লেখক পরিচিতি

অমিত বিশ্বাস একজন Metallurgical Engineer, Management Professional, Corporate Leader, লেখক এবং আজীবন জ্ঞান-অনুসন্ধানী।

তিনি ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শিবপুর (বর্তমানে Indian Institute of Engineering Science and Technology, Shibpur) থেকে Engineering ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং Marketing-এ MBA সম্পন্ন করেছেন।

Sales, Marketing, Business Development, Leadership এবং International Trade ক্ষেত্রে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি একটি সমৃদ্ধ Corporate Career গড়ে তুলেছেন। তাঁর পেশাগত যাত্রা কলকাতা থেকে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু থেকে আহমেদাবাদ, রোহতক থেকে নাগপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি Head of Exports হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ, Global Customers-এর সঙ্গে কাজ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে মেলামেশার অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের চিন্তাভাবনা, আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং সাফল্যের প্রকৃত সূত্রকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিয়েছে।

তবে Corporate পরিচয়ের বাইরেও তাঁর আরেকটি পরিচয় রয়েছে।

তিনি একজন Lifelong Learner, Knowledge Explorer, Storyteller এবং Connecting the Dots-এর অনুশীলনকারী।

ইতিহাস, পুরাণ, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, নেতৃত্ব, ব্যবসা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং মানবসম্ভাবনার রহস্য অনুসন্ধান তাঁর অন্যতম আগ্রহের ক্ষেত্র।

তাঁর বিশ্বাস, পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ অর্থ নয়।

সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো—

শেখার ক্ষমতা।

চিন্তা করার ক্ষমতা।

এবং বিচ্ছিন্ন জ্ঞানকে একত্রিত করে প্রজ্ঞায় রূপান্তর করার ক্ষমতা।

তিনি মনে করেন, যুগে যুগে যে মানুষরা পৃথিবীকে বদলে দিয়েছেন—তাঁরা শুধু বেশি জ্ঞানী ছিলেন না; তাঁরা অন্যদের চেয়ে ভালোভাবে Pattern দেখতে পারতেন, ভালো প্রশ্ন করতে পারতেন এবং জীবনের বিচ্ছিন্ন Dot-গুলিকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারতেন।

“From Rathi to Maharathi – The Journey from Ordinary to Legendary” বইটি সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

এই গ্রন্থে তিনি প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান, মহাভারতের মহারথীদের শিক্ষা, আধুনিক কর্পোরেট অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, ব্যবসা, প্রযুক্তি, AI যুগের বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের বিভিন্ন ধারণাকে এক সুতোয় গেঁথে একটি বাস্তবমুখী আত্মরূপান্তরের কাঠামো উপস্থাপন করেছেন।

তাঁর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অনুপ্রেরণা দেওয়া নয়।

বরং এমন একটি চিন্তাধারা উপস্থাপন করা, যা পাঠককে নিজের জীবনের দিকে নতুনভাবে তাকাতে সাহায্য করবে।

তিনি বিশ্বাস করেন—

প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অসাধারণ সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।

পার্থক্য শুধু একটাই—

কেউ সেই সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলে।

আর কেউ তা অজানাই রেখে দেয়।

এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি পাঠকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চেয়েছেন—

আপনি কি সারা জীবন একজন রথী হয়েই থাকতে চান?

নাকি ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলে একজন মহারথীতে পরিণত হতে চান?

তাঁর আশা, এই বই পাঠকদের শুধু নতুন কিছু শেখাবে না, বরং নতুনভাবে চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে, পর্যবেক্ষণ করতে এবং নিজের জীবনের Dot-গুলিকে সংযুক্ত করতে অনুপ্রাণিত করবে।

কারণ শেষ পর্যন্ত—

মহারথীরা জন্মায় না।

মহারথীরা তৈরি হয়।

একটি শিক্ষা থেকে।

একটি অভিজ্ঞতা থেকে।

একটি সিদ্ধান্ত থেকে।

একটি Dot থেকে।

তারপর আরেকটি Dot থেকে।

আর সেই আজীবন শিক্ষাযাত্রার এক বিনম্র সহযাত্রী—

অমিত বিশ্বাস