Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

The Turning Point

Once upon a time/একসময় আমার মনে একটা দৃঢ় ধারণা বদ্ধমূল হয়ে বসে ছিল— যারা পড়াশোনায় খুব ভালো, তারা বুঝি শুধু বইয়ের পাতা আর নোটবুকের মধ্যেই আটকে থাকে। খেলাধুলা, গান-বাজনা, ছবি আঁকা, নাটক, আড্ডা— জীবনের এইসব রঙিন দিকগুলো তাদের জন্য নয়, এমনটাই ভাবতাম।

এই ভুল ধারণায় প্রথম চিড় ধরে ২০০১ সালে, যখন আমি ভর্তি হলাম বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শিবপুর-এ (যাকে আজকাল সবাই IIEST, Shibpur বলে চেনে)।

শিবপুরের সেই ক্যাম্পাস, কিছু অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা— এসব মিলিয়ে আমার জীবনে এলো এক অসাধারণ অধ্যায়।

সেখানেই আলাপ হয়েছিল কিছু অসাধারণ অদ্ভুত মানুষের সঙ্গে। অদ্ভুত এই অর্থে নয় যে তারা বিচিত্র,আজব বা অস্বাভাবিক ছিল। বরং অদ্ভুত এই অর্থে যে, তারা একই সঙ্গে একাধিক জগতে সমান স্বচ্ছন্দে বিচরণ করত।

পড়াশোনায় যেমন দক্ষ, তেমনই খেলাধুলা ফুটবল-ক্রিকেটে দুরন্ত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান-নাচ-আবৃত্তি-নাটক, এমনকি ছবি এঁকে, কবিতা লিখে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিত।


BE College 1999-2003 Batch

আজও চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে ২০০৩-এর সেই ব্যাচের ছবি। কত প্রতিভাবান মুখ, অসংখ্য গল্প, অসংখ্য চরিত্র, কত অবিস্মরণীয় গল্প, অসংখ্য চরিত্র— প্রতিটি নিজের মতো করে স্মরণীয়।

তবে আজ শুধু একজনের কথাই বলব। শুধু একজন। একটি নাম।

তার নাম— পুষ্প সৌরভ বিশ্বাস

এক অসম্ভব প্রতিভাধর, বিস্ময়কর বালক। যার উপস্থিতি নীরবেই বদলে দিয়েছিল আমার দৃষ্টিভঙ্গি।


একদিকে সে ছিল একজন দক্ষ ক্রিকেটার,
অন্যদিকে একজন ভালো ফুটবলার।
পড়াশোনাতেও সে ছিল ভালো—
আর হ্যাঁ, সে ছিল একজন প্রেমিকও।পুষ্প দা পড়াশোনার পাশাপাশি
প্রেমটাও খুব স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছিল।

যে সময়ের কথা বলছি,
সেই সময়ে অনিল বিশ্বাস ছিলেন পরিচিত এক নাম—
বামফ্রন্টের একজন heavy-weight নেতা।
তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক,প্রেম—
ভাবা যায়? কিন্তু পুষ্প দা এই সম্পর্কটাকেও
কখনো প্রদর্শনের বস্তু বানায়নি।

একদিকে নিঃশব্দে সম্পর্ক সামলানো,
অন্যদিকে পড়াশোনায় ভালো ফল,
খেলাধুলায় দক্ষতা,আর campus placement-এ ভালো কোম্পানিতে চাকরি—
সবকিছুতেই সফল।

কিন্তু এই সব পরিচয়ের মাঝেও
সে কখনো নিজেকে জাহির করেনি। খেলা, পড়াশোনা, সম্পর্ক—
সবকিছুর মধ্যেই তার ছিল এক আশ্চর্য ভারসাম্য।
একটা দিকও অবহেলিত নয়।
একটা দিকও অতিরিক্ত নয়।

সেই বয়সে আমরা যখন ভাবতাম—
জীবনে একসাথে এত কিছু কীভাবে সম্ভব?

বয়ঃসন্ধিকালে আমরা যখন কোনো একটি দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়তাম,
পুষ্পদা যেন নীরবে দেখিয়ে দিত—
একজন মানুষ একসাথে অনেক কিছুই হতে পারে,
যদি তার ভিতরে শৃঙ্খলা(Discipline) থাকে & আর নিজের Emotional Intelligence এর উপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ থাকে।


পুষ্পদা কখনোই সামনে আসতে চাইত না,
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে automatically নিজেই সামনে চলে আসত।

মাঠে নামলেই বোঝা যেত—
এই ছেলেটার আসল Talent কোথায়,

ক্রিকেটে তার skill ছিল আকাশছোঁয়া

ফুটবলে সে খেলাটা পড়তে পারত।


Most Remarkable Moment

২০০৩ সাল।
BE College Inter-department Football Championship— Final Match at Oval।

Electrical vs Metallurgy.

মাঠে তখন চাপ।
দর্শক, প্রত্যাশা, Departmental সম্মান—
সবকিছু এসে দাঁড়িয়েছে এক নব্বই মিনিটের মধ্যে।

Total tourntment-e ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত গোলকিপার ছিল বিপ্লব পাল।

সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল—
হঠাৎই এক অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।

ফাইনাল ম্যাচে গোলকিপিং থেকে বিপ্লব পালকে সরিয়ে
পুষ্পদা নিজেই গোলকিপিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

সেই মুহূর্তে আমরা কেউ কিছুই বুঝিনি।
কারণ এটা ছিল এমন এক সিদ্ধান্ত—
যা বইয়ে লেখা থাকে না,
ক্লাসরুমে শেখানোও যায় না।

এই সিদ্ধান্ত জন্ম নেয় শুধু
game sense থেকে,
নিজের SWOT বিশ্লেষণের গভীর বোঝাপড়া থেকে,
এবং একই সঙ্গে opponent-এর SWOT সঠিকভাবে বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা থেকে।

ঠিক সেই জায়গাতেই পার্থক্য গড়ে ওঠে—
একজন খেলোয়াড় আর একজন লিডারের মধ্যে।


ম্যাচের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে
প্রতীকদার নেওয়া সেই deadly free kick
পুষ্পদা নিখুঁত টাইমিংয়ে just punch করে বলটা
goal post-এর বাইরে বার করে দিল

একজন sports genius না হলে
ওই রকম deadly kick save করা সত্যিই অসম্ভব ছিল

সেদিন আমরা বুঝেছিলাম—
সব খেলোয়াড় গোল করে ম্যাচ জেতায় না।
কেউ কেউ
একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিহাস বদলে দেয়।


সেদিন Metallurgy Department একের পর এক আক্রমণ করেছিল,
goal করার জন্য মরিয়া ছিল।
কিন্তু পুষ্পদা সেদিন যেন
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে থাকা জয়দ্রথ
ঠিক সেই দিনের জন্যই যেন
মহাদেবের বিশেষ আশীর্বাদপ্রাপ্ত,
একেবারে unbeatable

ম্যাচ শেষ হলো।
ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্ট চ্যাম্পিয়ন।

সেদিন আমরা বুঝেছিলাম—
নেতৃত্ব মানে সব সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নয়,
নেতৃত্ব মানে পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ব নেওয়া,
এবং সেই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সাহস রাখা


কলেজ জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকেন,
যারা বক্তৃতা দেন না,
ডায়ালগ মারেন না,
Motivateও করেন না—
কিন্তু নিজের জীবন দিয়ে সবকিছু বুঝিয়ে দেন।

পুষ্প সৌরভ বিশ্বাস ছিলেন ঠিক তেমনই একজন।

এই মানুষটাকেই আমি প্রথম দেখেছি বাস্তব জীবনের “সদা-সফল হনুমান” হিসেবে।

যে কখনো মিশনে ব্যর্থ হয় না,
যে project নেয়, তা শেষ করে,
যে চ্যালেঞ্জকে ভয় পায় না।


সে আমাকে প্রথম ভাবতে শিখিয়েছিল—
হনুমান শুধু পুরাণের চরিত্র নয়।
সদা-সফল হওয়া শুধু গল্পের কথা নয়।

বাস্তব জীবনেও শৃঙ্খলা, সিদ্ধান্ত, সংযম আর সাহস থাকলে
সদা-সফল হনুমান হওয়া সম্ভব।

এই পুষ্প সৌরভ বিশ্বাসই ছিল আমার বই “সদা-সফল হনুমান” লেখার প্রথম বাস্তব অনুপ্রেরণা

বইটিতে আমি হনুমানজির প্রতিটি গুণ— শক্তি, ভক্তি, বুদ্ধি, নিষ্ঠা, সেবা, সাহস, একাগ্রতা— একেকটা অধ্যায়ে ভাগ করে বর্ণনা করেছি। দেখিয়েছি কীভাবে এই গুণগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করলে— যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো চ্যালেঞ্জে— আপনিও হয়ে উঠতে পারেন নিজের জীবনের সদা-সফল হনুমান

পুষ্পদার মতো মানুষেরা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সাফল্য মানে শুধু একটা দিকে নয়। সাফল্য মানে জীবনকে পূর্ণতায়, ভারসাম্যে, আনন্দে বাঁচা।

আজও শিবপুরের সেই দিনগুলো মনে পড়লে বুক ভরে ওঠে কৃতজ্ঞতায়। কারণ ওই দিনগুলো আমাকে শিখিয়েছে— বইয়ের পাশাপাশি জীবনও পড়তে হয়। আর ভালোবাসা দিয়ে, দায়িত্ব দিয়ে পড়তে হয়।

See you in next episode with more powerful learning