Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

The Inner War: Ram vs Ravana

বন্ধুরা—

আমি আপনাদের আজ একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে চাই।

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র কী?

বোমা?
বন্দুক?
পারমাণবিক শক্তি?

না।

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র হলো—
👉 ভুল পথে চালিত জ্ঞান।

কারণ অস্ত্র শরীর ধ্বংস করে,
কিন্তু বিকৃত জ্ঞান ধ্বংস করে—
চিন্তা, বিবেক আর ভবিষ্যৎ।

এই একটিমাত্র কারণেই
একই পৃথিবীতে জন্ম নেয় রাম,
আর একই পৃথিবীতে জন্ম নেয় রাবণ

আজকের আলোচনা কোনো ধর্মীয় বক্তৃতা নয়।
আজকের আলোচনা ইতিহাস নয়।
আজকের আলোচনা mythology নয়।

আজকের আলোচনা—
👉 মানুষের ভেতরের যুদ্ধ।

এর নাম—
The Inner War: Ram vs Ravana.


🔶 Knowledge Is Power – But Neutral

আমরা খুব সহজে ধরে নিই—

“পড়াশোনা করলে মানুষ হওয়া যায়।”

কিন্তু সত্যিটা আরও গভীর—

পড়াশোনা মানুষকে শিক্ষিত করে,
কিন্তু চরিত্র মানুষকে মানবিক করে।

জ্ঞান নিজে কখনো ভালো বা খারাপ নয়।
জ্ঞান হলো শক্তি।

আর শক্তির নৈতিক দিক নির্ধারণ করে—
👉 যে মানুষের চরিত্র, যার হাতে সেই শক্তি।

একটা ছুরি দিয়ে
অপারেশন করা যায়—জীবন বাঁচে।
একই ছুরি দিয়ে
খুন করা যায়—জীবন যায়।

দোষ ছুরির নয়।
দোষ হাতে থাকা মানুষের চরিত্রের।

ঠিক তেমনই—
জ্ঞান আপনাকে দেবতাও বানাতে পারে,
দানবও বানাতে পারে।


🔶 Why Tulsidas Chose Ramcharit Manas

এই সত্যটাই বোঝানোর জন্য
তুলসীদাস তাঁর গ্রন্থের নাম রেখেছিলেন—

👉 রাম-চরিত-মানস

“রামায়ণ” নয়। কারণ “রামায়ণ” মানে রামের গল্প।
আর “রাম-চরিত-মানস” মানে—
👉 রামের চরিত্রের মন

তুলসীদাস জানতেন—

মানুষ গল্প শুনে আবেগী হয়,
কিন্তু চরিত্র বোঝে বদলায়।

রামের শক্তি তাঁর তীর-ধনুকে ছিল না।
রামের আসল শক্তি ছিল—

• ধৈর্য
• নম্রতা
• ন্যায়বোধ
• সংযম
• ক্ষমতা পেয়েও আত্মনিয়ন্ত্রণ

রাম রাজা হয়েছেন শক্তিতে,
কিন্তু “মর্যাদা পুরুষোত্তম” হয়েছেন
👉 চরিত্রে।

এই কারণেই
Ramcharit Manas পড়া মানে—

ইতিহাস শেখা নয়…
👉 চরিত্র গড়া।


🔶 Ravana: Educated but Uncultivated

এখন রামের ঠিক উল্টো দিকে দাঁড়ান—
👉 রাবণ।

তিনি ছিলেন—

• বেদজ্ঞানী
• সংস্কৃত পণ্ডিত
• অসাধারণ বুদ্ধির অধিকারী
• শিবভক্ত
• শক্তিশালী ও প্রভাবশালী

কিন্তু রাবণের সবচেয়ে বড় ভুলটা কী ছিল?

তিনি ভুলে গিয়েছিলেন—

👉 জ্ঞান যদি হৃদয়কে স্পর্শ না করে,
তাহলে সেই জ্ঞান ধ্বংস আনে।

তিনি শক্তি জানতেন,
কিন্তু সংযম জানতেন না।

তিনি মন্ত্র জানতেন,
কিন্তু মর্যাদা জানতেন না।

তিনি উপাসনার রীতি জানতেন,
কিন্তু সৎ চরিত্রের মূল্য জানতেন না।

রাবণ শাস্ত্র পড়েছিলেন,
কিন্তু শাস্ত্রকে জীবনে নামাননি।

ফলাফল?

জ্ঞান তাঁকে মানুষ করেনি—
👉 অহংকারী করেছে।

রাবণের পতন কোনো যুদ্ধে শুরু হয়নি।
রাবণের পতন শুরু হয়েছিল
তার চরিত্রের ভাঙনে


🔶 Modern Ravana: Osama Bin Laden

এখন কেউ ভাববেন না—
রাবণ শুধু পুরাণে আছে।

রাবণ আজও বেঁচে আছে।
নতুন নাম, নতুন পরিচয়ে।

তারই এক আধুনিক রূপ ছিল—
👉 ওসামা বিন লাদেন।

উচ্চশিক্ষিত।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া।
ভাষাজ্ঞ।
কৌশলী।
বিশ্ব রাজনীতিতে দক্ষ।

কিন্তু প্রশ্নটা কী?

তিনি কতটা জানতেন—
এটা নয়।

প্রশ্নটা হলো—
👉 তাঁর জ্ঞান কিসের জন্য ব্যবহার হয়েছে?

মানুষ বাঁচাতে নয়।
মানুষ মারতে।

সভ্যতা গড়তে নয়।
সভ্যতা ভাঙতে।

শিক্ষা ছিল।
বুদ্ধি ছিল।
কিন্তু চরিত্র ছিল না

এই কারণেই
লাখো নিরীহ মানুষ মারা যায়।
শহর ছাই হয়ে যায়।
পৃথিবী আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।

পুরাণের রাবণ লঙ্কায় রাজত্ব করত।
আজকের রাবণ—

• পাহাড়ের গুহায়
• বাঙ্কারের অন্ধকারে
• ক্ষমতার ছায়াঘরে
• এবং সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে—
👉 মানুষের মনের ভিতরে

কারণ রাবণ কোনো ব্যক্তি নয়।

👉 রাবণ একটি মনস্তত্ত্ব।


🔶 Why Ramayana Never Becomes Old

এই কারণেই
রামায়ণ কখনো পুরোনো হয় না।

চরিত্র বদলায়।
নাম বদলায়।
যুগ বদলায়।
পরিস্থিতি বদলায়।

কিন্তু গল্পটা একই থাকে—

👉 জ্ঞান বনাম চরিত্র
👉 রাম বনাম রাবণ

আজকের যুদ্ধ তীর-ধনুকের নয়।
আজকের যুদ্ধ অস্ত্রের নয়।

আজকের যুদ্ধ—
👉 মানুষের ভেতরে।

একজন ডাক্তার
জ্ঞান দিয়ে জীবন বাঁচায়—রাম।
আরেকজন ডাক্তার
জ্ঞান দিয়ে অবৈধ কাজ করে—রাবণ।

একজন নেতা
ক্ষমতা দিয়ে দেশ গড়ে—রাম।
আরেকজন নেতা
ক্ষমতা দিয়ে দেশ ভাঙে—রাবণ।

একই জ্ঞান।
দুই ফল।


আজ প্রশ্নটা খুব সহজ—

আপনার জ্ঞান আপনাকে
👉 কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?

রামের পথে?
নাকি রাবণের দিকে?

কারণ পড়াশোনা আপনাকে স্মার্ট বানাতে পারে।
ডিগ্রি আপনাকে শক্তিশালী বানাতে পারে।
স্কিল আপনাকে সফল বানাতে পারে।

কিন্তু—

👉 চরিত্রই আপনাকে মানুষ বানায়।

আজ পৃথিবীর সমস্যা
অশিক্ষিত মানুষের জন্য নয়।

পৃথিবীর সমস্যা
👉 চরিত্রহীন শিক্ষিত মানুষের জন্য।


তাই আজ আমি কোনো উপদেশ দিতে আসিনি।
আমি একটা অনুরোধ করতে এসেছি।

আরও জ্ঞান নয়।
আরও ডিগ্রি নয়।
আরও ক্ষমতা নয়।

👉 আরও চরিত্র।

গড়ুন নিজের চরিত্র।
গড়ুন নিজের ভিতরের রাম।

কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধ
আজও বাইরে নয়—

👉 আজও চলছে
মানুষের ভেতরের
রাম আর রাবণের যুদ্ধ।

আর মনে রাখবেন—

যেদিন আপনার ভেতরের রাম জিতে যাবে,
সেদিন পৃথিবীর আর কোনো রাবণ
আপনাকে হারাতে পারবে না।

The Inner War: Ram vs Ravana
এই যুদ্ধটা—
👉 জিততেই হবে।