Modern Loot – 2 :Family Loot: পরিবার ভাঙলে কার লাভ?


বহু বছর ধরেই একটা জিনিস আমি লক্ষ্য করছি।

বাংলা টিভি সিরিয়াল হোক কিংবা হিন্দি—

একটা ছেলেকে যতক্ষণ না দু’বার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথবা কোনো না কোনোভাবে extra-marital affair-এর সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ যেন script writer-দের ঘুম হয় না!

যে করেই হোক—

দ্বিতীয় বিয়ে চাই।

Extra-marital affair চাই।

শাশুড়ি-বউমার ঝগড়া চাই।

ভাইয়ে-ভাইয়ে সম্পত্তির বিবাদ চাই।

আর শেষ পর্যন্ত—

একটা Joint Family-কে ভেঙে Nuclear Family বানানো চাই!

আগে ব্যাপারটা বুঝতাম না।

ভাবতাম—

মানুষ হয়তো এগুলোই দেখতে চায়।

এগুলোতেই TRP আসে।

তাই producer এবং script writer-রা মানুষের পছন্দ অনুযায়ী গল্প তৈরি করেন।

কিন্তু বহু বছর পর আমার মাথায় অন্য একটা প্রশ্ন এল।

আচ্ছা, পরিবার ভাঙলে সবচেয়ে বেশি লাভ কার?

একটু অন্যভাবে ভাবুন।

ধরুন, একটি Joint Family-তে দশজন মানুষ থাকেন।

সেখানে হয়তো একটা বড় Television যথেষ্ট।

একটা Washing Machine।

একটা Refrigerator।

দুটো Air Conditioner।

একটা Internet Connection।

একটা Kitchen।

একটা Car।

এবার সেই একটি Joint Family ভেঙে যদি তিনটি Nuclear Family তৈরি হয়?

তাহলে?

একটা Television হয়ে যাবে তিনটে।

একটা Washing Machine হয়ে যাবে তিনটে।

একটা Refrigerator হয়ে যাবে তিনটে।

একটা Internet Connection হয়ে যাবে তিনটে।

একটা Kitchen-এর জায়গায় তিনটে Kitchen।

একটা Car-এর জায়গায় দরকার হতে পারে তিনটে Car।

অর্থাৎ—

একটা পরিবার ভাঙল।

কিন্তু তিনটে নতুন Consumer Unit তৈরি হলো।

এবার আমার প্রশ্ন—

পরিবার ভাঙলে কার লাভ?

মানুষের?

নাকি Market-এর ? Organization এর ?

আমি বলছি না যে কোনো গোপন ঘরে বসে কিছু কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—

“চলো, ভারতীয় পরিবার ভেঙে দিই।”

এমন দাবির পক্ষে প্রমাণ দরকার।

কিন্তু Consumer Economy-র একটা সাধারণ সত্য অস্বীকার করা কঠিন—

যত বেশি Household, তত বেশি Consumption-এর সম্ভাবনা।

আর এখানেই আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন।

Television Serial-গুলো চলে কীভাবে?

শুধু TRP দিয়ে?

না।

তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি বড় অংশ Advertising-এর সঙ্গে যুক্ত।

বিভিন্ন কোম্পানি বিজ্ঞাপন দেয়।

কেন দেয়?

কারণ তারা চায় মানুষ তাদের Product দেখুক।

Product-এর প্রতি আকৃষ্ট হোক।

এবং শেষ পর্যন্ত—

Product কিনুক।

তাহলে Content, Advertising এবং Consumer Behaviour-এর মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক নেই?

অবশ্যই আছে।

কিন্তু সম্পর্ক থাকা আর পরিকল্পিতভাবে পরিবার ভাঙার ষড়যন্ত্র করা—এই দুটো এক বিষয় নয়।

সেখানেই আমাদের সতর্কভাবে ভাবতে হবে।

কারণ আমার আসল প্রশ্নটা আরও গভীরে।

Media কি শুধু সমাজকে Reflect করে?

নাকি—

Media ধীরে ধীরে সমাজকেও Shape করে?


একটি গল্প আপনি একদিন দেখলেন—

কিছু হলো না।

এক মাস দেখলেন—

হয়তো কিছু হলো না।

কিন্তু বছরের পর বছর যদি একই Narrative দেখতে থাকেন—

পরিবার মানেই ঝগড়া,

সম্পর্ক মানেই সন্দেহ,

বিয়ে মানেই বিশ্বাসঘাতকতা,

Joint Family মানেই সমস্যা,

আর স্বাধীনতা মানেই আলাদা হয়ে যাওয়া—

তাহলে সেই Narrative কি ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে না?

আমি উত্তর দিচ্ছি না।

আমি শুধু প্রশ্ন করছি।

কারণ Modern Loot সবসময় আপনার Bank Account থেকে টাকা চুরি করে না।

কখনও কখনও—

প্রথমে আপনার চিন্তাভাবনা বদলে দেওয়া হয়।

তারপর বদলে যায় আপনার Lifestyle।

তারপর বদলে যায় আপনার Needs।

তারপর সেই Needs পরিণত হয় Consumption-এ।

আর শেষ পর্যন্ত—

আপনি ভাবেন,

Decision-টা সম্পূর্ণ আমার নিজের।

হয়তো সত্যিই নিজের।

আবার হয়তো সেই Decision-এর পিছনে বছরের পর বছর ধরে দেখা হাজার হাজার Advertisement, Serial, Story এবং Narrative-এরও কিছু ভূমিকা রয়েছে।


প্রাচীনকালে লুটেরা আপনার বাড়িতে ঢুকত।

আপনি তাকে দেখতে পেতেন।

প্রতিরোধ করতে পারতেন।

কিন্তু Modern Loot?

সে হয়তো আপনার বাড়িতে ঢোকে না।

সে ঢোকে আপনার Drawing Room-এর Television দিয়ে।

তারপর ধীরে ধীরে—

আপনার চোখ থেকে…

আপনার মস্তিষ্কে।

মস্তিষ্ক থেকে…

আপনার বিশ্বাসে।

বিশ্বাস থেকে…

আপনার Lifestyle-এ।

আর Lifestyle থেকে—

আপনার Wallet-এ।

ভারতবর্ষের ১৪০ কোটির বেশি মানুষ শুধু একটি Population নয়।

এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ Consumer Market।

আর সেই বাজারে যদি একজন মানুষের একটি “Need”-কে দশজন মানুষের দশটি আলাদা “Need”-এ পরিণত করা যায়—

তাহলে ভাবুন,

Business Opportunity কত বড়!

তাই আমার কাছে Modern Loot-এর দ্বিতীয় রূপ হলো—

শুধু সম্পদ নিয়ে যাওয়া নয়।

মানুষের চিন্তা, সম্পর্ক এবং Lifestyle-কে এমনভাবে প্রভাবিত করা, যাতে Consumption ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

তবে শেষ প্রশ্নটা আপনার জন্য রেখে গেলাম—

বাজার কি আমাদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে?

নাকি…

বাজারই ধীরে ধীরে আমাদের নতুন নতুন প্রয়োজন তৈরি করে দিচ্ছে?

Think about it.

বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…