ইতিহাসের অন্দরমহল থেকে মুর্শিদাবাদ ফিরে দেখা
🎙️ বন্ধুরা,
📍 আজ আবার আমরা হাজির হয়েছি আমাদের প্রিয় ধারাবাহিক “মুর্শিদাবাদ“ এর নবম পর্বে।
কিন্তু আজকের পর্বটা একটু অন্যরকম। একটু গভীর, একটু তীব্র।
👉 আজ আমি আপনাদের শোনাব রবার্ট ক্লাইভ – মুর্শিদাবাদের সেই “খলনায়ক“ এর গল্প।
তবে একেবারে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে… এমনভাবে, যা আপনি আগে কোথাও শুনেননি!
🔍 আজ আমরা প্রশ্ন করবো, খুঁটিয়ে দেখবো…
কিন্তু শুধুই অভিযোগ নয়, বরং বুঝে নেবো ক্লাইভকে নতুন করে।
📚 আজকের পর্ব – নবম পর্ব:
🔥 “খলনায়ক নাকি কৌশলী? এক নতুন চোখে রবার্ট ক্লাইভ“
🎯 আজ আমরা জানবো:
✅ কে ছিলেন এই রবার্ট ক্লাইভ?
✅ মুর্শিদাবাদের সঙ্গে তার সম্পর্কটা কেমন ছিল?
✅ ব্রিটিশ শাসনের ছায়া কি মুর্শিদাবাদের কপালে চিরকালীন অন্ধকার লিখে গেল?
✅ এবং সবশেষে… কী শেখা যায় রবার্ট ক্লাইভের জীবন থেকে?
🚶♂️ বন্ধুরা, তাহলে আর দেরি কিসের?
চলুন, আজ আমরা একসাথে বেরিয়ে পড়ি এই জটিল চরিত্রের মুখোমুখি হতে।
কারণ ইতিহাস মানে শুধু অতীত নয় —
ইতিহাস মানে আমাদের শিক্ষা,
যেখানে আমরা বুঝি—
কোথায় ঠিক করেছিলাম, কোথায় ভুল,
আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই খুঁজে পাই ভবিষ্যতের দিশা।
🧭 About রবার্ট ক্লাইভ –

রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন প্রভাবশালী সেনানায়ক ও ঔপনিবেশিক কূটনীতিক।
⚔️ জন্ম ১৭২৫ সালে, ইংল্যান্ডের স্টাইচ-এ। মৃত্যু ১৭৭৪।
তাঁর নাম জড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রে — পলাশীর যুদ্ধ।
১৭৫৭ সালে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে, তিনি শুধু এক রাজ্য দখল করেননি —
তিনি একটি সভ্যতা, একটি সংস্কৃতি, এবং এক বিশাল ভূখণ্ডের ভবিষ্যতও বদলে দেন।
এই যুদ্ধের ফলেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষে তার শাসনের ভিত্তি শক্ত করে তোলে।
🎭 কেউ বলেন, তিনি ছিলেন কৌশলী প্রশাসক।
❌ আবার কেউ বলেন, তিনি ইতিহাসের অন্যতম ‘খলনায়ক’।
তবে একথা অস্বীকার করা যায় না —
রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন সেই দরজা, যার হাত ধরে উপনিবেশবাদের ঝড় ঢুকে পড়েছিল বাংলায়।
🎬 জন্ম ও ছেলেবেলা —
১৭২৫ সালের এক শীতল সকালে, ইংল্যান্ডের স্ট্রোপশায়ার জেলার স্টাইচ শহরে জন্ম নেয় এক শিশু—
যার নাম পরে কাঁপিয়ে দেবে এক পুরো সভ্যতা।
তার নাম – রবার্ট ক্লাইভ।
পিতা রিচার্ড ক্লাইভ ছিলেন একজন প্রভাবশালী আইনজীবী ও সংসদ সদস্য।
১৩ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিল সে—
তবু যেন পরিবার কখনও শান্তি পায়নি তার আচরণে।
👦 ছেলেবেলার বেশিরভাগ সময় কেটেছে ম্যানচেস্টারে খালার বাড়িতে।
কিন্তু ছোট থেকেই ক্লাইভ ছিল এক কথায় উচ্ছৃঙ্খল, জেদি, আর কখনো-কখনো হিংস্র।
বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে গঠন করে একপ্রকার চাঁদাবাজ দলের মতো গ্যাং,
যারা দোকানদারদের হুমকি দিয়ে আদায় করত টাকা!
📚 ৯ বছর বয়সে খালার মৃত্যু হলে ক্লাইভ ফিরে আসে বাবার কাছে।
ভর্তি হয় মার্কেট ডেইটন স্কুলে।
কিন্তু শিক্ষা বা শৃঙ্খলার সঙ্গে তার কোনো সন্ধি হয়নি।
একটার পর একটা স্কুল থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
শেষ চেষ্টা হিসেবে তাকে পাঠানো হয় লন্ডনের Marchant Taylors School-এ—
কিন্তু সেখানেও ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
⚠️ এই অস্থির, নিয়মভাঙা শৈশবই যেন গড়ে তুলছিল
এক এমন মানুষ, যার ছায়া একদিন ঢেকে দেবে বাংলার আকাশ।
এক খলনায়ক— যার কলম নয়, বন্দুকেই লেখা ছিল ভবিষ্যৎ।
📜 একটি অস্থির শৈশব থেকে উপনিবেশবাদের দরজায় প্রবেশ
যখন ক্লাইভের পরিবার আর কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না,
তখন তার পিতা—রিচার্ড ক্লাইভ,
নিজের পরিচিতদের মাধ্যমে তাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কেরানির চাকরি জোগাড় করে দেন।
🧭 সেই সময় ইংল্যান্ডে প্রচলিত ছিল এক অলিখিত নিয়ম—
“অবাধ্য ছেলেকে পাঠাও ভারতে, ভাগ্য বদলাতে।”
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখন শুধু বাণিজ্য নয়, ছিল এক বিশাল সাম্রাজ্য গঠনের প্ল্যাটফর্ম।
📍 কোম্পানির হেডকোয়ার্টার ছিল লন্ডনের East India House-এ।
সেখান থেকে ১৭৪৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে,
রবার্ট ক্লাইভ পাড়ি দিলেন এক দূর, অজানা দেশে – ভারতবর্ষে।
তার গন্তব্য: মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি (আজকের চেন্নাই)।
পদবি – ‘Writer’, অর্থাৎ এক সাধারণ হিসাবনিকাশ রাখা কেরানি।
🎙️ কিন্তু বন্ধুরা, ক্লাইভ কেরানি হতে ভারতে আসেনি…
তার চোখে ছিল যুদ্ধের আগুন, আর মনে ছিল এক লোভ—
ক্ষমতা দখলের, ইতিহাস লেখার, আর এক জাতিকে শাসন করার।
🎬 ক্লার্ক টু কমান্ডার –
📍 মাদ্রাজ, ভারতবর্ষ – ১৭৪৩ সাল।
রবার্ট ক্লাইভ তখন এক সাধারণ কেরানি।
দিনভর বসে থাকতেন কোম্পানির অফিসে –
হাতে কাগজ, চোখে হিসাব, আর মনে গভীর অস্থিরতা।
🎙️
কিন্তু ক্লাইভ অফিসের দেয়ালে বন্দি হতে আসেনি।
তার হৃদয়ে বাজত যুদ্ধের ঢোল।
সে চেয়েছিল সম্মান, প্রতাপ, আর— নিয়ন্ত্রণ।
⚔️ বন্দিত্ব ও পালানোর নাটকীয় গল্প
কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতে শুরু হয় কর্নাটকের যুদ্ধ।
একদিন ফরাসিরা আক্রমণ করে বসে।
ক্লাইভ বন্দি হন।
😮
কিন্তু এখানেই শুরু তার কাহিনির মোড়।
একজন স্থানীয় লোকের ছদ্মবেশে ক্লাইভ পালিয়ে যান পন্ডিচেরি থেকে, পৌঁছান সেন্ট ডেভিড দুর্গে।
🎙️
এটা ছিল তার প্রথম যুদ্ধজয় — বন্দিত্ব নয়, আত্মরক্ষা নয়—
বরং ভাগ্যকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
🪖 কেরানি নয়, এবার সৈনিক
১৭৪৮ সালে ক্লাইভ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কেরানির চাকরি ছেড়ে দেন।
যোগ দেন সেনাবাহিনীতে –
একেবারে সর্বনিম্ন পদে — একজন “commissioned officer” হিসেবে।
👨✈️
তখনকার দৃষ্টিতে, এটা ছিল যেন
“লজ্জা থেকে পালিয়ে বীরত্বে ঢুকে পড়া”।
কিন্তু ক্লাইভের মধ্যে ছিল আগুন, ছিল উগ্র আত্মবিশ্বাস।
🏰 দেবীকোট দুর্গ অভিযান — একক নেতৃত্বে বিজয়

এক মারাঠা নেতার বিরুদ্ধে অভিযানে ক্লাইভ একদম অগ্রভাগে থেকে আক্রমণ চালান।
বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে দেবীকোট দুর্গ দখল করেন।
তার এই সাহসিকতা প্রশংসা পেলেও, কেউ কেউ একে বলল হঠকারিতা।
🎙️
কিন্তু ইতিহাস মনে রাখল—
“এই ক্লাইভ-ই ছিল সেই ব্যক্তি, যে নিজের হাতে ইতিহাস লিখতে চেয়েছিল — বন্দুকের কালি দিয়ে।”
🌑 আর্কট অভিযান — রাতের অন্ধকারে চালাক আক্রমণ
এরপর ক্লাইভ ভাঙে প্রচলিত সামরিক নিয়ম।
রাতের আঁধারে নওয়াবের দুর্গে অভিযান চালান,
এমনভাবে, যেন ছায়া হয়ে ঢুকে পড়েন শত্রুর ঘরে।
বিনা রক্তপাতে সিপাহিরা পালিয়ে যায়।
⚠️
এই ক্লাইভ ছিল বেপরোয়া, দুঃসাহসী আর হিসেবি—
একজন নিখুঁত খলনায়কের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গড়ে ওঠা মানুষ।
🏆 ফেরৎ ইংল্যান্ডে – জয়জয়কার
১৭৫৩ সালে ক্লাইভ ইংল্যান্ডে ফিরে গেলে,
তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয় কোম্পানির কর্তা-ব্যক্তিরা।
“জেনারেল ক্লাইভ” নামে ডাকতে শুরু করে সবাই।
কোর্ট অব ডাইরেক্টর্স উপহার দেয় রত্নখচিত তরবারি।
🎙️“এক সময়ের উচ্ছৃঙ্খল, বহিষ্কৃত ছাত্র
এখন সাম্রাজ্য গঠনের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি।”
🎯 কিন্তু প্রশ্ন হলো বন্ধুরা—
এই ক্লাইভ কি শুধুই এক সাহসী যোদ্ধা?
নাকি সে ছিল উপনিবেশবাদের আগমনী দূত?
যে ধীরে ধীরে তৈরি করছিল এমন এক নীলনকশা—
যার পরিণামে বাংলার রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সব কেঁপে উঠবে?
“প্রতিটি খলনায়কেরও থাকে এক ভাঙা অধ্যায়।
রবার্ট ক্লাইভেরও ছিল।”
🏛️ জননেতা হওয়ার ব্যর্থ স্বপ্ন

রাজনীতির মঞ্চে পা রাখার স্বপ্ন দেখেছিলেন রবার্ট ক্লাইভ।
সামরিক বিজয়ের গর্বে ভরপুর ক্লাইভ ভেবেছিলেন—
এবার হয়তো জনতার নেতা হয়ে উঠবেন।
🎩 তাই সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে তিনি ফিরে গেলেন ইংল্যান্ডে,
নাম লেখালেন পার্লামেন্ট নির্বাচনে।
চাইলেন সংসদের আসন,
চাইলেন মানুষের মঞ্চে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে।
কিন্তু…
📉 রাজনীতি তাকে গ্রহণ করল না।
পার্লামেন্টে তিনি হেরে গেলেন,
আর সেই পরাজয় যেন তার অহংকারে লাগাল প্রথম ফাটল।
🎙️
যে মানুষ যুদ্ধ জিতে রাজ্য দখল করেছিল,
সে কিনা পরাজিত হল ভোটের বাক্সে!
এ যেন বিজয়ীর পরাজয়— নিজের দেশের মাটিতে।
💸 অসামাজিক জীবন ও অপচয়ের গল্প
রাজনীতিতে ব্যর্থতা…
আর তার সঙ্গে মিলিয়ে চলল অপচয়, ভোগবিলাস, আত্ম-অহংকার।
🥃 বিলাসবহুল জীবনযাপন, অবাধ খরচ, অসংযত আচরণ—
মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই হারিয়ে গেল তার উপার্জিত সব ধনসম্পদ।
🎙️এ ছিল সেই সময়, যখন একজন বিজয়ীর ভেতরে জন্ম নিচ্ছিল এক পরাজিত মানুষ।
✈️ হতাশা থেকে নতুন করে ভাগ্য খোঁজার যাত্রা
💔 জীবনে হতাশ, সামাজিকভাবে বিছিন্ন, আর অর্থহীনতার অন্ধকারে তলিয়ে গিয়ে
ক্লাইভ আবার ফিরে এল—
ভারতে, মাদ্রাজে।
বছরটা ছিল ১৭৫৫।
কিন্তু এবার সে ফিরল আরেক পরিচয়ে—
ব্রিটিশ সরকারের তরফে “East Indies only” অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট কর্নেল।
⚔️ দক্ষিণে ফরাসি আগ্রাসনের সময়ে ফিরে আসা
এই সময়, ফরাসিরা দক্ষিণ ভারতে নিজের প্রভাব বাড়াচ্ছে।
নিজাম, অর্থাৎ হায়দরাবাদের শাসক, ফরাসিদের সঙ্গে জোট বাঁধছে।
📍 ডিসেম্বর ১৭৫৫: নিজাম ফরাসিদের হাতে তুলে দেন উড়িষ্যার পুরি ও কৃষ্ণা নদীর মোহনার মধ্যবর্তী এক গুরুত্বপূর্ণ জেলা।
এক কৌশলী সাম্রাজ্য গড়ার চক্রান্ত তখন জ্বলছে দক্ষিণে।
🎙️
“এবার ক্লাইভকে দেওয়া হল দায়িত্ব—
নিজামকে শিক্ষা দেওয়ার।
আর ক্লাইভ জানত— শিক্ষা কিভাবে দিতে হয়, ধ্বংসের ছায়া ফেলে।”
💥 গেরিয়া দুর্গ অভিযান – অতর্কিত আঘাত
ফেব্রুয়ারি ১৭৫৬:
ক্লাইভ কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই হানা দিলেন নিজামের গেরিয়া দুর্গে।
একটি শক্তিশালী দুর্গ—যেখানে ফরাসি ও নিজাম উভয়ের যৌথ ক্ষমতা জমা ছিল।
⚔️
কিন্তু ক্লাইভ আবারও প্রমাণ করলেন—
তিনি হামলার আগে আলোচনা করেন না।
তিনি শুধু আঘাত করেন, আর তারপর ইতিহাস লিখে যান।
🤝 মারাঠাদের সঙ্গে জোট
এই অভিযানের পর, কূটনৈতিক চালে
ক্লাইভ মারাঠাদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন।
এটা ছিল এমন এক সময়, যখন ইংরেজ, ফরাসি, মারাঠা—
সবার চোখই ছিল বঙ্গ ও বিহারের সম্পদের উপর।
🎯 এই প্রত্যাবর্তনই তৈরি করল পরবর্তী মঞ্চ—
যেখানে ক্লাইভ নামবেন পলাশীর ষড়যন্ত্রে,
আর বাংলার ইতিহাস পাবে তার সবচেয়ে কালো অধ্যায়।
📚 বন্ধুরা, এই ছিল এক ব্যর্থতা থেকে ফিরে আসার নির্মম সত্য।
এটা আমাদের শেখায়—
শত্রু যদি পিছিয়ে যায়, ভাববেন না সে হেরে গেছে।
হয়তো সে ফিরে আসবে… আরও শক্তি নিয়ে, আরও ধ্বংস ডেকে আনতে।
🎯 দ্বিতীয় শিক্ষা: যদি আপনি এমন কোনো কাজে নামেন, যা আপনার জন্য নয়, তাহলে ব্যর্থতা নিশ্চিত।
রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন এক যোদ্ধা, ষড়যন্ত্রকারী, রণনেতা।
তিনি কেরানি হতে পারেননি, রাজনীতিবিদ তো আরও নয়।
👉 রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন এক যোদ্ধা।
রণনীতি, সামরিক দাপট, এবং চাতুর্য ছিল তার রক্তে।
কিন্তু যখন তিনি নিজের মূল চরিত্র ভুলে
রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখলেন— তিনি ভেঙে পড়লেন।
🎙️
কারণ, মানুষ যা হয়ে জন্মেছে,
যার জন্য তার মন-দেহ তৈরি,
যখন সে সেটা ছেড়ে অন্য ভূমিকায় অভিনয় করতে যায়—
তখন সে নিজেকেই হারিয়ে ফেলে।
🔁
“Don’t switch your battlefield… unless your soul calls you.”
নিজের প্রকৃত পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যদি কিছু করতে চান,
সেটা হয়তো শুরুতে জয় মনে হবে,
কিন্তু শেষটা হবেই— গভীর এক পরাজয়।
🛑 He failed. Completely failed.
Not because he was weak.
But because he was walking someone else’s path.
🔥 তৃতীয় শিক্ষা: অহংকার, লোভ আর ক্ষমতার লালসা— শেষ পর্যন্ত মানুষকেই ধ্বংস করে।
📜
তিনি পলাশীর যুদ্ধ জিতেছিলেন।
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন।
আর তার পর বাংলার রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি— সবকিছুই কব্জা করেছিলেন…
কিন্তু এই বিজয় ছিল না সম্মানজনক, ছিল না ন্যায়সঙ্গত।
এই ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল—
বিশ্বাসঘাতকতা, স্বার্থপরতা আর নোংরা চুক্তির এক অন্ধকার নীলনকশা।
🎙️
❝ক্লাইভ জয় পেয়েছিলেন ঠিক,
কিন্তু সেই জয়ে ছিল এক জাতির আত্মসমর্পণ,
আর এক খলনায়কের চাতুর্যের ছায়া।
কিন্তু…
সবকিছুর পরেও তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি— নিজের অহংকারের আগুন থেকে।
💰 বাংলার অগাধ সম্পদ তার সামনে খুলে দিয়েছিল এক দুর্নীতির দরজা।
📦 তিনি বিলিয়ন পাউন্ডের মতো সম্পদ লুট করে ইংল্যান্ডে ফিরলেন,
কিন্তু এই সম্পদই হয়ে উঠল তার চরিত্র বিনাশের অস্ত্র।
🎙️
তিনি হয়ে উঠলেন উদ্ধত, লোভী, আত্মবিশ্বাসে অন্ধ।
অবশেষে তার বিরুদ্ধে উঠল দুর্নীতির অভিযোগ,
এক সময় যাকে ইংরেজরাই “জেনারেল ক্লাইভ” বলে মাথায় তুলেছিল,সেই মানুষকেই একদিন দেশের পার্লামেন্টে জেরা করা হল—
একজন চোর, একজন ডাকাত, একজন বিশ্বাসঘাতকের মতো।
🎙️❝He didn’t just lose money or position…
He lost his honour.
⚖️অভিযোগ উঠল দুর্নীতির, ক্ষমতার অপব্যবহারের, লুটপাটের।
সন্মান, যেটা যুদ্ধ করে অর্জন করেছিলেন,
তা গলে গলে পড়ে গেল লোকজনের ঘৃণার আগুনে।
🕯️ শেষে কী হল?
🔪 মানসিক অবসাদে ভুগে রবার্ট ক্লাইভ আত্মহত্যা করেন ১৭৭৪ সালে।
যে মানুষ এক সময় ইতিহাস গড়েছিলেন,
শেষে তিনি নিজেই নিজের জীবন থেকে পালিয়ে গেলেন…
🧠 এই শিক্ষা আমাদের জন্য অমূল্য—
❝লোভ যত বড়ই হোক,
ক্ষমতা যত চুম্বকের মতো টানে,
যদি আত্মা খালি থাকে…
শেষটা শুধু নিঃসঙ্গতা, অনুশোচনা আর পতন।❞
💰পয়সা তো যে কেউ কামিয়ে নিতে পারে।
একজন চোর, একজন ডাকাত, এমনকি একজন বিশ্বাসঘাতকও একদিন ধনসম্পত্তির মালিক হতে পারে।
তারা বিল্ডিং বানাতে পারে, গাড়ি কিনতে পারে,
কিন্তু…
🧭 সম্মান?
সম্মান টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
সম্মান অর্জন করতে হয় — সত্য, চরিত্র আর আত্মত্যাগ দিয়ে।
🎙️ বন্ধুরা,
সময় এসেছে ইতিহাস শুধু জানার জন্য নয় —
তার থেকে শেখার, আর শেখাটা নিজের জীবনে প্রয়োগ করার।
আর এটাই সবচেয়ে জরুরি।
“কারণ ইতিহাস তখনই মূল্যবান,
যখন তা আমরা কেবল জানি না—বুঝি,
আর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কাজে লাগাই।
আবার দেখা হবে…
আমাদের পরবর্তী পর্বে —
বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…