বন্ধুরা,

ছোটবেলায় আমরা একটা কথা খুব শুনেছি—
“শিক্ষার কোনো শেষ নেই।”

কিন্তু বড় হতে হতে একটা জিনিস বুঝেছি—
শিক্ষার শেষ নেই ঠিকই, কিন্তু অনেক সময় শিক্ষার পথে একটা আর্থিক দেওয়াল দাঁড়িয়ে যায়।

আমি যখন আমাদের প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকাই, তখন একটা বিষয় আমাকে খুব ভাবায়।

আমাদের সেই পুরনো গুরুকুল ব্যবস্থা।

সেখানে শিক্ষা শুধুমাত্র ধনী পরিবারের সন্তানদের জন্য ছিল না।
শিক্ষার দরজা ছিল সবার জন্য।

আর একটা সুন্দর বিষয় ছিল—
শিক্ষা ছিল নিঃশুল্ক।

কিন্তু তাহলে গুরুকুল চলত কীভাবে?

গুরুকে তো সংসার চালাতে হতো।
ছাত্রদের থাকা, খাওয়া, পড়াশোনা—সবকিছুরই তো একটা ব্যবস্থা করতে হতো।

সেই দায়িত্বটা নিত সমাজ।

রাজা, জমিদার, সমাজের অবস্থাপন্ন মানুষ—
তাঁরা গুরুকুলকে সাহায্য করতেন।

কারণ তাঁদের কাছে শিক্ষায় অর্থ দেওয়া মানে শুধু একজন ছাত্রকে সাহায্য করা নয়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করা।


এই ভাবনাটা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে খুব স্পর্শ করেছে।

কারণ একটা সময় নিজের জীবনটার দিকে ফিরে তাকিয়ে আমার মনে হলো—

জীবনে তো অনেক কিছু পেয়েছি।
অনেক মানুষের কাছ থেকে শিখেছি।
অনেক বই পড়েছি।
অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
অনেক মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং guidance,help পেয়েছি।

কিন্তু নিজেকে একটা প্রশ্ন করলাম—

“আমি কী ফিরিয়ে দিয়েছি?”

সত্যি বলতে কী, মনে হলো—
জীবনে এতদিন শুধু নিয়েই গেলাম।

জ্ঞান নিয়েছি।
অভিজ্ঞতা নিয়েছি।
মানুষের কাছ থেকে শিখেছি।

কিন্তু বিনিময়ে সমাজকে, মানুষকে—
আমার শেখাগুলো কতটা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি?

এই প্রশ্নটাই আমাকে ভিতর থেকে নাড়া দিয়েছিল।

তারপর একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম—

জীবনে যা কিছু শিখেছি, যা কিছু অর্জন করেছি, তার একটা অংশ আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

এই ভাবনাটা মাথায় আসার পর ধীরে ধীরে আমি বিভিন্ন কোর্স তৈরি করতে শুরু করলাম।

কিন্তু শুধু কোর্স তৈরি করলেই তো হবে না।
সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছবে কীভাবে?

তখন মনে হলো—
আমার নিজের একটা platform থাকা দরকার।

আর সেই ভাবনা থেকেই তৈরি করলাম আমার নিজের website— https://amitbis.in

এই website-টাকে আমি শুধু একটা website হিসেবে দেখি না।

আমার কাছে এটা অনেকটা আমার নিজের একটা শেখার ভাণ্ডার

আমার এত বছরের experience,
আমার শেখা,
আমার ভুল,
আমার উপলব্ধি,
আর জীবনের পথে দেখা অসংখ্য মানুষ ও গল্প—

সবকিছুকে এক জায়গায় এনে আপনাদের সঙ্গে share করার একটা ছোট্ট চেষ্টা।

Corporate life-এ কাজ করতে গিয়ে যা শিখেছি,
মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যা বুঝেছি,
নিজের ভুল থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি,
আর জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে যে ছোট ছোট উপলব্ধিগুলো অর্জন করেছি—

সেগুলোকেই আমি সহজ ভাষায়, গল্পের মাধ্যমে আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

কারণ একটা সময় আমি একটা জিনিস বুঝেছি—

জ্ঞান শুধু নিজের কাছে জমিয়ে রাখার জন্য নয়।

জ্ঞান তখনই সত্যিকারের অর্থবহ হয়ে ওঠে,
যখন সেটা অন্য কারও জীবনে
একটু আলো জ্বালাতে পারে,
কোনও একটা সমস্যার সমাধান করতে পারে,
কিংবা কাউকে তার নিজের পথটা খুঁজে নিতে সাহায্য করতে পারে।

আর এখানেই আমি মানুষের সঙ্গে অন্য প্রাণীর একটা মৌলিক পার্থক্য দেখতে পাই।

অন্য প্রাণীরা বাঁচে—
নিজের জন্য, নিজের প্রয়োজনের জন্য।

কিন্তু মানুষ শুধু নিজের জন্য বাঁচে না।

মানুষ পারে তার নিজের জীবনের সীমানা পেরিয়ে
অন্য মানুষকে কিছু দিতে,
সমাজের জন্য কিছু করতে,
আর আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে যেতে।

হয়তো এটাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

আমরা প্রত্যেকেই জীবনে কিছু না কিছু পাই।

কেউ জ্ঞান পায়।
কেউ অভিজ্ঞতা পায়।
কেউ সুযোগ পায়।
কেউ একটা ভালো mentor পায়।
কেউ পরিবারের support পায়।
কেউ আবার সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষের কাছ থেকেও এমন কিছু পেয়ে যায়, যা তার জীবনকে বদলে দেয়।

আমিও পেয়েছি।

জীবনের দিকে পিছন ফিরে তাকালে দেখি—
আমার জীবনে যতটা অর্জন, তার সবটাই কিন্তু আমার একার নয়।

এর পিছনে রয়েছে অনেক মানুষের contribution।

কেউ আমাকে শিখিয়েছেন।
কেউ সুযোগ দিয়েছেন।
কেউ ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন।
কেউ কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তাই একটা সময় নিজের কাছেই একটা প্রশ্ন করলাম—

“আমি যা পেয়েছি, তার কতটা আমি ফিরিয়ে দিতে পেরেছি?”

এই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমার ভিতরে একটা পরিবর্তন এল।

আমি ভাবলাম—

জীবনে শুধু নিয়ে গেলাম,
এবার কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কৃপণ’ কবিতাটি পড়তে ও শুনতে শুনতে এই ভাবনাটা আমার মধ্যে আরও গভীর হয়েছে।

বারবার মনে হয়েছে—

আমরা যদি আমাদের কাছে থাকা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, ভালোবাসা, সামর্থ্য—সবকিছু শুধু নিজের মধ্যে আটকে রাখি, তাহলে শেষ পর্যন্ত আমরা কী রেখে গেলাম?

তখন নিজের জন্য একটা খুব simple philosophy তৈরি করলাম—

“আমি আমার শেখাগুলো আপনাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।”

সেই ভাবনা থেকেই তৈরি করেছি আমার বিভিন্ন course।
আর সেই course-গুলোকে মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি করেছি আমার নিজের website—

amitbis.in

আমি ইচ্ছে করেই এই learning resources-গুলোকে যতটা সম্ভব free এবং accessible রাখার চেষ্টা করেছি।

কারণ আমি মনে করি—

জ্ঞান নিজের কাছে জমিয়ে রাখলে তার মূল্য কমে যায়।
জ্ঞান যত বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তার মূল্য তত বাড়ে।

আমাদের পূর্বপুরুষেরা হয়তো এই কথাটাই অনেক আগে বুঝেছিলেন।

তাই আমাদের গুরুকুলে শিক্ষা শুধু একজনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না।
সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরা সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে support করতেন, যাতে জ্ঞান আরও মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে।

আমি সেই পুরনো ভাবনাটাকেই
আজকের digital যুগে,
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী,
একটু নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।

আমি জানি—

আমার এই ছোট্ট উদ্যোগ হয়তো পৃথিবী বদলে দেবে না।

হয়তো লাখ লাখ মানুষের জীবনও বদলে যাবে না।

কিন্তু যদি আমার একটা course দেখে
কোনও একজন তরুণ একটা নতুন skill শেখে—

যদি কোনও একজন মানুষ তার career-এ একটা নতুন সুযোগ পায়—

যদি আমার কোনও একটা গল্প কাউকে নিজের জীবনের কোনও সমস্যাকে নতুনভাবে দেখতে সাহায্য করে—

তাহলেই আমার এই প্রচেষ্টা সার্থক।

কারণ শেষ পর্যন্ত জীবনের হিসাবটা শুধু
“আমি কী পেলাম?”
দিয়ে হয় না।

একদিন আমাদের নিজেদের কাছে আরেকটা প্রশ্নও করতে হয়—

“আমি কী দিয়ে গেলাম?”

আমি সেই দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে শুরু করেছি।

হয়তো এটাই আমার ছোট্ট গুরুদক্ষিণা

যাঁদের কাছ থেকে আমি এত কিছু শিখেছি,
তাঁদের প্রতি।

যে সমাজ আমাকে এত কিছু দিয়েছে,
সেই সমাজের প্রতি।

আর যারা আগামী দিনে আসবে,
সেই future generation-এর প্রতি।

আমি জানি না, আমার রেখে যাওয়া জিনিস কতটা মূল্যবান হবে।

কিন্তু একটা জিনিস জানি—

আমি শুধু নিয়ে যেতে চাই না।

যতদিন পারি,
যতটুকু পারি,
কিছুটা দিয়ে যেতে চাই।

কারণ আমার কাছে—

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সাফল্য শুধু কতটা অর্জন করলাম, সেটা নয়।

কতটা ফিরিয়ে দিতে পারলাম—সেটাও।

3 comments

  1. Your points about the financial barriers to education really resonated with me. It’s thought-provoking to see how the ancient gurukul system made education accessible to all, regardless of wealth. I often reflect on how important it is to break down those barriers in today’s world. A helpful free resource I use for this is community educational forums.

  2. I found your thoughts on the ancient Gurukul system fascinating, especially how education was accessible to all, not just the wealthy. It’s a stark contrast to the financial barriers many face today in pursuing knowledge. I often refer to a helpful free resource to explore more on this topic.

  3. Your mention of the ancient Gurukula system really made me reflect on how education should be accessible to all, regardless of financial background. It’s a significant point to consider in today’s context where economic barriers often limit opportunities. I’ve found that using free online courses can help bridge some of these gaps in modern education.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *