কলিযুগের তৃতীয় ও সবচেয়ে সূক্ষ্ম চিহ্ন
একদিন ভীম, অর্জুন, নকুল আর সহদেব—
চার ভাই একসঙ্গে এসে উপস্থিত হলেন শ্রীকৃষ্ণ–এর কাছে।
(সেই সময় ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।)
চার ভাইয়ের চোখে ছিল এক অদ্ভুত অস্থিরতা।
যেন তারা বুঝে গিয়েছিল—
যুদ্ধ শেষ হয়েছে ঠিকই,
কিন্তু সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ এখনো শুরু বাকি।
তারা প্রণাম করে বললেন—
“হে মাধব,
কলিযুগ দ্রুত এগিয়ে আসছে।
আমাদের বলুন—
সে যুগ কেমন হবে?”

শ্রীকৃষ্ণ মৃদু হেসে উঠলেন।
সে হাসিতে ছিল আশ্বাস,
আবার গভীর এক সতর্কবার্তাও।
তিনি বললেন—
“আমি শুধু তোমাদের কলিযুগের কথা বলব না।
আমি তোমাদের কলিযুগ দেখাবো।
কিন্তু তার আগে—
তোমাদের একটি কাজ করতে হবে।”
এই বলে শ্রীকৃষ্ণ চার দিকের দিকে
পরপর চারটি তীর নিক্ষেপ করলেন।
চারটি তীর ছুটে গেল চারদিকে—
চার দিক,
চার সময়,
চারটি ভিন্ন ভবিষ্যতের পথে।
তারপর শ্রীকৃষ্ণ বললেন—
“তোমরা চারজন চার দিক থেকে
একটি করে তীর এনে দাও।
আর যেখানে তীরটি পড়বে,
সেখানে যা কিছু অদ্ভুত, বিস্ময়কর
অথবা ভয়ংকর দৃশ্য দেখবে—
সবকিছু আমাকে এসে জানাবে।”
এই কথা শুনে
ভীম, অর্জুন, নকুল আর সহদেব
চারদিকে রওনা দিলেন—
সময়কে জানতে,
ভবিষ্যৎকে ছুঁতে,
আর কলিযুগকে চোখে দেখার জন্য।
🏹 তৃতীয় তীর — নকুল যা দেখলেন
নকুল তৃতীয় তীরটি কুড়িয়ে নিতেই
দেখলেন এক জায়গায় ভিড় জমে আছে।
কৌতূহল নিয়ে কাছে যেতেই
তিনি যে দৃশ্য দেখলেন,
তা ছিল শান্ত—
কিন্তু ভিতরে ভয়ংকর।
👉 একটি গাভী সদ্য বাছুর প্রসব করেছে।
👉 বাছুরটি ইতিমধ্যেই পরিষ্কার।
👉 তবু গাভী থামছে না।
সে বারবার,
জোরে জোরে
বাছুরটিকে চাটছে।
লোকজন প্রথমে ভাবল—
“মায়ের আদর।”
কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই
পরিস্থিতি বদলে গেল।
👉 বাছুরটির চামড়া লাল হয়ে গেল
👉 ক্ষত সৃষ্টি হলো
👉 রক্তপাত শুরু হলো
লোকজন আতঙ্কিত হয়ে
বাছুরটিকে আলাদা করার চেষ্টা করল।
কিন্তু ততক্ষণে
ক্ষতি হয়ে গেছে।
নকুল স্তম্ভিত।
তিনি ভাবলেন—
“যে প্রাণীটিকে আমরা
শান্তি আর পবিত্রতার প্রতীক বলি,
সে কীভাবে নিজের সন্তানের
এমন ক্ষতি করতে পারে?”
তিনি বুঝতে পারলেন—
ক্ষতিটা এসেছিল
হিংসা থেকে নয়।
এসেছিল
অতিরিক্ত আসক্তি থেকে।
নকুল তীর তুলে নিলেন।
মন ভারী হয়ে গেল।
এই দৃশ্য নিয়েই
তিনি ফিরে এলেন
শ্রীকৃষ্ণের কাছে।
শ্রীকৃষ্ণ চোখ বন্ধ করলেন।
এক মুহূর্ত—
গভীর নীরবতা।
তারপর ধীরে বললেন—
“এটাই কলিযুগের তৃতীয়
ও সবচেয়ে সূক্ষ্ম চিহ্ন।”
তিনি বললেন—
“কলিযুগে বাবা–মা
সন্তানকে ভীষণ ভালোবাসবে।
কিন্তু সেই ভালোবাসায়
সীমা থাকবে না।
প্রজ্ঞা থাকবে না।”
এটাই হবে কলিযুগের
সবচেয়ে মধুর বিষ।
ভালোবাসা এতটাই বেড়ে যাবে—
যে সেই ভালোবাসাই
ধ্বংস ডেকে আনবে।
তিনি আরও গম্ভীর হয়ে বললেন—
“মা নিজের সন্তানকে
এত ভালোবাসবে,
তাকে এত আঁকড়ে ধরবে—
যে সন্তান শ্বাস নিতে পারবে না।
তার নিজস্বতা হারাবে,
তার স্বপ্ন ভেঙে যাবে,
তার আত্মা আর
মুক্তির পথ খুঁজে পাবে না।”
ভালোবাসার নামে
সন্তানকে বাঁধা হবে,
আটকে রাখা হবে—
আর মা–বাবা বুঝতেই পারবেন না—
তারা আসলে
তাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করছেন।
তারা তাকে শেখাবে না—
👉 কীভাবে পড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়
👉 কীভাবে একা সিদ্ধান্ত নিতে হয়
👉 কীভাবে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়
তারা বলবে না সেই কথাটা—
“এগিয়ে যা।
আমি আছি।
কিন্তু লড়াইটা
তুই একাই লড়বি।”
ফলে গড়ে উঠবে এমন এক সন্তান—
👉 যার ডিগ্রি থাকবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত থাকবে না
👉 যার গাড়ি থাকবে, কিন্তু গন্তব্য থাকবে না
👉 যার মাথায় থাকবে দায়িত্বের বোঝা,
কিন্তু হৃদয়ে থাকবে শূন্যতা
তারপর কৃষ্ণ বললেন—
**“তুমি যেটা দেখেছো, নকুল,
সেটা শুধু একটা গাভী নয়।
ওটা কলিযুগের
প্রতিটা ঘরের প্রতিচ্ছবি—
যেখানে ভালোবাসা
একটা শৃঙ্খল হয়ে দাঁড়ায়।
আর সেই শৃঙ্খলে
বাঁধা পড়ে ভবিষ্যৎ।”**
তিনি শেষ করে বললেন—
“মায়ার নামে
ছায়া পড়বে
সন্তানের ভবিষ্যতের উপর।
আর সেই ছায়া কাটবে না,
যতক্ষণ না মা–বাবা
এই সত্যটা শিখবেন—
ভালোবাসা মানে
ধরা নয়।
ভালোবাসা মানে—
উড়তে দেওয়া।”
বন্ধুরা,
এটাই ছিল আজকের গল্পের
প্রথম শিক্ষা।
পরবর্তী অংশে
আমি শেয়ার করব
একটা বাস্তব ঘটনা—
যেটা আজও
আমার চোখে ভাসে।
যেখানে আমি নিজে দেখেছি—
ভালোবাসা কীভাবে
ধীরে ধীরে বিষ হয়ে ওঠে,
আর কীভাবে
একটা সন্তানের ডানা
নিঃশব্দে ছিঁড়ে যায়।
Part 2: বাস্তব জীবন — Real Life Example
যেখানে
শ্রীকৃষ্ণের ভবিষ্যদ্বাণী
এক নির্মম সত্য হয়ে
আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল।
বন্ধুরা…
আজ আমি তোমাদের সামনে
শুধু একটা গল্প শোনাতে আসিনি।
আমি এসেছি—
👉 একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে
👉 একটা উপলব্ধি নিয়ে
👉 আর একটা সতর্কবার্তা নিয়ে
আমি যখন প্রথম শুনেছিলাম
শ্রীকৃষ্ণের মুখে বলা
কলিযুগের ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প—
সত্যি বলছি,
আমি এটাকে একেবারেই
একটা mythology ভেবে উড়িয়ে দিয়েছিলাম।
“ধর্মীয় গল্প…
পুরনো কাহিনি…
শুনতে ভালো,
বাস্তবে কীই বা হবে!”
এই মনোভাবটাই ছিল।
আমি ভাবতাম—
“কৃষ্ণ তো অনেক কথা বলেছেন…
এইটাও তেমনই একটা গল্প।”
But wait…
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে
আমি বুঝলাম—
ওটা গল্প ছিল না।
ওটা ছিল
ভবিষ্যতের দর্পণ।
আর সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা হলো—
👉 আমরা আজ
সেই ভবিষ্যতের মধ্যেই বাস করছি।
OMG!
কৃষ্ণ যা বলেছিলেন—
তা তো আজ আমার চারপাশে
হুবহু ঘটে চলেছে!
এটা কোনো গল্প না।
এটা আজকের news headline।
এটা আজকের
ঘরের ভেতরের reality।
আমি নিজে দেখেছি।
আমি নিজে অনুভব করেছি।
একটা মায়ের ভালোবাসা—
যেটা ধীরে ধীরে,
নিঃশব্দে
তার ছেলেকে গিলে ফেলল।
একটা ছেলে—
👉 যার ছিল IQ
👉 ছিল talent
👉 ছিল skill
👉 চোখে ছিল স্বপ্ন
👉 কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস
একটা ঝলমলে ভবিষ্যৎ
শুধু অপেক্ষা করছিল—
একটু উড়ে যাওয়ার।
কিন্তু…
ছোটবেলা থেকেই
মা–বাবা তাকে আগলে রাখত।
“তুই তো এখনও ছোট।”
“মায়ের কথা শোন।”
মায়ের আঁচলের তলায়,
অতিরিক্ত স্নেহের
শীতল ছায়ায়—
সে বড় হতে থাকল।
কিন্তু ভিতরটা
ছোটই থেকে গেল।
যে ভালোবাসা
তাকে সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল,
একসময়
তার জন্য একটা খাঁচা হয়ে দাঁড়াল।
একটা অদৃশ্য দেওয়াল—
যেটা পার হওয়ার সাহস
সে কোনোদিন পেল না।
ধীরে ধীরে—
👉 চোখের স্বপ্ন ঝাপসা হয়ে গেল
👉 কণ্ঠ থেকে হারিয়ে গেল আত্মবিশ্বাস
👉 সে সম্পূর্ণভাবে dependent হয়ে পড়ল
আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার?
সে নিজেই ভুলে গেল—
“আমিও পারি…
আমিও কিছু করতে পারি…”
এটা কি শুধু সেই ছেলেটার গল্প?
নাকি আমাদের চারপাশে
হাজারো ছেলের গল্প?
👉 আপনার ছেলে?
👉 আপনার ছাত্র?
👉 না হয়…
👉 আপনি নিজেই?
ভালোবাসা দরকার।
অবশ্যই দরকার।
কিন্তু—
সঠিক মাত্রায়।
কারণ—
যেখানে ভালোবাসা
সীমা ছাড়ায়,
সেখানে সেটা আর ভালোবাসা থাকে না—
সেটা হয়ে যায় মোহ।
আর মোহ—
👉 ভবিষ্যৎ তৈরি করে না
👉 চরিত্র গড়ে না
👉 ডানা মেলে না
মোহ
শুধু ধ্বংস ডেকে আনে।
বন্ধুরা,
এই গল্পটা শুধু শোনার জন্য নয়।
এটা জেগে ওঠার ডাক।
একটা সতর্ক সংকেত—
যেন ভালোবাসার নাম করে
আমরা আমাদের প্রিয়জনদের
অজান্তেই দুর্বল করে না ফেলি।
মনে রাখবেন—
ভালোবাসা মানে
আঁকড়ে ধরা নয়।
ভালোবাসা মানে—
উড়ে যাওয়ার সাহস দেওয়া।
The End.