ভীষ্মের শরশয্যা -থেকে Rupankar Bagchi’s KK Controversy:যখন পৌরাণিক কাহিনী বাস্তব হয়:
নমস্কার বন্ধুরা! 🙏
🎙️স্বাগতম তোমাদের প্রিয় সিরিজ Corporate Mahabharat-এ!
আজ তোমাদের নিয়ে চলেছি এমন এক পৌরাণিক গল্পের ভেতর, যা কেবল একটা কাহিনী নয়…
👉 এটা একটা আয়না — যেখানে প্রতিফলিত হয় আমাদের আত্মা।
আজ আমরা জানব…
ধর্মপথে চলেও কেউ কেন পেলো নিষ্ঠুরতম মৃত্যু? 😢
কেন ভীষ্ম পিতামহকে পড়ে থাকতে হল ১৮ দিন ধরে শরশয্যায়, শরীরে শত শত তীর বিদ্ধ হয়ে? 🏹🩸

চলো বন্ধুরা…
একসাথে ডুব দিই সেই হৃদয়বিদারক পৌরাণিক রহস্যে… 🌌
🏹 [ভীষ্মের শরশয্যা: ]
কুরুক্ষেত্রের ময়দান রক্তে রঞ্জিত। সামনে পড়ে আছেন ভীষ্ম পিতামহ শরশয্যায় শুয়ে — দেহে অগণিত তীর, শরীর ছিন্নভিন্ন। তাঁর চোখে কষ্ট, মনের ভিতর যেন কিছু প্রশ্ন…
তখন তিনি শ্রীকৃষ্ণের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন:

🗣️ “হে মাধব… আমি তো কারও অমঙ্গল করিনি। সারা জীবন ধর্মপথে চলেছি। তবু কেন এমন মৃত্যু আমার ভাগ্যে?
কী পাপ করেছিলাম আমি?” 😞💔
বন্ধুরা, এই প্রশ্নের উত্তর যেন শুধু ভীষ্মের নয় — আমাদের সবার। 🪞
অনেক সময় জীবনে আমরা আমাদের দুঃখের কারণ জানি না।
🕉️ [শ্রীকৃষ্ণের জবাব: ১০১তম জন্মের অভিশাপ!]
🕉️শ্রীকৃষ্ণ… 🙏তাঁর চোখে করুণা, কণ্ঠে গভীরতা…
তিনি মৃদু হেসে বললেন,
🗣️“হে পিতামহ… আপনি আপনার শত জন্মের কথা জানেন, তাই না?”
👑 ভীষ্ম বললেন —
🗣️”হ্যাঁ মাধব, আমি আমার ১০০ জন্মের স্মৃতি রাখি —
কিন্তু আমি কখনো কাউকে কষ্ট দিইনি।”
তখন কৃষ্ণ বললেন —
🗣️”হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলছেন।
কিন্তু ১০১তম জন্ম? সেটি কিন্তু আপনি ভুলে গেছেন!”
ভীষ্ম বিস্ময়ে বললেন,
🗣️“কি বলছো মাধব? আমি তো কোথাও কিছু পাপ করিনি!” 😨
শ্রীকৃষ্ণ এবার আরও গভীর স্বরে বললেন—
🗣️“তোমার সেই জন্মে তুমি ছিলে এক রাজপুত্র।
👉একদিন শিকার শেষে ফিরছিলে…
হঠাৎ তোমার রথের সামনে পড়ে যায় একটি নিরীহ গিরগিটি। 🦎

তুমি হয়তো ইচ্ছাকৃত করোনি…
তবুও অসাবধানতায় ,তুমি তীর দিয়ে সেই গিরগিটিকে ছুঁড়ে ফেলে দিলে.
আর সেই গিরগিটিটি ছিটকে গিয়ে পড়ল এক ক্যাকটাস গাছের উপর। 🌵
সেই গাছের কাঁটা বিদ্ধ হল তার কোমল পিঠে…
কাঁটার যন্ত্রণা ,নিষ্ঠুরতা তাকে ১৮ দিন ধরে ছটফট করিয়ে মারল। 😢
১৮টা দিন! একটানা যন্ত্রণা, রক্ত, নিঃশব্দ আর্তনাদে ভেসে গেলো তার জীবন।
তুমি জানতেও পারোনি…
তুমি চলে গিয়েছিলে তোমার রাজমহলে…
কিন্তু সেই প্রাণটা ১৮ দিন ধরে সে ছটফট করতে করতেই মারা যায়।” 😢
সেই গিরগিটি মৃত্যুর আগে অভিশাপ দেয় —
🗣️ “যে আমাকে এমন যন্ত্রণার মৃত্যু দিয়েছে, সে যেন একদিন ঠিক এই কষ্টটাই ভোগ করে!” 🔥
⏳ [সেই অভিশাপ কীভাবে জেগে উঠল?]
ভীষ্ম তখনও বুঝলেন না…
কৃষ্ণ বললেন,
👉 “তোমার সেই অভিশাপ শত জন্ম ধরে চাপা ছিল তোমার পুণ্যের জোরে।
কিন্তু এক মুহূর্ত…
এক নীরবতা — তা ভেঙে দিল সব প্রতিরক্ষা!”
😡 [দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ]
মহাভারতের সবচেয়ে কলঙ্কময়, লজ্জাজনক অধ্যায় —
দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ। 🥀

সেই রাজসভায় তুমি ছিলে, হে ভীষ্ম!
তুমি দেখেছিলে সব কিছু…
দ্রৌপদীর চিৎকার, তার আর্তনাদ, তার অসহায়তা! 😭
একজন নারী যখন লাঞ্ছিত হচ্ছিল সভার মাঝে,
তখন তুমি ছিলে নিঃশব্দ এক দর্শক! 😶
👉 তুমি জানতেন দুর্যোধনের পথ ভুল।
তবু ‘প্রতিজ্ঞার দোহাই’ দিয়ে, কোনও প্রতিবাদ করোনি!
না দাঁড়িয়েছিলে, না কিছুর বিরোধিতা করেছিলে।
🔱 তোমার সেই নীরবতাই ছিল তোমার সবচেয়ে বড় পাপ!
সেই এক মুহূর্ত,
যেখানে তুমি চাইলে ইতিহাস বদলে যেতে পারত!
কিন্তু তুমি… চুপ করে রইলে।
সেই নীরবতা তোমার সমস্ত সৎকর্মকে ম্লান করে দিল।
📿 তখন…
সেই গিরগিটির অভিশাপ —
যা শত জন্ম আগের ভুলের জন্য অপেক্ষা করছিলো…
সেই অভিশাপ জেগে উঠল! 🦎🔥
🌑 তোমার নীরবতা সেই অভিশাপকে শক্তি দিল।
আর সেই কারণেই…
তোমাকে পেতে হল এমন অসহ্য যন্ত্রণাময় শরশয্যা…
একটা একটা তীরে গাঁথা হয়ে থাকতে হল ১৮ দিন ধরে! 😔🏹

💡 [শিক্ষা – নীরবতা কখনও ক্ষমাযোগ্য নয়]
বন্ধুরা, এই গল্প শুধুই ভীষ্মের নয়…
এটা তোমার-আমার জীবনকেও প্রশ্ন করে।
👉 আমরা কি অন্যায়ের সময় চুপ থেকেছি?
👉 আমরা কি নিজের পদের, নিজের নিরাপত্তার কারণে সত্যের পাশে দাঁড়াইনি?
🧠 মনে রেখো—
🔔 নীরবতা কখনও নিরপেক্ষতা নয়, বরং অন্যায়ের পক্ষেই দাঁড়ানো।
⚖️ ধর্মের পথে চলতে গেলে সাহস লাগে…
প্রতিজ্ঞা থাকা ভালো, কিন্তু তার থেকেও বড় — সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর স্পর্ধা! 💪🔥
🚨অন্যায্য যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে” –কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
🎯 বন্ধুরা…
আজকের সমাজে, কর্মজীবনে, পারিবারিক সম্পর্কেও এমন পরিস্থিতি আসে,
যেখানে আমরা দেখি অন্যায় —
কিন্তু মুখ বন্ধ করে থাকি… 😶
তবে মনে রেখো,
👉 ভয় পেলে ধর্ম মরে যায়।
👉 চুপ থাকলে বিবেক মরে যায়।
👉 আর কথা বললে, সৎ পথে চললে, ইতিহাস তৈরি হয়!
🎢 [আজকের বাস্তবতার আয়নায় ভীষ্মের শিক্ষা]
তো প্রস্তুত তো?
👉 চলো, আজকের বাস্তব জীবনের গল্পে ডুব দিই! 🌊
বন্ধুরা,
ভীষ্মের শরশয্যা আমাদের শুধু অতীতের কথা বলে না —
এটা আমাদের বর্তমান জীবনের একটা ভয়ঙ্কর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি! 🪞
🔹 জীবনে আমরা অনেক সময় সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করি…
🔹 কিন্তু অনেক সময়ই সেই কাজের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বুঝে উঠতে পারি না।
🔹 আমরা ভাবি, “আমি তো খারাপ কিছু করিনি”…
কিন্তু কখনও কখনও, আমাদের কথাই কারও হৃদয় বিদীর্ণ করে দিতে পারে,
বা পরিস্থিতি এমন বাঁক নিতে পারে — যার ভার আমাদেরই বইতে হয়।
একদম ঠিক এমনই ঘটেছিল ভীষ্মের সঙ্গে…
আর আজকের বাস্তব উদাহরণে আমরা দেখব ঠিক এমনই একজন মানুষকে।
🎙️ রূপঙ্কর বাগচী —
একজন গুণী বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী।

👉 তিনি Facebook Live-এ এসেছিলেন একটা ভিডিও করতে।
উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না, হয়তো একটু হতাশা, একটু খোঁচা, একটু নিজস্ব মতামত —
তাই তিনি বললেন,
“Who is KK, KK, KK… কে এই KK?”
“আমরাও তো গাইছি! আমরাও তো শিল্পী!”
একজন মানুষ, যার সুরে আমরা বড় হয়েছি — সে একজন শিল্পীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের বক্তব্য রাখছিল।
Watch that Video for more details
কিন্তু তার ঠিক পরের দিন…
🎭 কিংবদন্তি গায়ক K.K. প্রয়াত হলেন কলকাতার একটি শো-এর পর। 💔
মুহূর্তেই গোটা দেশ শোকাহত, স্তব্ধ!
আর সেই মুহূর্তে…
রূপঙ্করের সেই কথাগুলো
🔥 “Trigger Point” হয়ে দাঁড়াল।
তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাগ, সমালোচনা, বিদ্বেষ…
২০ বছরের ক্যারিয়ার, সম্মান, সম্ভাবনা — এক রাতেই ধুলোয় মিশে গেল।
এটা কাকতালীয় হলেও,
👉 এই ঘটনাটাই যেন ভীষ্মের সেই তীর ছোড়া গিরগিটির গল্পের আধুনিক প্রতিচ্ছবি।
ভীষ্ম যেমন জানতেন না — এক তীর একটা প্রাণকে ১৮ দিনের যন্ত্রণায় ফেলবে…
রূপঙ্কর-ও জানতেন না, তার সেই কথাগুলো ঠিক কতটা চাঁপা আগুন জ্বালিয়ে দেবে।
📿 উদ্দেশ্য ভালো হলেও, সচেতনতা না থাকলে তার ফল ভয়ঙ্কর হতে পারে।
🌟 বন্ধুরা, এটা শুধুই একটা গল্প নয় —
এটা একেবারে আধুনিক, জীবন্ত কেস স্টাডি।
আমাদের মনে করিয়ে দেয়:
👉 “কারও ক্ষতি ইচ্ছে করে না করলেও, অজান্তে হলেও — তাও তার ফলাফল এড়ানো যায় না।”
👉 “নীরবতা, অসতর্কতা বা অহং — একেক সময় আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় তীর হয়ে ফিরে আসে।”
📺 তাই বন্ধুরা…
এই এপিসোড থেকে যদি কিছু শেখার থাকে —
তা হলো:
“জীবনে শুধু নীতির প্রশ্ন নয়, দায়িত্বের প্রশ্নও আসে।”
তুমি কী বলছো, কী করছো —
সেটা শুধু তোমার ওপর নয়, তোমার চারপাশকেও প্রভাবিত করে।
📍এইরকম আরও গভীর, জীবনের সঙ্গে জড়ানো মহাভারতের অধ্যায় নিয়ে আমরা আসব পরবর্তী পর্বে।
ততক্ষণ পর্যন্ত —
ভাবুন… শিখুন… এবং সচেতন থাকুন।
🕊️দেখা হবে ‘Corporate Mahabharata’-র পরের অধ্যায়ে!
🎬 Signing off — কর্পোরেট দাদু!