The Invisible String That Keeps Us Grounded


বন্ধুরা,

ছোটবেলায় একটা জিনিস দেখার জন্য আমি ছাদে উঠে দাঁড়িয়ে থাকতাম।

পাড়ায় কেউ ঘুড়ি ওড়ালেই…

আমি বই বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।

কী আশ্চর্য লাগত!

এক টুকরো কাগজ…

আকাশের বুক চিরে…

কত উঁচুতে উড়ে যাচ্ছে!

তখন মনে হতো…

ঘুড়িটা নিশ্চয়ই খুব স্বাধীন।

কিন্তু বড় হওয়ার পর বুঝলাম…

ঘুড়িটা স্বাধীন নয়।

সে যত উপরে ওঠে…

ততই সে একটা অদৃশ্য সুতোর ওপর নির্ভরশীল।

সেই সুতো ছিঁড়ে গেলেই…

যে ঘুড়িটা একটু আগে আকাশের রাজা ছিল,

সেই ঘুড়িটাই মুহূর্তের মধ্যে “ভোকাট্টা” হয়ে হারিয়ে যায়।


বন্ধুরা,

আজকাল যখন চারপাশে দেখি…

অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই আটকে রাখতে চান,

তখন আমার সেই ছোটবেলার ঘুড়ির কথাই মনে পড়ে।

তাঁরা মনে করেন—

রামায়ণ…

মহাভারত…

পুরাণ…

গীতা…

এসব শুধু পুরনো গল্প।

এগুলো পড়ে পরীক্ষায় নম্বর বাড়ে না।

চাকরির ইন্টারভিউতেও কেউ প্রশ্ন করে না।

তাই এসবের আর কী দরকার?

কিন্তু আমার মনে হয়…

আমরা হয়তো একটা খুব বড় ভুল করে ফেলছি।

আমরা সন্তানদের ডানা দিতে ব্যস্ত…

কিন্তু সুতোটা দিতে ভুলে যাচ্ছি।

কর্পোরেট লাইফে হোক…

ব্যবসায় হোক…

অথবা ব্যক্তিগত জীবনে…

আমাদের মন সবসময় আরও উপরে উঠতে চায়।

আরও সফল হতে চায়।

আরও বড় হতে চায়।

ঠিক সেই ঘুড়িটার মতো।

কিন্তু ঘুড়ি যেমন শুধু কাগজ আর বাঁশ দিয়ে উড়ে না…

তেমনি মানুষও শুধু ডিগ্রি আর দক্ষতা দিয়ে জীবনের আকাশে টিকে থাকতে পারে না।

ঘুড়ির লাটাই যেমন তাকে নিয়ন্ত্রণ করে,

ঠিক তেমনি আমাদের জীবনের লাটাই হলো—

আমাদের শিকড়।

আর সেই সুতো হলো—

আমাদের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সংস্কৃতি আর জীবনদর্শন।

রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ কিংবা গীতা…

আমাকে শুধু ধর্ম শেখায়নি।

শিখিয়েছে—

ক্ষমতা পেলে অহংকার না করতে,

ব্যর্থ হলে ভেঙে না পড়তে,

আর সাফল্যের মধ্যেও মানুষ হয়ে থাকতে।

যেদিন এই সুতো ছিঁড়ে যায়…

সেদিন মানুষ হয়তো অনেক উপরে ওঠে,

কিন্তু বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না।

শেষ পর্যন্ত…

সে ভোকাট্টা ঘুড়ির মতোই জীবনের ভিড়ে হারিয়ে যায়।

তাই আমি সবসময় বলি…

সন্তানকে শুধু ডানা দেবেন না…

তার হাতে এমন একটি সুতোও তুলে দিন,

যে সুতো তাকে যত উঁচুতেই নিয়ে যাক না কেন, নিজের শিকড়ের সঙ্গে চিরকাল যুক্ত রাখবে।

কারণ…

ডানা মানুষকে আকাশে তোলে।

কিন্তু শিকড়ই তাকে মানুষ করে।


Thank you

বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…