Once upon a time-একবার আমার কলেজের সিনিয়র প্রতীক মল্লিক
আমার সঙ্গে একটা ব্যক্তিগত উপলব্ধি ভাগ করে নিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন—
আমি অনেক মানুষকে দেখেছি
যারা হাজার হাজার বই পড়েছে।
মাথার ভেতর যেন একটা পুরো লাইব্রেরি বানিয়ে ফেলেছে।
কিন্তু তবুও…
তারা লিখতে পারে না।
কেন?
কারণ শুধু বই পড়লেই কেউ লেখক হয়ে যায় না,
যদি তার ভেতরে সহজাত সেই সক্ষমতা না থাকে।
আরও একটা বড় ভুল আমরা করি।
আমরা ভাবি—
বই পড়লেই সব শেষ।
না।
বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে
আরও একটা অনেক বড় বই পড়তে হয়।
সেটা কী?
জীবন..Life
জীবনের চেয়ে বড় বই আর নেই।
যে মানুষ জীবনকে পড়তে পারে না,
যে মানুষ অভিজ্ঞতা, ব্যথা, ব্যর্থতা আর আনন্দ থেকে
শিখতে পারে না—
সে লক্ষ লক্ষ বই পড়লেও
কখনো লেখক হতে পারবে না।
কারণ লেখালেখি
বাইরে থেকে আসে না।
ডিগ্রি থেকে আসে না।
লাইব্রেরির তাক থেকে আসে না।
লেখালেখি আসে
ভিতর থেকে।
এরপর হঠাৎ করেই
একটু চমকে দিয়ে তিনি আমাকে বললেন—
“কলেজ জীবনে তুই কিন্তু
non-veg কবিতা লিখতিস,Song,নাটক লিখতিস,
আর আমরা সবই মজা করতাম।
একটা কথা বিশ্বাস কর—
তোর ভেতরে লেখার ক্ষমতা আছে।
তোর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে,দৃঢ় বিশ্বাস আছে।
তুই যদি চাস,
তাহলে তুই শুধু ভালো,positive, powerful লেখাই নয়—
এমন লেখা লিখতে পারবি,
যা আমাদের জীবনের গল্পকে ধরে ফেলবে।”
এই কথাটা শুনে আমি সত্যিই shock হয়ে গিয়েছিলাম।
কারণ তখনও আমার নিজের ওপর
সেই বিশ্বাসটা তৈরি হয়নি।
আমি নিজেই ভাবতাম—
আমি কি আদৌ
কোনো positive, meaningful, valuable লেখা
লিখতে পারি?
অতীতের দিকে তাকালে
আমার লেখা মানেই ছিল—
মজা, দুষ্টুমি, non-veg ভাবনা।
সবই ছিল নিছক entertainment-এর জন্য, pure পাগলামি।
কখনোই ভাবিনি
লেখা দিয়ে কাউকে
দিশা দেখানো যায়,
কারও মনে আলো জ্বালানো যায়,
বা জীবনের সত্য কথা বলা যায়।
কিন্তু সেদিন
অন্য একজনের বিশ্বাস
আমার নিজের ভিতরের বিশ্বাসকে
নাড়িয়ে দিয়েছিল।
প্রতিক মল্লিককে আমি বহুদিন ধরেই গভীর সম্মান করি—বিভিন্ন কারণেই from college days ।
আর সেই কারণেই তাঁর বলা একটি advice
আমার জীবনের দিক বদলে দিয়েছিল।
সেই দিনটির পর
আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ভালো ও Positive লেখার পথ বেছে নিয়েছিলাম।
কিন্তু সত্যি বলতে কী—
শুরুর দিনগুলো একেবারেই সহজ ছিল না।
ভীষণ কঠিন ছিল।
মানসিকভাবে, ভেতর থেকে।
আমার অবস্থা তখন ঠিক
রামায়ণের দস্যু রত্নাকরের মতো।
যে মানুষটি একদিন
“রাম” নামটুকুও
উচ্চারণ করতে পারত না।
তার মুখে শুধু উঠে আসত—
“মরা… মরা… মরা…”
কিন্তু সে থামেনি।

প্রতিদিন।
নিরবচ্ছিন্নভাবে।
একই শব্দ, একই চেষ্টা।
আর ধীরে ধীরে
সেই “মরা” শব্দটাই বদলে গেল।
“মরা” থেকে
“রাম”।
শুধু একটাই কারণে—
নিয়মিত চর্চা। ধারাবাহিকতা।
আমার ক্ষেত্রেও
ঠিক সেটাই ঘটেছিল।

শুরুর লেখাগুলো ছিল অপরিপক্ব(immature)।
ভাষা ছিল এলোমেলো।
ভাব ছিল অস্পষ্ট।
তবুও আমি থামিনি।
ভালো না হলেও লিখেছি।
স্বীকৃতি না পেলেও লিখেছি।
নিজের সন্দেহের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লিখেছি।
আর আজ,
যখন পেছনে ফিরে তাকাই,
আমি নিজেই বিস্মিত হই—
আমি সত্যিই
এই বইগুলো লিখে ফেলেছি—
📜 Corporate Ramayan
🕉️ Corporate Mahabharat & Gita
💪 Sada Safal Hanuman – A person who never fail
❤️ Emotional Ramayan – lessons for relationships
🏰 Murshidabad Series – history with wisdom
🌍 Bharat Ek Khoj – India’s journey of ideas,values
✨ Unspoken Gita – hidden wisdom
🌺 Corporate Panchatantra Volume 1 & 2 – ultimate management guide with Childhood Stories
🛕 Corporate Pilgrim – stories for success for Corporate Professionals
🕉️The Journey of Being Human
and so many books ….

এই পথচলা আমাকে একটি সত্য শিখিয়েছে—
রূপান্তর (transformation) কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়।
রূপান্তর (transformation) আসে
বিশ্বাস থেকে,
সম্মান থেকে,
আর অবিচল ধারাবাহিকতা (Consistent Consistency) থেকে।
নিজের ভেতরের “রাম”-এর কাছে পৌঁছাতে হলে,
অনেকদিন ধরে
“মরা” বলতেই হয়।

বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…