Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Value of Life

জীবনের গল্পকথা: নিজের মূল্য নিজেই নির্ধারণ করুন


একদিন একটি ছেলে
অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকার পর
তার বাবার কাছে এসে প্রশ্ন করল—

“বাবা, আমার জীবনের মূল্য আসলে কত?”

এই প্রশ্নের উত্তর তৎক্ষণাৎ দেওয়া যায় না।
জীবনের অনেক প্রশ্নই এমন—
যার উত্তর কথা দিয়ে নয়,
অভিজ্ঞতা দিয়ে বোঝাতে হয়।

বাবা তাই কোনও উত্তর দিলেন না।

তিনি শুধু আলমারির ভেতর থেকে
একটি সাধারণ পাথর বের করে
ছেলের হাতে তুলে দিলেন।

তারপর খুব শান্ত, স্থির কণ্ঠে বললেন—

“এই পাথরটা নিয়ে বাজারে যাও।
কেউ দাম জিজ্ঞেস করলে
একটাও কথা বলবে না।
শুধু দুটো আঙুল তুলে দেখাবে।
আর মনে রেখো—
পাথরটা বিক্রি করবে না।”

ছেলেটি কিছু না বুঝলেও
বাবার কথায় কোনও প্রশ্ন তুলল না।
সে বাজারের দিকে রওনা দিল।

বাজারে মানুষের ভিড়।
হাঁকডাক।
দরদাম।
এইসবের মধ্যেই এক বৃদ্ধা
পাথরটা দেখে থেমে গেলেন।

বললেন,
“বাছা, এই পাথরটা বিক্রি করবে? দাম কত?”

ছেলেটি কোনও কথা বলল না।
শুধু দুটো আঙুল তুলে ধরল।

বৃদ্ধা একটু ভেবে বললেন—
“দুই ডলার? ঠিক আছে, আমি নেব।”

ছেলেটি বিস্মিত হল।
কিন্তু বাবার কথা মনে করে
পাথরটা রেখে
সোজা বাড়ি ফিরে এল।

সব কথা শুনে বাবা শুধু বললেন—
“এবার যাদুঘরে যাও।
আগের মতোই করবে।”

যাদুঘরের নীরবতার মধ্যে
একজন মধ্যবয়সী ভদ্রলোক
পাথরটা দেখে থমকে গেলেন।

তার চোখে কৌতূহল।
কণ্ঠে উত্তেজনা।

“এই পাথরটা কোথায় পেলে?
দাম কত?”

ছেলেটি আবার দুটো আঙুল তুলল।

লোকটি বিস্ময়ে বললেন—
“দুইশো ডলার?
আমি এখনই নেব!”

ছেলেটির চোখ আরও বড় হয়ে গেল।
সে আর অপেক্ষা করল না।
দৌড়ে বাবার কাছে ফিরে এল।

বাবা এবার একটু থেমে বললেন—

“শেষবারের মতো—
এই পাথরটা নিয়ে
শহরের সবচেয়ে বড়
আর নামী গয়নার দোকানে যাও।”

দোকানে ঢুকতেই
এক বৃদ্ধ জুয়েলার
পাথরটা হাতে নিয়ে
দীর্ঘক্ষণ কিছু বললেন না।

তারপর কাঁপা কণ্ঠে বললেন—

“এই পাথরটা
আমি সারা জীবন খুঁজেছি।
তুমি এর জন্য কত চাও?”

ছেলেটি আর কিছু করল না।
শুধু দুটো আঙুল তুলে ধরল।

বৃদ্ধ প্রায় চিৎকার করে উঠলেন—
“দুই লক্ষ ডলার!
যেকোনো দামে আমি এটা চাই!”

ছেলেটি স্তব্ধ হয়ে গেল।
সে বুঝে গিয়েছিল—
কিছু একটা বদলে গেছে।

সে দৌড়ে বাড়ি ফিরে
বাবার সামনে দাঁড়াল।

বাবা তার মাথায় হাত রেখে
ধীরে ধীরে বললেন—

“এখন বুঝলে?

পাথরটা বদলায়নি।
তার গুণ বদলায়নি।

বদলেছে শুধু জায়গা।
আর বদলেছে
যে চোখে তাকে দেখা হয়েছে।


মানুষ নিজের মূল্য
নিজে বদলায় না।

মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয়—
সে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে
এবং কার সামনে দাঁড়িয়ে আছে,
তার উপর।

ভুল মানুষের কাছে গেলে
তুমি শুধু
একটা সাধারণ পাথর।

সঠিক মানুষের কাছে গেলে
তুমি
অমূল্য রত্ন।

নিজেকে কখনও
সস্তা জায়গায় রাখবে না।
নিজেকে কখনও
ভুল চোখের সামনে প্রমাণ করতে যেও না।

কারণ—

তুমি কম নও।
তুমি সাধারণ নও।

তুমি অমূল্য।


গল্পের শিক্ষা:

১. তোমার মূল্য তোমার নিজের হাতে নয়—তোমার অবস্থানের হাতে

মানুষ নিজের মূল্য নিজে বানায় না।
মানুষের মূল্য গড়ে ওঠে সে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে
আর কার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তার উপর।

ভুল পরিবেশে থাকলে
সবচেয়ে যোগ্য মানুষটিও
নিজেকে তুচ্ছ মনে করতে শুরু করে।

আর সঠিক পরিবেশে থাকলে
তোমার যে গুণগুলো তুমি নিজেই ভুলে গিয়েছিলে,
সেগুলো একে একে আলোয় আসে।

২. নিজেকে সস্তা করো না

এই পৃথিবীতে এমন মানুষের অভাব নেই
যারা তোমাকে শুধু ব্যবহার করবে।
তাদের কাছে তুমি প্রয়োজন—
কিন্তু মূল্যবান নও।

তারা তোমার শ্রম নেবে,
কিন্তু তোমার সম্মান দেবে না।

প্রকৃত মানুষ তারা-ই,
যারা তোমার প্রতিভা দেখে থামে,
তোমার গুণকে সম্মান করে,
তোমার উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেয়।

৩. সঠিক পরিবেশে নিজেকে রাখো

তোমার প্রতিভা, যোগ্যতা আর দক্ষতা—
এগুলো নিজে নিজে হারিয়ে যায় না।
হারিয়ে যায় তখনই,
যখন সেগুলো ভুল জায়গায় পড়ে থাকে।

নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে যাও
যেখানে তোমার কাজের মূল্য বোঝা হয়,
যেখানে তোমার চিন্তার মর্যাদা আছে,
যেখানে তোমার অস্তিত্বকে প্রশ্ন করা হয় না—
গ্রহণ করা হয়।


Final Note

তোমার জীবন
কোনও সাধারণ বস্তু নয়।
এটা এক মহামূল্যবান রত্ন

তাকে সস্তা দামে বিক্রি কোরো না।
ভুল মানুষের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে যেও না।

সঠিক মূল্যায়নের জন্য
সঠিক পরিবেশে
সঠিক মানুষের সামনে
নিজেকে পৌঁছে দাও।

নিজের মর্যাদা বোঝো—
কারণ তুমি অমূল্য।

বন্ধুরা, এই গল্প আমাদের একটাই কথা মনে করিয়ে দেয়—
জীবনের মূল্য নির্ধারণ করার ক্ষমতা
অন্যের হাতে নয়,
আমাদের সিদ্ধান্তের হাতে

তুমি তোমার জীবনকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যাবে,
তা নির্ভর করে
তোমার ইচ্ছা,
তোমার বিশ্বাস
আর তোমার বুদ্ধিমত্তার উপর।

তাই কখনও নিজের আত্মসম্মান হারিও না।
নিজেকে ভালোবাসো।
নিজের উপর বিশ্বাস রাখো।

কারণ—
তুমি মহার্ঘ। 🌟

Learning from নিজের মূল্য নিজেই নির্ধারণ করুন-

Personal Insight –Episode 1