানি । কিন্তু এই ঘটনাটি যখন খুব গভীরভাবে ভাবি .. চিন্তা করি , এ কী ভাবে সম্ভব .. অক্ষর জ্ঞান ছিল না .. তাও পরীক্ষা-র পরে দেখা গেল একশোয় একশো ! তারপরেই একটা অদ্ভুত মন – প্রাণ জুড়ানো ভালোলাগা ছুঁয়ে গেল .. বুকের মধ‍্যে একটা গর্বের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে .. এ যে সুভাষচন্দ্র বসু .. আমাদের নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু । কোনও কিছুই অসম্ভব নয় তাঁর কাছে .. সেই ছোট্ট বয়স থেকেই । মা সরস্বতী-র বরপুত্র তিনি ..

Watch the video


🔍 আজ একটু থামি…

বন্ধুরা…

যখন আমি প্রথম এই ঘটনাটা পড়েছিলাম…

আমারও ঠিক তোমাদের মতোই অনুভূতি হয়েছিল।

বুকটা গর্বে ভরে গিয়েছিল।

মনে হয়েছিল…

“এটাই তো আমাদের নেতাজি!”

তারপর?

তারপর বইটা বন্ধ করে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

কিন্তু…

কয়েক বছর পরে…

একদিন হঠাৎ এই ঘটনাটা আবার পড়ছিলাম।

সেদিন একটা প্রশ্ন মাথায় এলো।

যদি নেতাজির জায়গায় আমি থাকতাম… তাহলে কী করতাম?

সত্যি করে বলছি…

হয়তো আমি সেদিন বাড়ি ফিরে বলতাম…

“সংস্কৃত আমার দ্বারা হবে না।”

“এত দেরিতে শুরু করেছি… আর সম্ভব নয়।”

“অন্য সবাই তো অনেক এগিয়ে গেছে।”

আর হয়তো…

ওই একদিনের অপমানকেই সারাজীবনের অজুহাত বানিয়ে ফেলতাম।

তারপর হঠাৎ মনে হলো…

আমাদের জীবনেও তো এমন ঘটনা কতবার ঘটে।

নতুন অফিসে যোগ দিই…

দেখি সবাই দারুণ ইংরেজিতে কথা বলছে।

আমরা চুপ করে যাই।

কোনো Training-এ যাই…

দেখি সবাই অনেক বেশি জানে।

আমরা ভাবি…

“এটা আমার দ্বারা হবে না।”

কেউ নতুন শহরে যায়…

কেউ নতুন দেশে…

কেউ আবার চাকরির জন্য নতুন একটা ভাষা শিখতে চায়।

কিন্তু শুরু করার আগেই…

আমরা নিজেরাই নিজের কাছে হেরে যাই।

আর ঠিক এখানেই…

নেতাজি আমাদের থেকে আলাদা ছিলেন।

তিনি একবারও বলেননি…

“আমি পারব তো?”

তিনি বলেছিলেন…

“আমি শিখে নেব।”

দেখো…

কথাটা খুব ছোট।

কিন্তু এই ছোট্ট বাক্যটার ভেতরেই লুকিয়ে আছে একটা বিশাল মানসিকতা।

তিনি নিজের বর্তমান অবস্থাকে দেখেননি।

তিনি দেখেছিলেন…

নিজের ভবিষ্যৎকে।

আর আমি যত বড় হয়েছি…

তত একটা জিনিস বুঝেছি।

Past is past.Future is yours.So live in your present moment.

জীবনে অনেক সময়…

Talent আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায় না।

আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়…

নিজের ওপর বিশ্বাস করার সাহস।

হয়তো এই কারণেই…

সেদিন পুরো ক্লাস হাসলেও…

ইতিহাস শেষ পর্যন্ত হাসেনি।

ইতিহাস মাথা নত করেছিল…

সেই ছোট্ট ছেলেটার সামনে…
যে শান্ত গলায় বলেছিল—

“বিশ্বাস করুন স্যার… আমি শিখে নেব।”


বন্ধুরা…

আজ এখানেই শেষ করছি আমাদের এই যাত্রার প্রথম পর্ব

কিন্তু বিশ্বাস করো…This is just the beginning

আগামী কয়েকটি পর্বে আমরা আরও গভীরে যাব।

আমরা একসঙ্গে Decode করব—

কীভাবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শেখার দর্শন অনুসরণ করে

তুমিও যেকোনো Foreign Language আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিখতে পারো।

কোনো ম্যাজিক নয়…

কোনো শর্টকাট নয়…

শুধু এমন কিছু বৈজ্ঞানিক এবং বাস্তবসম্মত Learning Principles…

যেগুলো আজও সমান কার্যকর।

তাই…

পরের পর্বটা একদম মিস কোরো না।

আর যদি আজকের গল্পটা তোমার ভালো লেগে থাকে…

তাহলে ভিডিওটা তোমার সেই বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে শেয়ার করো…

যে নতুন কোনো ভাষা শিখতে চায়, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে বুঝে উঠতে পারছে না।

ততক্ষণ পর্যন্ত…

নিজের শেখার আগুনটা জ্বালিয়ে রেখো।

আমি আবার দেখা করব…

একটি নতুন গল্প, নতুন শিক্ষা এবং নতুন অনুপ্রেরণা নিয়ে।

ভালো থেকো…

সুস্থ থেকো…

জয় হিন্দ।

বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…