কর্পোরেট পুরাণ বই লেখার পেছনের গল্প


প্রতিটি বইয়ের জন্মের পেছনে একটি গল্প থাকে।

কখনও সেই গল্প একটি প্রশ্ন থেকে শুরু হয়।

কখনও একটি অভিজ্ঞতা থেকে।

আর কখনও একটি ছোট্ট উপলব্ধি থেকে, যা ধীরে ধীরে একটি বড় ধারণায় পরিণত হয়।

কর্পোরেট পুরাণের জন্মও তেমনই একটি উপলব্ধি থেকে।

সালটা ২০১৭।

আমি একটি Leadership Training Program-এ অংশগ্রহণ করছিলাম।

সেশনটি ছিল অত্যন্ত engaging, insightful এবং thought-provoking।

Trainer একের পর এক corporate framework, management theory, leadership model এবং real-life business case study-এর মাধ্যমে বোঝাচ্ছিলেন—কীভাবে brainstorming মানুষের creativity, innovation এবং decision making-কে প্রভাবিত করে।

আমি মনোযোগ দিয়ে সব শুনছিলাম।

শুধু আমি নই, উপস্থিত সবাই বিষয়টি বুঝছিল।

কিন্তু কিছু একটা যেন অনুপস্থিত ছিল।

Concept ছিল।

Logic ছিল।

Theory ছিল।

কিন্তু অনুভূতি ছিল না।

জ্ঞান ছিল।

কিন্তু সংযোগ ছিল না।

সবকিছু মাথায় প্রবেশ করছিল, কিন্তু হৃদয়ে পৌঁছাচ্ছিল না।

হঠাৎ আমার মনে একটি চিন্তা এল।

আমি brainstorming-এর পুরো concept-টিকে “সমুদ্র মন্থন”-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শুরু করলাম।

একদিকে দেবতা।

অন্যদিকে অসুর।

মাঝখানে বিশাল সমুদ্র।

একটি অভিন্ন লক্ষ্য।

একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

অনিশ্চয়তা, সংঘাত, ধৈর্য, ব্যর্থতা এবং শেষ পর্যন্ত নতুন সম্ভাবনার আবির্ভাব।

আমি উপলব্ধি করলাম—এ তো এক অসাধারণ brainstorming process-এর প্রতীক!

আর ঠিক তখনই যেন আমার ভিতরে একটি আলো জ্বলে উঠল।

সেই মুহূর্তে আমি একটি গভীর সত্য বুঝতে পারলাম।

আমরা ভারতীয়রা অনেক সময় জটিল তত্ত্বের চেয়ে গল্পের মাধ্যমে বেশি গভীরভাবে শিখি।

কারণ গল্প শুধু তথ্য দেয় না।

গল্প অনুভূতি তৈরি করে।

গল্প স্মৃতি তৈরি করে।

গল্প মানুষের মনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।

বিশেষ করে সেই গল্পগুলো, যেগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের সংস্কৃতি, পরিবার এবং সমাজের অংশ হয়ে আছে।

সমুদ্র মন্থন আমাদের কাছে কেবল একটি পৌরাণিক ঘটনা নয়।

এটি একটি জীবন্ত প্রতীক।

যখন brainstorming-এর ধারণাকে সমুদ্র মন্থনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন একটি জটিল corporate concept হঠাৎ করেই সহজ, পরিচিত এবং স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

মানুষ শুধু বুঝতে পারে না—

অনুভবও করতে পারে।

সেদিনের সেই অভিজ্ঞতা আমার চিন্তার জগতে একটি নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল।

আমি ভাবতে শুরু করলাম—

যদি সমুদ্র মন্থন brainstorming-কে ব্যাখ্যা করতে পারে,

তাহলে মহাভারত কি leadership-কে ব্যাখ্যা করতে পারে না?

রামায়ণ কি character building-এর শিক্ষা দিতে পারে না?

ভগবান শিবের নীলকণ্ঠ রূপ কি emotional resilience-এর প্রতীক হতে পারে না?

গণেশ কি strategic thinking এবং listening skill-এর প্রতীক হতে পারেন না?

হনুমান কি limitless potential এবং self-belief-এর প্রতীক নন?

তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—

আমাদের প্রাচীন পুরাণ কেবল ধর্মীয় কাহিনির ভাণ্ডার নয়।

এটি মানুষের মন, আচরণ, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পর্ক, সংকট মোকাবিলা এবং আত্মবিকাশ সম্পর্কে হাজার বছরের সঞ্চিত জ্ঞানের ভাণ্ডার।

দুঃখের বিষয় হলো, আমরা আধুনিক শিক্ষায় অনেক কিছু শিখি, কিন্তু নিজেদের সাংস্কৃতিক জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে সংযোগ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি।

আমরা পশ্চিমা management theory পড়ি।

International business case study পড়ি।

বিশ্বের নানা চিন্তাবিদকে জানি।

কিন্তু অনেক সময় নিজেদের ঐতিহ্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জ্ঞানের গভীরতাকে নতুন চোখে দেখার চেষ্টা করি না।

সেই উপলব্ধি থেকেই Corporate Puran-এর ধারণার জন্ম।

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, প্রাচীন ভারতীয় পুরাণকে শুধুমাত্র mythology হিসেবে নয়, বরং modern life, corporate world, leadership, entrepreneurship, self-development এবং human psychology-এর আলোকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।

তারপর শুরু হলো দীর্ঘ এক যাত্রা।

অসংখ্য বই পড়া।

বিভিন্ন পুরাণ, মহাকাব্য এবং শাস্ত্র অধ্যয়ন।

Management, Psychology, Leadership এবং Personal Growth-এর ধারণাগুলোর সঙ্গে তাদের মিল খোঁজা।

একটি গল্প।

একটি প্রতীক।

একটি শিক্ষা।

তারপর আরেকটি।

ধীরে ধীরে এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় তৈরি হতে শুরু করল।

আর এভাবেই জন্ম নিল Corporate Puran

এই বই কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নয়।

আবার শুধুমাত্র Corporate Leadership-এর বইও নয়।

এটি দুই জগতের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন।

একদিকে প্রাচীন ভারতীয় প্রজ্ঞা।

অন্যদিকে আধুনিক জীবনের বাস্তবতা।

এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় একটি আমন্ত্রণ—

পুরাণকে নতুন চোখে দেখার আমন্ত্রণ।

নিজের জীবনকে নতুনভাবে বোঝার আমন্ত্রণ।

এবং সেই চিরন্তন সত্যকে আবিষ্কার করার আমন্ত্রণ, যা যুগ বদলালেও বদলায় না।

আজ আমি বিশ্বাস করি—

সমুদ্র মন্থন শুধু ক্ষীরসাগরে ঘটেনি।

আজও ঘটছে।

প্রতিটি অফিসে।

প্রতিটি ব্যবসায়।

প্রতিটি পরিবারে।

এবং সবচেয়ে বেশি—

প্রতিটি মানুষের অন্তর্জগতে।

আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই দেবতা আছে।

অসুরও আছে।

আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই বিষ আছে।

অমৃতও আছে।

জীবনের প্রকৃত যাত্রা হলো সেই অন্তর্গত সমুদ্র মন্থনের মধ্য দিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠ সত্তাকে আবিষ্কার করা।

যদি এই বই সেই যাত্রায় আপনার একজন সহযাত্রী হতে পারে, তাহলেই এর উদ্দেশ্য সফল।

স্বাগতম Corporate Puran-এর জগতে।

একটি প্রাচীন গল্পের জগতে—

যা আসলে আমাদের সবার বর্তমান জীবনের গল্প।


Thank you…
See you in our first episode… 🚀