মাসিমার ঝুলি: বাঁদরের থাবা আর জীবনের রহস্যময় শিক্ষা
রাতের বেলা। চারদিকে শীতের কুয়াশা। উঠোনে সবাই গোল হয়ে বসেছে। শিশিরের গন্ধ মেশা বাতাসে যেন এক রহস্য লুকিয়ে আছে। মাসিমা এসে বসলেন মাঝখানে। তার হাতে এক কাপ গরম চা। কিন্তু তার চোখে আজ অন্যরকম একটা আলো।
তিনি হেসে বললেন,
“আজ তোমাদের এমন একটা গল্প শোনাব, যেটা শুধু গল্প নয়। এটা জীবনের এক মস্ত বড় সত্যি। তোমরা শুনেছ ‘The Monkey’s Paw’—বাঁদরের থাবার গল্প? না শুনলে তো আজ শোনো! তবে সাবধান! এই গল্পটা শুনলে তোমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।”
সবাই চুপ। কেউ নড়ে না। শুধু বাতাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। মাসিমা শুরু করলেন গল্প।
বাঁদরের থাবার রহস্য
এক খনি শ্রমিক একদিন তার খনিতে একটি শুকিয়ে যাওয়া বাঁদরের থাবা খুঁজে পেলেন। প্রথমে তিনি সেটিকে ফেলে দিতে চাইলেন। কিন্তু থাবাটা যেন অদ্ভুত এক আকর্ষণ করল। শ্রমিক সেটিকে বাড়ি নিয়ে এলেন।
কিছুদিন পর একজন তান্ত্রিক এলেন তার বাড়ি। তান্ত্রিক থাবাটা দেখে বললেন,
“এটা স্রেফ একটা থাবা নয়। এটা মন্ত্রপূত। এটা যা চাইবে, তা দিতে পারে। তবে সাবধান! প্রতিটি ইচ্ছার দাম দিতে হয়। আর সেই দাম ছোট হয় না!”
শ্রমিকের শরীরে শীতল স্রোত বয়ে গেল। তিনি তান্ত্রিককে তাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু থাবাটা তিনি ফেলে দিতে পারলেন না। কারণ, তার মনে হল—যদি কোনোদিন দরকার হয়?
ইচ্ছার খেলা শুরু
অনেক বছর কেটে গেল। শ্রমিক তখন বয়স্ক। তার ছেলে খনির কাজে যোগ দিয়েছে। একদিন শ্রমিক প্রবল অর্থসংকটে পড়লেন। অনেক চেষ্টা করেও কোনো উপায় পেলেন না।
এক রাতে তিনি আলমারি খুলে থাবাটা বের করলেন। যেন সেই থাবা তাকে ডাকছিল। তিনি থাবাটি ছাদে নিয়ে গেলেন। থাবাটি উঁচু করে বললেন,
“আমার এক লাখ টাকা চাই!”
তারপর সব চুপ। শুধু ঠান্ডা বাতাসের শব্দ। মুহূর্তের জন্য মনে হল, থাবাটি নড়ে উঠল। কিন্তু পরের দিন যা হল, তা শ্রমিকের কল্পনাতেও ছিল না।
ইচ্ছার ভয়ানক দাম
বিকেলে শ্রমিকের দরজায় কড়া নাড়ল খনির ম্যানেজার। তিনি বললেন,
“আপনার ছেলে খনির দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে কোম্পানি আপনাকে এক লাখ টাকা দিচ্ছে।”
শ্রমিকের হাতে টাকা এল, কিন্তু তার জীবন থেকে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি চলে গেল।
গল্পের আসল শিক্ষা
মাসিমা একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন। সবাইকে গভীর চোখে দেখে বললেন,
“জীবনে আমরা যা চাই, তা হয়তো পাই। কিন্তু তার জন্য কী দাম দিতে হয়, সেটা কি আমরা ভেবে দেখি? প্রতিটি ইচ্ছার পেছনে একটা মূল্য লুকিয়ে থাকে। আমাদের বুঝতে হবে, সেই দাম দিতে আমরা প্রস্তুত কিনা।”
তোমাদের কাছে প্রশ্ন
“তোমরা কখনো এমন কিছু চেয়েছ, যা পেতে গিয়ে বড় কিছু হারিয়েছ? তোমাদের জীবনের ইচ্ছাগুলোকে ভালোভাবে ভেবো। এমন কিছু চেয়ো না, যা তোমাকে ফাঁকা করে দেবে। এই গল্পটা তোমাদের তাই শেখায়।”
সুখ কোথায় লুকিয়ে আছে?
“সুখ কি বাইরে কোথাও? না, সুখ তোমার ভেতরে। যা তোমার আছে, তাকে গ্রহণ করো। নিজের ইচ্ছাগুলো সংযত করো। দেখবে, জীবন আপনিই সুন্দর হয়ে যাবে।”
সবাই যেন গভীর এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। কারো মুখে কথা নেই। মাসিমা হালকা হেসে বললেন,
“তোমাদের জীবনের বাঁদরের থাবা কী? আজ ভাবো। আর এই কথাটা মনে রেখো—জীবনের প্রতিটি ইচ্ছার পেছনে লুকানো দামের কথা সব সময় মনে রেখো।”
পরবর্তী গল্পের আভাস
মাসিমা উঠে দাঁড়ালেন।
“পরের বার শোনাব এমন একটা ইচ্ছার গল্প, যা এক গ্রামের পুরো ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছিল। মিস করো না!”
👉 পরবর্তী গল্প পড়তে লিঙ্কে ক্লিক করো!