Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Can an Engineer Become a Writer?

একজন ইঞ্জিনিয়ার কি লেখক হতে পারে? or কবি?


এই প্রশ্নটার সামনে আমি নিজেও একদিন দাঁড়িয়ে ছিলাম।
অনেকে সরাসরি কিছু বলেনি, কিন্তু চোখে-মুখে একটা অদ্ভুত সন্দেহ ভাসত—
ইঞ্জিনিয়ার আবার লিখবে? সে হবে কবি?

অসম্ভব।


আসলে এই ভাবনাটা আমাদের মাথায় হঠাৎ করে আসে না।
এটা খুব পরিকল্পিতভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়—খুব ছোটবেলা থেকেই।

দশম শ্রেণির পরেই আমাদের ভাগ করে দেওয়া হয়—
Science আর Arts
দু’টো আলাদা পৃথিবী।
দু’টো আলাদা পরিচয়।

Science মানেই অঙ্ক, ফিজিক্স, ফর্মুলা, Logic।
Arts মানেই সাহিত্য, কল্পনা, অনুভূতি, ভাষা।

এই ভাগাভাগির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনের ভেতর বসে যায় কিছু অদৃশ্য লেবেল—

Science-এর ছাত্ররা নাকি সংবেদনশীল নয়,লেখালেখিতে আগ্রহী হয় না,
আর আগ্রহ থাকলেও তা প্রকাশ করার সাহস পায় না।

এতবার এই কথাগুলো শুনতে শুনতে
একসময় আমরাই বিশ্বাস করে ফেলি—
হয়তো সত্যিই এটা আমাদের জায়গা নয়।


কিন্তু আমার এই ভুল ধারণায় প্রথম ফাটল ধরে ২০০১ সালে,
যেদিন আমি ভর্তি হই বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শিবপুরে
—যাকে আজ সবাই IIEST, Shibpur নামে চেনে।

শিবপুরে পা রাখার পর আমি কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই,
যারা আমার এতদিনের ধারণাকে ভেঙে দিতে শুরু করে।

তারা ছিল অদ্ভুত—
এই অর্থে নয় যে তারা আলাদা,
বরং এই অর্থে যে
তারা একই সঙ্গে একাধিক জগতে স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকতে পারত।

পড়াশোনায় ছিল ভীষণ সিরিয়াস,
কিন্তু মাঠে নামলে ফুটবল-ক্রিকেটে দুরন্ত।

ক্লাসের বেঞ্চে বসে Math,concept, আর Mechanics,
আর সন্ধ্যেবেলা গান, নাচ, আবৃত্তি, নাটক।

কেউ ছবি আঁকে,
কেউ কবিতা লেখে—
আর সেটা শুধু শখ নয়,
মানের দিক থেকেও তাক লাগিয়ে দেয়।


তখনই প্রথমবার আমার মনে প্রশ্ন জাগে—
সমস্যাটা কি বিষয়ের?
নাকি আমাদের বানিয়ে দেওয়া ধারণার?

সেই প্রশ্নটাই ধীরে ধীরে আমার ইঞ্জিনিয়ারিং আর লেখালেখির মাঝের দেওয়ালে
একটার পর একটা জানালা খুলে দিয়েছিল।

BE কলেজে এসে আমি পেয়েছিলাম কিছু গুরু—
যাঁরা আমাকে ভাবতে শিখিয়েছিলেন।

তাঁদের সঙ্গে মেলামেশার মধ্যেই
আমি প্রথম উপলব্ধি করি—
আমাদের সবার ভেতরেই অসংখ্য লুকোনো প্রতিভা আছে,
যেগুলোকে বিকশিত করতে হলে
নিজেরই পরিশ্রম আর initiative দরকার।

ওঁদের উৎসাহেই
আমি প্রথমবার কবিতা লিখতে শুরু করি,
রিমেক বানানোর চেষ্টাও তখনই শুরু।

সত্যি বলতে কী—
তখনও আমি নিজেকে কবি ভাবতাম না।
লেখাকে দেখতাম
একটা কাজ,
একটা প্রজেক্ট,
নিজের জন্য সামান্য বিনোদন,or full creative entertainment by own—
তারপর সেই আনন্দটা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।

কিন্তু ধীরে ধীরে
এই লেখাগুলোই হয়ে উঠল Hot cake,খোরাক & Public demand।

সেদিনই প্রথম টের পেলাম—
ভাষা,শব্দেরও এক অদ্ভুত ক্ষমতা/Power আছে।
ঠিক জায়গায় পড়লে
তা মানুষের ভেতরে
কিছু একটা নাড়া দিয়ে যেতে পারে।

সেই যে লেখা শুরু করলাম—
তারপর থেকে আর থামিনি।

একটা ভাবনা থেকে আরেকটা ভাবনা,

লেখা নিজে থেকেই এগোতে থাকল।


Now আরেকটা ভিন্ন কোণ থেকে ভাবি—

একবার ভাবুন তো—
একজন engineer যখন একটি bridge design করেন, তখন তিনি কী করেন?

তিনি আগে ভাবেন—
bridge টা কোথায় হবে?
কে কে চলবে?
কতটা load সহ্য করতে হবে?
environment কেমন? future এ pressure বাড়বে কি না?

তারপর তিনি structure বানান—
কোথায় pillar বসবে,
কোন material ব্যবহার হবে,
কোন অংশে কতটা strength দরকার।

সবশেষে তিনি ensure করেন—
bridge টা যেন শুধু দাঁড়িয়ে না থাকে,
বরং safe হয়, durable হয়,
এবং মানুষের কাজে সত্যিই লাগে।


এখন লেখালেখির দিকে তাকাই।

একজন লেখক—ধরা যাক আমি—যখন একটি article লিখতে বসি,

তখনও প্রথম প্রশ্নটা একদম একই থাকে—

পাঠক কে?
Who is my target audience?

সে কী চাইছে?
সে ঠিক কোন জায়গায় এসে confused হয়ে যাচ্ছে?
তার মাথার ভেতরে কোন question টা ঘুরছে, যেটা সে হয়তো নিজেও স্পষ্ট করে বলতে পারছে না?

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ question টা হলো—
কোন কথাটা আগে বললে সে লেখা ছাড়বে না?

কারণ লেখালেখি আসলে নিজের জ্ঞান দেখানোর competition নয়।
এটা হলো পাঠকের সঙ্গে একটা নীরব conversation

যদি প্রথম কয়েকটা line এ পাঠক নিজেকে খুঁজে পায়,
তার নিজের question গুলোকে দেখতে পায়—
তাহলে সে পড়ে।
না হলে, যত বড় word ই ব্যবহার করুন না কেন,
সে চলে যায়।

ভালো লেখা তাই আগে smart হতে চায় না,
আগে relatable হতে চায়।


তারপর লেখাটার structure তৈরি হয়—
শুরুতে কী থাকবে,
মাঝখানে কোন logic গুলো আসবে,
শেষে কীভাবে বিষয়টা close করা হবে।

এরপর আসে শব্দ বাছাই
কোথায় সহজ শব্দ,
কোথায় একটু গভীর,
কোথায় example দরকার,
কোথায় থামতে হবে।

সবশেষে এখানেও সেই একই শব্দ—
ensure
নিশ্চিত করা—
পাঠক বুঝবে,
মনে রাখবে,
আর প্রয়োজনে কাজে লাগাবে।

দেখুন—
process কিন্তু একেবারেই এক।
শুধু material আলাদা।

ইঞ্জিনিয়ার কাজ করেন
ইট, পাথর, লোহা আর কংক্রিট নিয়ে।

লেখক কাজ করেন
word, sentence আর idea নিয়ে।

আরেকটা জিনিস লক্ষ করুন—
একটা খারাপ bridge যেমন মাঝপথে ভেঙে পড়ে,
একটা খারাপ লেখাও ঠিক তেমনই।

পাঠক মাঝপথে পড়া ছেড়ে দেয়।
বুঝতেই পারে না, লেখক কী বলতে চেয়েছেন।
ভুল বুঝে ভুল পথে এগিয়ে যায়।

আর ভালো bridge?
দশকের পর দশক দাঁড়িয়ে থাকে।
মানুষ ব্যবহার করে, ভরসা করে।

ভালো লেখাও ঠিক তাই।
বছরের পর বছর পড়া হয়।
share হয়।
মনে থাকে।


এখন আসি একটু গভীর জায়গায়।

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে একটি ধারণা আছে—
Constraint Optimization

মানে কী?

সব কিছু ইচ্ছে মতো করা যায় না।
জায়গার limit আছে,Resource,Manpower also limited
খরচের budget আছে,
time, safety, load—সব কিছুরই সীমা আছে।

এই সব constraint এর ভেতরে থেকেই
সেরা solution বের করাই একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ারের কাজ।


এখন লেখালেখির দিকে তাকান।

এখানেও constraint আছে—
পাঠকের attention span,
তার background,environtment
তার language comfort,understanding,বোধ
তার time

আপনি চাইলেই সব বলে দিতে পারবেন না।
সব লিখলেও, সব পড়া হবে না।

এই সীমার ভেতরে থেকেই
যে কথা বলা দরকার,
যেটুকু বলা দরকার,
ঠিক সেই জায়গায় বলা—

এইটাই ভালো লেখালেখি।

অর্থাৎ,
ভালো লেখা মানে বেশি লেখা নয়।
ভালো লেখা মানে optimized writing


যেমন একটা ব্রিজ—
অপ্রয়োজনীয় লোহা বেশি লোহা দিলেই শক্ত হয় না ,
কিন্তু কম দিলে ভেঙে পড়ে।

লেখাও তাই।
বেশি শব্দ মানেই  ভাল লেখা নয়,

কোন কথায় কত শব্দ—
এই হিসেবটাই একজন লেখকের আসল ইঞ্জিনিয়ারিং।
এই কারণেই
ভালো লেখক আসলে এক ধরনের ইঞ্জিনিয়ারই।
লেখালেখিও এক ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং।


তাই আজ যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে—
“একজন ইঞ্জিনিয়ার কি লেখক হতে পারে?”

আমি হাসি।

কারণ আমি জানি—
আমি প্রতিদিনই ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে লিখি।
আর লেখক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং করি।

শুধু টুলস আলাদা।
ভাবনার গভীরতা,স্ট্রাকচার একই।।


বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…