Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Samudra Manthan-6B

সমুদ্র মন্থন :অমৃতের আগে কেন বিষ ওঠে


একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।

আপনি কি কখনও খেয়াল করেছেন—
মিটিংয়ে,
পরিবারে,
অথবা অফিস–সংগঠনে—

সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা
খুব কম ক্ষেত্রেই হয়
বুদ্ধির অভাবে।

বেশিরভাগ সময় ক্ষতি হয়
👉 নিয়ন্ত্রণহীন আবেগের কারণে।

রাগ।
অহংকার।
ভয়।
অসুরক্ষা।

বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও
মানুষ তখন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।


এখন একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করি—

👉 যদি আমি বলি,
আজকের AI–চালিত দুনিয়ার
সবচেয়ে শক্তিশালী leadership lessons
লুকিয়ে আছে
একটা প্রাচীন ভারতীয় গল্পের ভেতরে—

ধর্ম হিসেবে নয়।
পুরাণ হিসেবে নয়।

বরং
👉 মানুষের মনের মনস্তত্ত্ব হিসেবে।


🌊 গল্প : সমুদ্র মন্থন

হাজার হাজার বছর আগে
একটা গল্প বলা হয়েছিল।

সমুদ্র মন্থনের গল্প।

দেবতা আর অসুর—
দু’টি বিপরীত শক্তি—
একসঙ্গে কাজ করেছিল
সমুদ্র মন্থন করতে।

কেন?

কারণ তারা চেয়েছিল—
👉 অমৃত
👉 দেবী লক্ষ্মী—সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্য।

চূড়ান্ত প্রাপ্তি।

Sounds familiar?

আজকের ভাষায় আমরা একে বলি—

  • Project success
  • Innovation
  • Market leadership
  • Breakthrough results

কিন্তু গল্পের একটা অংশ আমরা প্রায় ভুলে যাই।


☠️ হলাহল বিষ : মন্থনের প্রথম ফল

যখন সমুদ্র মন্থন শুরু হলো—

👉 প্রথমে অমৃত বেরোল না।

প্রথমে বেরোল
👉 হলাহল বিষ

এতটাই ভয়ংকর
যে পুরো সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যেতে পারত।

এখানে একটু থামুন।

এটা কি আজকের দুনিয়ায় হয় না?

যখনই—

নতুন প্রজেক্ট শুরু হয়
কোনো transformation শুরু হয়
পরিবর্তন আনা হয়

👉 প্রথমেই কী উঠে আসে?

conflict.।
দোষারোপ।
রাজনীতি।
অভিযোগ।
অহংকার।
Negative গল্প।

এটাই আজকের
👉 organizational হলাহল


🔱 নীলকণ্ঠ শিবের আগমন

সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়লো।

তখন সবাই গেল
ভগবান শিবের কাছে—
ত্রিমূর্তির একজন প্রধান দেবতা।

এখন খুব মন দিয়ে শুনুন।

শিব কী করলেন?

❌ তিনি বিষ গিলে ফেললেন না।
❌ তিনি বিষ ছুড়ে ফেলেও দিলেন না।

👉 তিনি বিষটা নিজের কণ্ঠে ধরে রাখলেন।

এই কারণেই
তিনি হলেন—
👉 নীলকণ্ঠ

এটা কোনো মিথ নয়।

এটা হলো
👉 Emotional Regulation–এর সর্বোচ্চ রূপ।


🧠 আধুনিক ব্যাখ্যা : কর্পোরেট দুনিয়া

এবার এই গল্পটা
আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় এনে দেখি।

একটা নতুন প্রজেক্ট শুরু হলো।

কিছুদিনের মধ্যেই—

দলগুলোর মধ্যে conflicts।
Department বনাম department।
ভিন্ন ভিন্ন priorities.
ভিন্ন ভিন্ন অহংকার।
ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা।

তারপর কী হয়?

সবাই ছুটে যায়
top লিডারের কাছে—

GM।
MD।
CEO।

একজন কথা বলে।
তারপর আরেকজন।

এই পুরো প্রক্রিয়াটাই হলো—
👉 মন্থন

দু’টো বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি।
দু’টো আলাদা ব্যাখ্যা।
দু’টো সংঘর্ষরত গল্প।

আর ঠিক সমুদ্র মন্থনের মতোই—

☠️ আগে উঠে আসে বিষ।

“ওদের intention ঠিক না।”
“ওরা সবসময় বাধা দেয়।”
“ওরা নিজের স্বার্থ দেখে।”
“ওদের জন্যই কাজ আটকে আছে।”

ধীরে ধীরে, চুপিচুপি—
কিছু মানুষ
লিডারের কানে বিষ ঢালতে শুরু করে।

তথ্য নয়।
মতামত।
ধারণা।
অর্ধসত্য।

মানুষ সম্পর্কে।
টিম সম্পর্কে।
উদ্দেশ্য সম্পর্কে।
ভুল সম্পর্কে।


এখানে একটু থামুন।

এই মুহূর্তেই—

👉 আসল লিডারশিপ শুরু হয়।

কারণ এখন লিডারের সামনে
তিনটা রাস্তা খোলা।

আর কোনটা তিনি নেবেন—
তার ওপরই নির্ভর করে
পুরো সংগঠনের ভবিষ্যৎ।


❌ OPTION ১ : বিষ গিলে ফেলা

👉 একপেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া
একজনের কথা শুনেই
পুরো গল্পটা বুঝে নেওয়া।
অন্য দিকটা শোনার আগেই
রায় ঘোষণা করে দেওয়া।

ফল?

টক্সিক সিদ্ধান্ত।
ভাঙা টিম।
নষ্ট সংস্কৃতি।

বিষ ভেতরে ঢুকে
ধীরে ধীরে সিস্টেম মেরে ফেলে।


❌ OPTION ২ : বিষ ছুড়ে ফেলা

কনফ্লিক্ট এড়িয়ে যাওয়া।
বলা— “ছেড়ে দাও, এগিয়ে চলো।”

ফল?

অমীমাংসিত টেনশন।
চুপচাপ জমে থাকা ক্ষোভ।
ইনোভেশন নিঃশব্দে মরে যায়।

বিষ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।


✅ OPTION ৩ : শিব হওয়া

🔵 বিষটা ধরে রাখা।

ভেতরে নেওয়া নয়।
বাইরে ছড়ানোও নয়।

শুধু সচেতনভাবে ধরে রাখা।

শোনা।
দেখা।
অপেক্ষা করা।

আবেগ ঠান্ডা হতে দেওয়া।

এই “ধরে রাখার” পর্যায়টাই
আসল লিডারশিপ।


যখন একজন লিডার
বিষ ধরে রাখতে পারেন

তিনি বিপরীত মত শোনেন,
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে রিঅ্যাক্ট করেন না।

তিনি সব কথা যাচাই করেন
কে কী বলছে,
কেন বলছে,
আর কোন আবেগ থেকে বলছে।

এই পর্যায়ে—

আইডিয়াগুলো সংঘর্ষে আসে।
মতভেদ তৈরি হয়।
দৃষ্টিভঙ্গির টানাপোড়েন হয়।

কিন্তু সবকিছুই ঘটে
👉 নিরাপদ সীমার ভেতরে

কেউ অপমানিত হয় না।

কাউকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয় না।
কেউ ভয় পায় না কথা বলতে।


আজকের AI–এর যুগে—

যেখানে
intelligence is cheap,
speed is everywhere,
and automation is limitless—

সবচেয়ে দুর্লভ স্কিল
IQ নয়।

👉 Emotional Regulation।Emotional Intelligence.

ভবিষ্যৎ তাদেরই—

যারা বলতে পারে—

আমি বিষ শুনতে পারি, listen & accept negativity

কিন্তু তাকে
আমার সিদ্ধান্ত ঠিক করতে দেব না।


মনে রাখবেন—

শিব নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন
শক্তির জন্য নয়।

তিনি নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন
👉 স্থিরতার জন্য।

যখন পুরো বিশ্ব মন্থিত হচ্ছিল,
যখন ভয়, শব্দ আর বিষ উঠছিল—

তিনি রিঅ্যাক্ট করেননি।
তিনি রেগুলেট করেছিলেন।

তিনি মন্থন থামাননি।
তিনি কনফ্লিক্ট চাপা দেননি।
তিনি শুধু বিষটা ধরে রেখেছিলেন।

আর সেটাই
সমুদ্র মন্থনের আসল শিক্ষা।

👉 অমৃতের আগে
হলাহল বিষ উঠবেই।

👉 কনফ্লিক্ট ব্যর্থতা নয়—
সৃষ্টি প্রক্রিয়ার অংশ।

আর জয়ী হয় সে নয়
যে সবচেয়ে জোরে চিৎকার করে,
সবচেয়ে দ্রুত দৌড়ায়,
বা সবচেয়ে আক্রমণাত্মক—

জয়ী হয় সে
👉 যে শান্ত থাকতে পারে
যখন সবাই রিঅ্যাক্ট করছে।

কারণ—

শব্দ, গতি আর সংঘর্ষে ভরা দুনিয়ায়—

🔵 শান্তিই নতুন শক্তি।

ধন্যবাদ।