2nd Stranza of Bidrohi Kobita


বন্ধুরা,

“বিদ্রোহী” কবিতার প্রথম স্তবক নিয়ে যখন ভাবছিলাম…

হঠাৎ আমার মনে একটা প্রশ্ন এল।

যদি প্রথম স্তবকটি আমাদের Champion Mindset তৈরি করে…

তাহলে পরের স্তবকটি কী করছে?

কয়েক দিন ধরে আমি শুধু এই প্রশ্নটাই নিয়ে ভাবছিলাম।

একদিন গাড়ি চালাচ্ছি…

মনে মনে আবার কবিতাটা আওড়াচ্ছি।হঠাৎ একটা লাইন মনে পড়ছে।

হঠাৎ বুঝতে পারলাম…

আরে!

এ তো শুধু শক্তির বর্ণনা নয়।

এ তো একটা Action Plan

আমাদের জীবনেও তো এমন হয়, তাই না?

অনেক সময় আমরা কোনো সেমিনার শুনে…

কোনো মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে…

অথবা কোনো বই পড়ে…

ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়ে যাই।

মনে হয়…

“আমি পারব।”

“আমি বদলে যাব।”

কিন্তু পরের দিন সকালে…

জীবন আবার আগের মতোই চলতে থাকে।

কিছুই বদলায় না।

কেন?

কারণ…

Mindset বদলেছে…

কিন্তু Action শুরু হয়নি।

আমার মনে হয়…

নজরুলও এই সত্যটাই জানতেন।

শুধু মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিলেই হবে না।

তারপর তাকে দাঁড়াতে হবে।

হাঁটতে হবে।

প্রয়োজনে…

লড়তেও হবে।

একবার সেই সময়টার কথা ভাবুন।

ভারত তখন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে।

চারদিকে ভয়।

চারদিকে নিষেধ।

চারদিকে এমন একটা পরিবেশ…

যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে প্রতিবাদ করতেই ভুলে যাচ্ছিল।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়টা কী জানেন?

অনেক সময় শিকল পায়ে পড়ে না…

শিকল পড়ে মনে।

আর মানুষ তখন নিজেই বিশ্বাস করতে শুরু করে…

“আমার দ্বারা কিছু হবে না।”

আমার মনে হয়…

নজরুল সেই অদৃশ্য শিকলটাই ভাঙতে চেয়েছিলেন।

তাই তিনি যেন বজ্রকণ্ঠে বলে উঠলেন—

আমি     দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল!
আমি     মানি নাকো কোনো আইন,


তিনি যেন বলছেন…“Enough is Enough.”

যে নিয়ম মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়…

যে আইন অন্যায়কে রক্ষা করে…

যে ক্ষমতা মানুষকে মাথা নত করতে বাধ্য করে…

তার সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকো না।

এই কারণেই এই অংশের ভাষা এত বিস্ফোরক।

এত অগ্নিগর্ভ।

এ যেন একজন মানুষের কণ্ঠ নয়…

এ যেন লক্ষ লক্ষ মানুষের জমে থাকা প্রতিবাদের বিস্ফোরণ।

আর একটা বিষয় আমার খুব ভালো লেগেছে।

এই অংশে নজরুল বারবার নিজেকে ঝড়…

সাইক্লোন…

প্রলয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন।

আমি     ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!

মহা-     প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি     মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
আমি দুর্ব্বার,
আমি     ভেঙে করি সব চুরমার!

প্রথমে পড়লে মনে হতে পারে…

এগুলো শুধু কবিতার অলংকার।

কিন্তু আমি যখন Psychology-র দৃষ্টিতে দেখলাম…

তখন মনে হল…

না।

এগুলো আসলে মানুষের মনের ভেতরে শক্তির একটা নতুন ছবি আঁকছে।

আজ আমরা যাকে বলি…

Mental Reframing।বাংলায় বললে…
নিজের চিন্তার দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলা।

আপনি নিজেকে দুর্বল হিসেবে দেখবেন…

নাকি শক্তিশালী হিসেবে দেখবেন…

সেটাই আপনার ভবিষ্যতের আচরণ নির্ধারণ করে।

আমার মনে হয়…

নজরুল প্রতিটি ভারতীয়ের মনের ভেতর সেই নতুন ছবিটাই আঁকতে চেয়েছিলেন।

তিনি যেন বলছেন—

“নিজেকে ছোট করে দেখা বন্ধ করো।”

“তোমার ভেতরে যে শক্তি ঘুমিয়ে আছে…”

“সেটাকে জাগিয়ে তোলো।”

তাই আমার কাছে…

“বিদ্রোহী”-র এই অংশ শুধু ধ্বংসের নয়।

এটি সাহসের ,এটি জেগে ওঠার কবিতা।

এটি নিজের ভেতরের ভয়কে হারানোর কবিতা।

কারণ…

যে মানুষ নিজের ভয়কে জয় করতে পারে…

তাকে হারানো খুব কঠিন।

আর যে জাতি নিজের ভয়কে জয় করতে পারে…

তার স্বাধীনতাকে…

বেশি দিন কেউ আটকে রাখতে পারে না।

2nd Stranza of Bidrohi Kobita

আমি     চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-     প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,

আমি     মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
আমি দুর্ব্বার,আমি     ভেঙে করি সব চুরমার!

আমি     অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি     দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল!

আমি     মানি নাকো কোনো আইন,
আমি     ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম,
ভাসমান মাইন!

আমি     ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি     বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর!

বল বীর —চির উন্নত মম শির!


বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…