আমি ছোটবেলায় যখন স্কুলে পড়তাম…

ইতিহাস বইয়ের পাতায় একটা নাম বারবার চোখে পড়ত।

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।

যিনি ‘বাংলার বাঘ’ নামে সমগ্র ভারতবর্ষে পরিচিত

তখন আমার কাছে ব্যাপারটা খুব একটা স্পষ্ট ছিল না।

ছোটবেলায় মনে হতো…

“বাংলার বাঘ” মানে হয়তো খুব সাহসী একজন মানুষ।

তার বেশি কিছু নয়।

কিন্তু…

জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে…

কর্পোরেট জগতে প্রায় দুই দশক কাজ করতে করতে…

বিভিন্ন রাজ্য, বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাছ থেকে দেখতে দেখতে…

আজ বুঝতে পারছি…

স্যার আশুতোষ শুধু একজন মানুষ ছিলেন না।

তিনি ছিলেন একটি Vision

একটি Mindset

একটি Movement

আজ তাঁর জন্মদিনে আমি তাঁর জীবনী বলতে আসিনি।

বরং…

আমি নিজেকেই একটা প্রশ্ন করেছি।

যদি আজ স্যার আশুতোষ আমাদের মধ্যে ফিরে আসতেন…

তাহলে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখে কী বলতেন?

হয়তো তিনি প্রথমেই একটা প্রশ্ন করতেন…

“তোমরা কি এখনও মানুষ তৈরি করছ?

নাকি শুধু পরীক্ষার্থী তৈরি করছ?”


বন্ধুরা,

কর্পোরেট জীবনে আমি একটা বিষয় খুব কাছ থেকে দেখেছি।

একই কলেজ থেকে পাশ করা দুইজন মানুষ…

একই নম্বর…

একই ডিগ্রি…

কিন্তু দশ বছর পরে…

একজন একটা কোম্পানির নেতৃত্ব দিচ্ছে।

আরেকজন এখনও নিজের জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছে।

কেন?

কারণ…

সাফল্য শুধু Degree দিয়ে আসে না।

সাফল্য আসে…

চিন্তা করার ক্ষমতা থেকে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস থেকে।

মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলার দক্ষতা থেকে।

আর এই শিক্ষাটাই তো স্যার আশুতোষ একশো বছর আগেই দিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি জানতেন…

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু Certificate দেওয়া নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ…

Character তৈরি করা।

Competence তৈরি করা।

Confidence তৈরি করা।

আজ পৃথিবী বদলে যাচ্ছে।

আজ আমাদের ছেলেমেয়েরা ChatGPT ব্যবহার করতে জানে।

Google ব্যবহার করতে জানে।

কিন্তু…

নিজের মাথা ব্যবহার করতে শিখছে তো?

Critical Thinking শিখছে?

Problem Solving শিখছে?

Character Building শিখছে?

এই প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ…

Technology Information দিতে পারে।

কিন্তু Character তৈরি করতে পারে না।

আর স্যার আশুতোষ ঠিক এই Character Building-এর কথাই বলেছিলেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন…

একজন ভালো ছাত্রের আগে…

একজন ভালো মানুষ তৈরি হওয়া দরকার।

একটা জিনিস এখনও কোনো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেনি।

সেটা হল…

সৎ চরিত্র।

দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ।

এই কারণেই আমি মনে করি…

আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু Digital Education নয়।

আমাদের দরকার…

Human Education.

যেখানে প্রযুক্তি থাকবে…

কিন্তু প্রযুক্তির সঙ্গে থাকবে মানবিকতা।

যেখানে Innovation থাকবে…

কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে Integrity।

যেখানে Global Vision থাকবে…

কিন্তু শিকড় থাকবে নিজের মাটিতে।

আমার স্বপ্ন…

পশ্চিমবঙ্গ আবার এমন এক শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠুক…

যেখানে ছাত্ররা শুধু চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখবে না…

সমস্যার সমাধান করার স্বপ্ন দেখবে।

যেখানে তারা শুধু বিদেশে যাওয়ার কথা ভাববে না…

নিজের রাজ্য, নিজের দেশকে বিশ্বমানের করে তোলার কথাও ভাববে।

হয়তো এটাই হবে…

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানানো।

তাঁর ছবিতে ফুল দেওয়ার চেয়েও বড় শ্রদ্ধা হবে…

তাঁর স্বপ্নকে নতুন শতাব্দীর ভাষায় বাস্তবায়িত করা।

কারণ…

ইতিহাসের মহান মানুষরা অতীতে বাস করেন না।

তাঁরা বেঁচে থাকেন আমাদের চিন্তায়, আমাদের সিদ্ধান্তে, আর আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার সাহসে।

আর সেই কারণেই…

আজ, তাঁর জন্মদিনে…

আমি শুধু তাঁকে স্মরণ করছি না।

আমি নিজেকেও মনে করিয়ে দিচ্ছি—

শিক্ষা যদি মানুষ না গড়ে, তবে সেই শিক্ষা অসম্পূর্ণ।

আর মানুষ যদি দেশকে না গড়ে, তবে সেই সাফল্যও অসম্পূর্ণ।

বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…