Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Hirak Rani -Part3

বন্ধুরা… কথা দিয়েছিলাম… আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে। 💫

আজ সেই প্রতীক্ষিত ৩য় অধ্যায় নিয়ে আমি আবার হাজির…

গত পর্বে আমরা জেনেছিলাম—

Libido হলো Raw শক্তি-Raw Energy.

এটি নিজে ভালো নয়।

খারাপও নয়।

এটি শুধুই শক্তি।

প্রশ্ন হলো—

সেই শক্তির মালিক কে?

মানুষ?

নাকি মানুষের অহংকার?

আর ঠিক এখানেই শুরু হয় আজকের আলোচনা।

🌿 আমরা কি শুধুই পশু?

প্রশ্নটা শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে।

কিন্তু একবার গভীরভাবে ভেবে দেখুন।

আমরা মানুষ।

কিন্তু আমরা প্রকৃতির বাইরে নই।

আমাদের শরীর,

আমাদের মস্তিষ্ক,

আমাদের স্নায়ুতন্ত্র—

সবই লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফল।

ক্ষুধা,

ভয়,

রাগ,

কামনা,

ক্ষমতা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা,

অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছা—

এসব আমাদের মধ্যেও আছে।

ঠিক যেমনটা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও আছে।

তাহলে পার্থক্য কোথায়?

পার্থক্য একটাই।

পশু তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে।

মানুষ তার প্রবৃত্তিকে প্রশ্ন করতে পারে।

Animals are governed by their instincts, whereas humans have the ability to reason and choose.

পশু তার তাড়নার দাস।

মানুষ তার তাড়নার পরিচালক হতে পারে।

এবং এখানেই হীরক রাজা ও মহান নেতার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

কারণ দুজনের মধ্যেই Libido থাকে।

দুজনের মধ্যেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে।

দুজনের মধ্যেই ক্ষমতা অর্জনের ইচ্ছা থাকে।

কিন্তু একজন তার শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

আর অন্যজন সেই শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।


একটি ছোট্ট উদাহরণ দিই।

ভাবুন—

একই পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছিলেন দুই ধরনের অসাধারণ মানুষ।

একদিকে ছিলেন Michael Jackson, Diego Maradona, Shane Warne।

অন্যদিকে ছিলেন Sachin Tendulkar, Rahul Dravid এবং Viswanathan Anand।

একটি বিষয় লক্ষ্য করুন।

প্রতিভা?

সবারই ছিল।

খ্যাতি?

সবারই ছিল।

সাফল্য?

সবারই ছিল।

Libido?

অর্থাৎ সৃষ্টির, অর্জনের, জয়ের এবং স্বীকৃতি পাওয়ার তীব্র শক্তি?

সেটিও সবার মধ্যেই ছিল।

কারণ দুর্বল Libido দিয়ে পৃথিবীর শীর্ষে পৌঁছানো যায় না।

কিন্তু পার্থক্যটা কোথায়?

পার্থক্য ছিল সেই শক্তিকে পরিচালনা করার ক্ষমতায়।

কেউ সেই শক্তির কিছু অংশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

আবার কেউ সেই একই শক্তিকে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং উৎকর্ষের পথে পরিচালিত করেছিলেন।

অর্থাৎ—

Libido সবার মধ্যেই ছিল।

কিন্তু Sublimation সবার সমান ছিল না।

এবং ঠিক এখানেই হীরক রাজা ও মহান নেতার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

কারণ সমস্যা শক্তিতে নয়।

সমস্যা শক্তির দিকনির্দেশে।

একই আগুন একটি ঘর আলোকিত করতে পারে।

আবার একই আগুন একটি প্রাসাদ পুড়িয়েও দিতে পারে।

একই Libido একজন মানুষকে কিংবদন্তি বানাতে পারে।

আবার একই Libido তাকে নিজের অহংকারের বন্দিও বানিয়ে ফেলতে পারে।


এবার হয়তো আপনাদের অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

যদি Libido এত শক্তিশালী হয়…

যদি ক্ষমতা, খ্যাতি, প্রভাব এবং স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানব প্রকৃতিরই অংশ হয়…

তাহলে একজন মানুষ কীভাবে বুঝবে—

সে একজন মহান নেতা হওয়ার পথে এগোচ্ছে,

নাকি ধীরে ধীরে হীরক রাজায় পরিণত হচ্ছে?

উত্তরটা আশ্চর্যজনকভাবে সহজ।

আপনার চারপাশের মানুষদের দিকে তাকান।

কারণ কোনো মানুষ নিজের পরিবর্তন প্রথমে বুঝতে পারে না।

কিন্তু তার চারপাশের পরিবেশ সেই পরিবর্তনের আয়না হয়ে ওঠে।

যখন একজন মানুষ সঠিক পথে এগোয়,

তখন তার আশেপাশে এমন মানুষ থাকে যারা তাকে প্রশ্ন করে।

ভুল ধরিয়ে দেয়।

অসম্মতি জানায়।

প্রয়োজন হলে “না” বলতে পারে।

আর যখন একজন মানুষ হীরক রাজায় পরিণত হতে শুরু করে,

তখন তার চারপাশ থেকে এই মানুষগুলো একে একে হারিয়ে যেতে থাকে।

তাদের জায়গা দখল করে নেয় তোষামোদকারীরা।

চাটুকাররা।

সুবিধাবাদীরা।

যারা সত্য বলে না।

যা শুনতে ভালো লাগে, শুধু সেটাই বলে।

কারণ সত্য অনেক সময় অস্বস্তিকর।

কিন্তু তোষামোদ সবসময় আরামদায়ক।

আর এখানেই মানুষের মস্তিষ্কের আরেকটি দুর্বলতা কাজ করতে শুরু করে।

আমরা সবাই স্বাভাবিকভাবেই সেই তথ্য শুনতে পছন্দ করি,

যা আমাদের বিশ্বাসকে সমর্থন করে।

মনোবিজ্ঞানে একে বলে—

Confirmation Bias.

অর্থাৎ আমরা সত্যের চেয়ে এমন তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দিই,

যা আমাদের আগে থেকেই বিশ্বাস করা ধারণাকে শক্তিশালী করে।

হীরক রাজার চারপাশে থাকা Echo Chamber ঠিক এই Bias-টাকেই খাওয়ায়।

প্রতিদিন।

প্রতিক্ষণ।

বছরের পর বছর।

ফলে ধীরে ধীরে তিনি বাস্তবতাকে নয়,

নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া একটি গল্পকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন।

একটি গল্প—

যেখানে তিনি কখনও ভুল করেন না।

যেখানে তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক।

যেখানে তার প্রতিটি সমালোচক শত্রু।

যেখানে প্রতিটি প্রশ্ন ষড়যন্ত্র।

এবং সেখানেই শুরু হয় সবচেয়ে বড় বিপদ।

কারণ একজন মানুষ যখন নিজের ভুল থেকে শেখা বন্ধ করে দেয়,

তখন তার উন্নতি থেমে যায়।

আর যখন একটি শাসক, একটি প্রতিষ্ঠান অথবা একটি সমাজ নিজের ভুল স্বীকার করা বন্ধ করে দেয়,

তখন তার পতন শুরু হয়।

ইতিহাসের দিকে তাকালেই আমরা একটি অদ্ভুত মিল দেখতে পাই।

যে সব মহান নেতা ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী সম্মান পেয়েছেন,

তারা নিজেদের চারপাশে শুধু প্রশংসাকারী মানুষ রাখেননি।

তারা এমন মানুষও রেখেছিলেন,

যারা তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার সাহস রাখতেন।

কারণ তারা জানতেন—

সমালোচনা শত্রু নয়।

অন্ধ প্রশংসাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় শত্রু।

আর হীরক রাজা?

তিনি ঠিক উল্টোটা বিশ্বাস করেন।

তিনি ভাবেন—

প্রশংসা মানেই ভালোবাসা।

আনুগত্য মানেই সত্য।

আর নীরবতা মানেই সমর্থন।

এবং ঠিক সেই ভুল বোঝাবুঝির মধ্যেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় পতনের বীজ।

কারণ ইতিহাসে কোনো সাম্রাজ্য,

কোনো নেতা,

কোনো হীরক রাজা—

বাইরের আক্রমণে যতটা ভেঙে পড়েননি,

তার চেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন নিজের তৈরি ভ্রমের জগতে বন্দি হয়ে।

আর সেই কারণেই,

একজন মহান নেতা এবং একজন হীরক রাজার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য ক্ষমতায় নয়—

পার্থক্য সত্য শোনার ক্ষমতায়।


এবার আমরা পৌঁছে গেছি এই পুরো আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে।

কারণ এখন প্রশ্ন হলো—

কেন কিছু মানুষ ক্ষমতা পেলে আরও পরিণত হয়ে ওঠেন,

আর কিছু মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের অপরিহার্য, অপরাজেয়, এমনকি অর্ধ-ঈশ্বর বলে ভাবতে শুরু করেন?

এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের বুঝতে হবে মানুষের মস্তিষ্কের একটি শক্তিশালী পুরস্কার ব্যবস্থা—

Dopamine Reward System.

সহজ ভাষায় বললে,

ডোপামিন হলো সেই রাসায়নিক বার্তাবাহক যা আমাদের মস্তিষ্ককে বলে—

“এটা ভালো লাগছে।”

“এটা আবার করো।”

“আরও চাই।”

প্রথমে মানুষ সাফল্যের স্বাদ পায়।

ভালো লাগে।

তারপর আরও বড় সাফল্য চায়।

তারপর আরও ক্ষমতা চায়।

তারপর আরও প্রশংসা চায়।

তারপর আরও নিয়ন্ত্রণ চায়।

এবং ধীরে ধীরে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হয়।

কারণ মানুষের মস্তিষ্ক খুব দ্রুত নতুন বাস্তবতার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

যেটা একসময় বিশেষ ছিল,

একসময় সেটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।

একজন সাধারণ মানুষ যখন প্রথমবার সম্মান পায়,

সে কৃতজ্ঞ হয়।

কিন্তু যদি বছরের পর বছর সবাই তাকে সম্মান করতে থাকে,

একসময় সে সম্মানকে অধিকার বলে ভাবতে শুরু করে।

প্রথমে প্রশংসা ভালো লাগে।

পরে প্রশংসা প্রয়োজন হয়ে যায়।

আর শেষে প্রশংসা আসক্তিতে পরিণত হয়।

এবং এখানেই Narcissism-এর বীজ জন্ম নিতে শুরু করে।

Narcissism মানে শুধু অহংকার নয়।

Narcissism হলো নিজের সম্পর্কে একটি অতিরঞ্জিত গল্পে বিশ্বাস করা।

একটি গল্প যেখানে—

আমি সবসময় ঠিক।

আমি বিশেষ।

আমার মতো আর কেউ নেই।

আমাকে ছাড়া কিছুই চলবে না।

শুনতে পরিচিত লাগছে?

ঠিক এভাবেই হীরক রাজ্যের জন্ম হয়।

মজার বিষয় হলো—

Narcissist মানুষরা প্রথমদিকে অনেক সময় অত্যন্ত আকর্ষণীয় হন।

আত্মবিশ্বাসী।

দৃঢ়চেতা।

ক্যারিশম্যাটিক।

মানুষ তাদের অনুসরণ করতে ভালোবাসে।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন,

যখন আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে আত্মমুগ্ধতায় পরিণত হয়।

Leadership ধীরে ধীরে Personality Cult-এ পরিণত হয়।

এবং প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে একজন মানুষের ছায়ায় হারিয়ে যেতে শুরু করে।

তখন মানুষ আর নীতি অনুসরণ করে না।

ব্যক্তিকে অনুসরণ করে।

সত্যকে অনুসরণ করে না।

ব্যক্তিপূজাকে অনুসরণ করে।

এবং এখানেই গণতন্ত্রের জায়গায় ধীরে ধীরে হীরক রাজ্যের মানসিকতা জন্ম নিতে শুরু করে।

কারণ একটি সুস্থ সমাজে মানুষ বলে—

“কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

আর হীরক রাজ্যের সমাজে মানুষ বলতে শুরু করে—

“তিনি আলাদা।”

“তার ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা।”

“তাকে প্রশ্ন করা যায় না।”

আর এই “আলাদা” শব্দটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

কারণ ইতিহাসে প্রতিটি পতনের শুরু হয়েছে সেই মুহূর্তে,

যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন—

তিনি আর সাধারণ নন।

তিনি ব্যতিক্রম।

তিনি নিয়মের বাইরে।

কিন্তু ইতিহাসের একটি নির্মম সৌন্দর্য আছে।

ইতিহাস কখনও কাউকে স্থায়ী ছাড় দেয় না।

ইতিহাস ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে।

অহংকারকে বড় হতে দেয়।

ভ্রমকে গভীর হতে দেয়।

ক্ষমতাকে চূড়ায় উঠতে দেয়।

তারপর একদিন বাস্তবতা এসে দরজায় কড়া নাড়ে।

এবং সেই দিন মানুষ বুঝতে পারে—

সে কখনও সর্বেসর্বা ছিল না।

সে কখনও ইতিহাসের চেয়ে বড় ছিল না।

সে কখনও সত্যের চেয়ে বড় ছিল না।

আর তখনই শুরু হয় পতনের শেষ অধ্যায়।

কারণ শেষ পর্যন্ত,

ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে না।

ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত অহংকার মানুষকে অন্ধ করে।

আর সেই অন্ধত্বের নামই—

হীরক রাজার মানসিকতা।


To be continue …


বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…