মৌমাছি মৌমাছি
কোথা যাও নাচি নাচি
দাঁড়াও না একবার ভাই
ঐ ফুল ফোটে বনে
যাই মধু আহরণে
দাঁড়াবার সময় তো নাই।
এই কবিতার মতোই ছন্দে একদিন এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল—“তুই পাগলের মতো ফ্রিতে এত লেখা লিখিস কেন?
“তুই যে রোজ লিখিস,এত কথা বলিস,লাভটা বল তো কী হয়?
এত Content বানাস,Monetize কর!
YouTube-এ ভিডিও বানাস,
Instagram-এ Upload দিস,
Fame আর Money—
দুটোই তো পাবি!
Publisher-এর কাছে Send কর,
বই ছাপিয়ে বিক্রি কর,
ফ্রিতে লেখার মানেটা কী ভাই?
সত্যি বলতে, তখন আমিও জানতাম না—
আমি যা করছি, সেটা ঠিক করছি নাকি ভুল করছি।
আমি শুধু এতটুকুই জানতাম,
ভেতর থেকে একটা তাগিদ আমাকে লিখতে বলত।
তাই লিখতাম।
কেউ পড়ুক বা না পড়ুক,
কেউ প্রশংসা করুক বা সমালোচনা করুক,আমাকে লিখতে হবে।
তাই আমি লিখতাম।
আজ বহু বছর পর, অসংখ্য Trial & Error, Experiment আর Self-Discovery-এর পথ পেরিয়ে আমি অন্তত নিজের কাছে একটা উত্তর খুঁজে পেয়েছি।
তাই আজ আমার মনের কথাটা বলতে চাই। ❤️
প্রকৃতির একটা অদ্ভুত নিয়ম আছে।
Nature never creates duplicates.
প্রকৃতি Copy-Paste করে মানুষ তৈরি করে না।
প্রত্যেক মানুষকে আলাদা করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আলাদা শক্তি নিয়ে।
আলাদা সীমাবদ্ধতা নিয়ে।
আলাদা সম্ভাবনা নিয়ে।
প্রকৃতি কাউকেই অকারণে পৃথিবীতে পাঠায়নি।
প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো Unique Gift লুকিয়ে আছে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—
আমাদের অধিকাংশ মানুষই সারাজীবন অন্যের Gift খুঁজতে ব্যস্ত থাকে,
নিজের Gift খুঁজতে নয়।
কেউ অন্যের সাফল্য দেখে মুগ্ধ হয়।
কেউ অন্যের জীবন দেখে ঈর্ষা করে।
কেউ অন্যের পথ নকল করতে করতে
নিজের পথটাই ভুলে যায়।
আমিও হয়তো একসময় সেই ভুলটাই করতাম।
ভাবতাম—
যারা সফল, তাদের মতো হতে হবে।
যারা জনপ্রিয়, তাদের মতো কথা বলতে হবে।
যারা ভাইরাল, তাদের মতো Content বানাতে হবে।
কিন্তু যতই অন্যের মতো হওয়ার চেষ্টা করেছি,
ততই নিজের কাছ থেকে দূরে সরে গেছি।
তারপর একদিন বুঝলাম—
প্রকৃতি আমাকে আরেকজন মানুষ বানানোর জন্য তৈরি করেনি।
প্রকৃতি আমাকে “আমি” হওয়ার জন্য তৈরি করেছে। 🌱
আর সেই উপলব্ধিটাই সবকিছু বদলে দিল।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরে আমি আবিষ্কার করেছি—
হয়তো আমার শক্তি লেখায়।
হয়তো আমি ভাবনাকে শব্দে রূপ দিতে পারি।
হয়তো আমি এমন কিছু Content তৈরি করতে পারি,
যা একেবারে আমার নিজের।
আর যখন আমি নিজের ভেতর থেকে কিছু সৃষ্টি করি—
তখন আমি পাই এক অদ্ভুত আনন্দ।
এক গভীর সৃষ্টি-সুখ। 🌿✨কবির ভাষায়
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে–
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে
মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
সেই আনন্দটা টাকা পাওয়ার আনন্দ নয়।
প্রশংসা পাওয়ার আনন্দও নয়।
এটা অনেকটা সেই শিশুর মতো—
যে সমুদ্রের ধারে বসে বালুর ঘর বানায়। বিক্রি করার জন্য নয়।
সে ঘর বানায়—কারণ ঘর বানাতে তার ভালো লাগে। ❤️
আর হয়তো প্রকৃত শিল্পও ঠিক সেরকমই।
যেখানে সৃষ্টির আনন্দটাই সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
বাকি সবকিছু—
খ্যাতি,
অর্থ,
প্রশংসা,
স্বীকৃতি—
এসব শুধু Side Effect।
মূল বিষয় নয়।
কারণ যে মানুষ শুধু ফলের জন্য সৃষ্টি করে,
সে একদিন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
কিন্তু যে মানুষ সৃষ্টির মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পায়,
তার কাছে প্রতিটি দিনই নতুন।
প্রতিটি ভাবনাই নতুন।
প্রতিটি সৃষ্টি যেন আবার নতুন করে বেঁচে ওঠার সুযোগ। ✨
আর হয়তো এই কারণেই—
আজও আমি লিখি।
কারণ লেখা আমার কাছে কোনো Profession-এর আগে
একটা Passion।
কোনো Business Model-এর আগে
একটা Meditation।
কোনো Career-এর আগে
একটা Celebration of Life। ❤️
তাই যদি কখনো কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে—
“এত লিখিস কেন?”
আজ হয়তো আমি হাসিমুখে উত্তর দিতে পারব—
কারণ এটাই আমার স্বভাব।
Singer Swapan Basu বলেন “স্বভাব তো কখনো যাবে না“
যেমন ফুল ফোটে,
পাখি গান গায়,
নদী বয়ে চলে—
তেমনি আমি লিখি।
আর হয়তো এটাই আমার পৃথিবীতে আসার অন্যতম কারণ। 🌍✨
Thank you.
To be continue …
বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…