লেজকাটা শেয়ালের গল্প
আপনি কি কখনো লেজকাটা শেয়াল দেখেছেন?
এটা শুনে আপনার মনে হতেই পারে— “আরে! শেয়ালের তো লেজ থাকেই… এ আবার কেমন শেয়াল? লেজকাটা শেয়াল?”

তাহলে আজ একটু থামুন। আজকের গল্পটা লেজকাটা শেয়ালের— কিন্তু আসলে গল্পটা আমাদের সবার।
👉 এটা এমন এক গল্প— যেটা শুনে শেষে আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করবেন।
তাই মন দিয়ে আজকের গল্পটা শুনুন। কারণ এমন গল্প আপনি সচরাচর শোনেন না।
Once upon a time in a Jungle,
কোনো এক সময় এক ঘন জঙ্গলে থাকত অনেক শেয়াল।
তারা সকলে মিলে শিকার করত,
নদীতে নেমে মাছ ধরত,
আর সন্ধ্যা নামলেই বনের ধারে ঝরনার পাশে গোল হয়ে বসত—
হুক্কা-হুয়া করে গান গাইত, সারাদিনের মজার মজার গল্প করত।
জীবন ছিল সহজ-সরল, আনন্দে ভরা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল।
কিন্তু একদিন জঙ্গলে এক অদ্ভুত খবর ছড়িয়ে পড়ল— এক শেয়াল বিদেশ ঘুরে ফিরে এসেছে!
খবর শুনেই সবাই উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠল।
“ওখানে কী দেখেছে?”
“কেমন লাগল ওর?”
খবরটা ছড়াতে ছড়াতে পুরো জঙ্গল জুড়ে হইচই পড়ে গেল।
আর সেই বিলেত ফেরত শেয়ালটা? তার আবার লেজটাও আর নেই!
সন্ধ্যায় ঝরনার ধারে সেই বিলেত ফেরত শেয়ালকে ঘিরে সবাই জড়ো হল।
সে ভারী গলায় বলল—
আমি বিদেশে যা দেখেছি আর বুঝেছি,
তা তোমাদের এতদিনের সব ধারণা বদলে দেবে।
দুনিয়া অনেক আগে এগিয়ে গেছে—
আর তোমরা এখনও এই জঙ্গলের ভেতরেই আটকে আছ
ওখানে কেউ আর লেজ রাখে না। সবাই বলে, লেজ তো পুরোনো ফ্যাশন—ব্যাকডেটেড, অচল জিনিস! লেজ কেটে ফেলাই এখন আধুনিকতা!”
সবাই অবাক হয়ে তাকাল। “সত্যি? বিদেশে এমন হয়?”
লেজকাটা শেয়াল মুচকি হেসে বলল, “একদম! লেজ এখন শুধু বোঝা। আমিও তো কেটে ফেলেছি—দেখো, কত হালকা লাগছে!
আজকাল লেজ কাটতে হয়—
নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়
কথাটা শুনে অনেক শেয়াল সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল। “সবাই করছে যখন, আমরাও করব!”
কিন্তু ঠিক তখনই ভিড়ের মাঝখান থেকে এক তরুণ শেয়াল এগিয়ে এল। তার চোখে স্পষ্ট প্রশ্ন।

সে শান্ত গলায় বলল
“একটু দাঁড়াও, ভাইয়েরা। লেজ কি শুধু সাজের জন্য? লেজ দিয়ে আমরা বাতাসে ভারসাম্য রাখি। লেজ দিয়ে মাছি-মশা তাড়াই। শীতের রাতে লেজ গুটিয়ে মুখ ঢেকে গরম থাকি। লেজ না থাকলে এসব কাজ কীভাবে করব?”
জঙ্গলে হঠাৎ নীরবতা নেমে এল। কিন্তু কয়েকজন হেসে উঠল— “তুমি পুরোনো চিন্তায় আটকে আছ!” “এখন সবকিছুর আধুনিক উপায় আছে!”
বিদেশফেরত শেয়াল তখন ঘোষণা করল— “আজই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে আধুনিক হতে চায়, সে আজই লেজ কাটবে!”
ভয় আর লোভ মিশে গেল মনে। অনেকে লেজ কেটে ফেলল। কেউ ব্যথা লুকিয়ে হাসল। কেউ মনে মনে আফসোস চাপা দিল।
ঠিক তখন জঙ্গলের এক কোণে বসে থাকা এক বুড়ো শেয়াল ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। সে গভীর গলায় বলল—
“বিদেশে যা চলে, তা সব জঙ্গলে চলে না। নতুন জিনিস শেখা দরকার, কিন্তু নিজের প্রয়োজন বুঝে। অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবন কপি করলে নিজের অস্তিত্বটাই হারিয়ে যায়।”
এই সরল কথাগুলো শেয়ালদের চোখ খুলে দিল। তারা বুঝতে পারল—আধুনিকতা মানে অন্ধ অনুকরণ নয়।
শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নিল— নতুন জিনিস শিখবে, কিন্তু চোখ বন্ধ করে নয়। যে লেজ রাখতে চায়, রাখবে। যে কাটতে চায়, কাটবে। কিন্তু কাউকে জোর করে বদলানো হবে না।
সেদিন সন্ধ্যায় ঝরনার ধারে আবার আড্ডা বসল।হুক্কা-হুয়া করে গান ফিরে এল।
কিন্তু এবার গল্পের সুর বদলে গেছে।
এবার শেয়ালরা বুঝে গেছে— পরিবর্তন দরকার, কিন্তু বুদ্ধি ছাড়া নয়।
নিজের শিকড় ছেড়ে দূরের চাকচিক্যে হারিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
কেমন লাগল গল্পটা?
আপনার জীবনে কখনো এমন লেজকাটা শেয়ালের মতো মুহূর্ত এসেছে? 😊
Moral of the Story:
আপনার জীবনে বিভিন্ন রূপে লেজকাটা শেয়াল হাজির হবে।
কেউ ঝলমলে কথায় মুগ্ধ করবে,
কেউ বড় বড় স্বপ্নের ছবি আঁকবে।
আপনি শুনবেন। মন দিয়ে শুনবেন।
কিন্তু নিজের বুদ্ধির দরজা বন্ধ করবেন না।
👉 কারও কথায় মুগ্ধ হতে পারেন, কিন্তু কারও কথায় অন্ধ হবেন না। মনের আলো কখনো নিভিয়ে দেবেন না।
নতুন জিনিস শিখবেন—অবশ্যই। ভালো বিদেশি ধারণা, উন্নত কনসেপ্ট গ্রহণ করবেন—নিশ্চয়ই। কিন্তু মনে রাখবেন— গ্রহণ করা আর নিজেকে হারিয়ে ফেলা এক জিনিস নয়।
নিজের শিকড়, নিজের সংস্কৃতি, নিজের মূল্যবোধ— এগুলো কখনো ছেড়ে দেবেন না।
কারণ যে মানুষ নিজের শিকড় ভুলে যায়, সে খুব দ্রুত অন্য কারও গল্পের একটা চরিত্র হয়ে যায়— নিজের গল্পের নায়ক আর থাকে না।
গল্পটা এখানেই শেষ।
আসলে এটা তো সবে শুরু!
আমাদের পরের পর্বে আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব আমার নিজের জীবনের গল্প।
কীভাবে এই লেজকাটা শেয়ালের কাহিনি আমার জীবনকে বদলে দিয়েছে।
কীভাবে আমার direction completely change হয়ে গিয়েছিল,
আর তারপর আমার জীবনে
একটার পর একটা কী কী ঘটনা ঘটেছিল—সব খোলাখুলি বলব।
So please—
don’t stop here.
Stay tuned.
Next episodeটা miss করবেন না।
We’ll meet again very soon.