Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Why Did King Dasaratha Have 3 Wives?(B)

The Hidden Symbolism of Ramayana Reveals-Bengali


কখনো ভেবেছেন…
রামায়ণের সূচনা কোথা থেকে?

রামের জন্মে ?

রাবণের শক্তিতে?

না—

রামায়ণের প্রকৃত সূচনা হয়…
অযোধ্যার অন্তঃপুরে।
👉এক রাজা…
👉তিন রাণী…

👉তিন গুণ।
👉চার সন্তান…যাঁরা গড়ে তুলেছিলেন মানবজীবনের চার স্তম্ভ
আর তার পিছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর, মহাজাগতিক দর্শন।

এই কাহিনি শুধু রাজনীতি নয়,
এটা মানুষের মনের মানচিত্র,
একটা মহাজাগতিক পরিকল্পনা—
যা হাজার বছর ধরে চোখ এড়িয়ে গেছে।

আজ আমি আপনাকে সেই গভীরতম সত্যটা দেখাব,অজানা রহস্যটাই খুলে বলব।
যা জানলে আপনি Ramayana-কে নতুনভাবে দেখবেন।


🌼 প্রথম অধ্যায় — দশরথের তিন রাণীর গোপন পরিচয়

আমরা সাধারণভাবে ভাবি—
রাজাদের অনেক রাণী থাকে,
এটা যেন ছিল রাজপরিবারের ঐতিহ্য।

কিন্তু ড. সুধাংশু ত্রিবেদী একটি এমন সত্য প্রকাশ করেন,
যা শুনলে রামায়ণকে আপনি নতুন চোখে দেখবেন।

👉 দশরথের তিন রাণী ছিলেন না স্রেফ তিন নারী।
তাঁরা ছিলেন তিনটি মহাজাগতিক শক্তির প্রতীক—
তিনটি গুণ—
যার উপর দাঁড়িয়ে আছে মানুষ, প্রকৃতি, এমনকি আমাদের মন-মানসিকতার পুরো কাঠামো।

👑 ১. কৌশল্যা — সত্ত্ব বা সত্‌ গুণ

(পবিত্রতা, শান্তি, জ্ঞান, আলো)

👑 ২. সুমিত্রা — রজঃ বা রজোগুণ

(শক্তি, কর্ম, গতি, আগ্রহ)

👑 ৩. কৈকেয়ী — তমঃ বা তমোগুণ

(অহং, জড়তা, অন্ধকার, প্রতিরোধ)

দেখুন…
এই তিন গুণই আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে আছে।
এগুলোই মিলেই তৈরি করে—

  • আমাদের মন
  • আমাদের সিদ্ধান্ত
  • আমাদের আচরণ
  • এমনকি… আমাদের ভাগ্যও

একেক সময় একেক গুণ মাথা তোলে।
কখনো আমরা শান্ত, কখনো উদ্দীপ্ত,
আবার কখনো অকারণে থেমে যাই—
জড়তার ফাঁদে পড়ি।

এই তিন গুণের সঠিক ভারসাম্যেই তৈরি হয়—
মানবজীবনের চার পথ।
(ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ)

এবার আসুন—
এই তিন গুণকে একটু গভীরে বুঝে নিই।


১️⃣ রজঃ — উত্তেজনা, গতি, অস্থিরতা, কার্যক্ষমতা

রজঃ মানেই এনার্জি।
এটাই আপনাকে—

  • দৌড় করায়
  • লড়াই করতে শেখায়
  • স্বপ্ন দেখায়
  • ঝুঁকি নিতে শেখায়
  • প্রতিযোগিতার মাঠে নামায়

রজঃ না থাকলে মানুষ চলেই না।
এটাই action-এর ইন্ধন।

কিন্তু…

রজঃ বেশি হলে?
তাহলে মানুষ—

  • উদ্বিগ্ন
  • অস্থির
  • রাগী
  • লোভী
  • হিংসুটে
  • ছটফটে

👉 রজঃ নিয়ন্ত্রণ মানে নিজের শক্তিকে নিজের শত্রু নয়— নিজের সহায়কে বানানো।
এটা শেখায়—
উচ্ছ্বাস নয়, সচেতনতা দিয়ে action নাও।


২️⃣ তমঃ — অন্ধকার, ভয়, আলস্য, অজ্ঞতার ভারী পর্দা

তমঃ মানে সেই ঘোর অন্ধকার,
যেখানে আলো নেই,
ইচ্ছা নেই,
গতি নেই।

তমোগুণ বাড়লে মানুষ ডুবে যায়—

  • আলস্যে
  • ভয়ে
  • অবসাদে
  • সন্দেহে
  • ভুল সিদ্ধান্তে
  • এড়িয়ে চলা স্বভাব

আর তখনই জন্মায় সেই ভয়ংকর ভাব—

“আমি পারব না…”
“আমার দ্বারা কিছুই হবে না…”
“জীবন শেষ…”

➡️ এই নেতিবাচকতার মূলেই থাকে তমস।

কিন্তু তমোগুণ কি সবসময় খারাপ?
না!

ঘুম, বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার—
এগুলো তমঃ ছাড়া সম্ভব নয়।

সমস্যা তখনই,
যখন তমঃ আমাদের driver-seat-এ বসে যায়—
আর আমরা যাত্রী হয়ে পড়ি।


৩️⃣ সত্‌ — স্বচ্ছতা, আলো, শান্তি, জ্ঞান

সত্‌ হলো তিন গুণের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চতর।
এখানে আছে—

  • আলো
  • সঠিক বিচারের ক্ষমতা
  • প্রেম
  • করুণা
  • সহানুভূতি
  • মানসিক ভারসাম্য

সত্‌ বাড়লে মানুষ—

  • পরিষ্কারভাবে ভাবে
  • নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত নেয়
  • অহং কমে
  • মনোযোগ বাড়ে
  • নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পায়
  • শান্ত, শক্তিশালী ও স্থির হয়ে ওঠে

এটাই আধ্যাত্মিকতার প্রথম ধাপ।


🔺 গুণ তিনটি—সবাইর ভেতরেই আছে

কেউই পুরো রজঃ নয়, পুরো তমঃ নয় বা পুরো সত্‌ নয়।
আমাদের জীবন, পরিবেশ, কাজ, মানুষ—
সবকিছুই প্রতিদিন এই গুণগুলো বদলায়।

বেদান্ত বলে—

তমঃ → রজঃ → সত্‌
অন্ধকার → এনার্জি → স্বচ্ছতা → জ্ঞান

এই তিন ধাপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে মানুষের আসল বিকাশ।
আর সেই তিন গুণের প্রতিনিধিত্ব করতেন—
দশরথের তিন রাণী।

এই তিন গুণ একসঙ্গে মিলেই জন্ম দিয়েছিল—
রাম, লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন—
অর্থাৎ মানুষের জীবনের চার পুরুষার্থকে।(ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ)

এটাই Ramayana-এর মহাজাগতিক ডিজাইন।

Watch the full episode

Read next : দশরথের চার সন্তান, চার পুরুষার্থ (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ)