ফোঁস করতে দোষ নাই
এক গভীর জঙ্গলে বাস করত এক ভয়ঙ্কর গোখরো সাপ। তার বিষের ভয়ে মানুষ, পশু-পাখি—সকলেই সেই পথ এড়িয়ে চলত। কারণ সাপটি সামান্য বিরক্ত হলেই ছোবল মারত, আর তার বিষে অসংখ্য প্রাণী প্রাণ হারিয়েছিল।
একদিন সেই জঙ্গল দিয়ে যাচ্ছিলেন এক জ্ঞানী ব্রহ্মচারী সাধু। তাঁর মুখে ছিল শান্তির আভা, চোখে ছিল করুণা এবং মনে ছিল সকল জীবের প্রতি ভালোবাসা।
সাধুকে দেখে গোখরো সাপটি ফণা তুলে ফোঁসফোঁস করতে করতে তাঁর দিকে এগিয়ে এল ছোবল মারতে ।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে অদৃশ্য শক্তি তাকে আটকে দিল। তিনি শান্ত কণ্ঠে বললেন—
“থামো বৎস। আমাকে ছোবল মারার আগে একটি কথা বলো, আমাকে আঘাত করে তুমি কী লাভ পাবে?”
সাপটি অবাক হয়ে বলল—
“আমি একটি সাপ। ছোবল মারাই আমার স্বভাব।”
সাধু মৃদু হেসে বললেন—
“বৎস, তুমি কি জানো, অকারণে অন্য জীবকে যন্ত্রণা দিয়ে এবং তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়ে তুমি নিজের কর্মফলে পাপ সঞ্চয় করে চলেছ?”
সাপটি কিছুক্ষণ নীরব রইল। প্রথমবারের মতো সে নিজের কাজের কথা ভাবতে শুরু করল। তারপর বিনয়ের সঙ্গে বলল—
“গুরুদেব, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।”
সাধু বললেন—
“আজ থেকে তুমি কাউকে অকারণে ছোবল মারবে না। কারও প্রাণ নেবে না।”
সেই দিন থেকে গোখরো আর কাউকে ছোবল মারত না। ধীরে ধীরে জঙ্গলের মানুষ জানতে পারল যে ভয়ঙ্কর সাপটি এখন শান্ত হয়ে গেছে। তখন অনেক দুষ্টু ছেলে সাপটিকে আর ভয় করল না।
একদিন কয়েকজন ছেলে সাপটিকে দেখে তাকে পাথর ছুঁড়তে লাগল, লাঠি দিয়ে আঘাত করতে লাগল। সাপটি সাধুর আদেশ মনে করে কোনো প্রতিবাদ করল না। আঘাত সহ্য করতে করতে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল।
কয়েক মাস পরে সেই সাধু আবার জঙ্গল দিয়ে যাওয়ার সময় সাপটিকে দেখতে পেলেন। সাপের দুর্বল ও আহত অবস্থা দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন—
“বৎস, তোমার এই অবস্থা কে করেছে?”
সাপটি কাঁদতে কাঁদতে বলল—
“গুরুদেব, আপনার আদেশ অনুযায়ী আমি কাউকে ছোবল মারিনি। তাই সবাই আমাকে দুর্বল মনে করে অত্যাচার করেছে।”
সাধু মৃদু হেসে বললেন—
“বোকা সাপ! আমি তোমাকে ছোবল মারতে নিষেধ করেছি, কিন্তু ফোঁস করতে তো নিষেধ করিনি।
ফোঁস করতে দোষ নাই
সাপটি তখন বুঝতে পারল—দয়া ও অহিংসা মানে দুর্বল হওয়া নয়। নিজের শক্তি প্রদর্শন করা যায় অন্যকে ক্ষতি না করেও।
be continue …
বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…