ইতিহাসের অন্দরমহল থেকে মুর্শিদাবাদ ফিরে দেখা
বন্ধুরা… কথা দিয়েছিলাম…
📍 আবার ফিরে আসব মুর্শিদাবাদের ইতিহাসের সেই অজানা অলিগলিতে,
যেখানে গঙ্গার ধারে জেগে আছে এক বিস্মৃত রাজপথ,
যার প্রতিটা ধুলোবালিতে মিশে আছে বাংলার অহংকার।
💫 আজ সেই প্রতীক্ষিত চতুর্থ অধ্যায় নিয়ে আমি আবার হাজির…
আজ আবার আমরা হাঁটতে শুরু করেছি সেই রাজপথে —
যেখানে ধুলোবালির মধ্যেই লুকিয়ে আছে ইতিহাসের স্পন্দন।
মুর্শিদাবাদের প্রতিটি ইঁট যেন ফিসফিসিয়ে বলে—
“আমি ছিলাম, আমি দেখেছি… সব।”
📜 আজকের পর্ব – চতুর্থ
আর আজ…
আমরা ঢুকে পড়বো এক বেদনাবিধুর অধ্যায়ে—
এক রাজাধিরাজের বিদায়,
আর তার পরেই বাংলার বুকে দোল খাওয়া এক রাজনৈতিক ঝড়।
🔥 আজকের গল্পে জানবো —
✅ ১৭২৭ সালে মুর্শিদ কুলি খাঁর মৃত্যুর পর ঠিক কী ঘটেছিল?
✅ কে হয়েছিলেন তার উত্তরসূরি?
✅ কীভাবে শুরু হয়েছিল বাংলার নবাবি শাসনের অন্তর্দ্বন্দ্ব?
✅ আর সেই সিংহাসন যুদ্ধ কেমনভাবে বদলে দিল বাংলার ভবিষ্যতের দিগন্ত?
🕰️ চলুন… সময়ের চাকা ঘুরিয়ে ফিরে যাই সেই ইতিহাসঘেরা সন্ধিক্ষণে।
তাহলে আর দেরি কেন?
📍 ১৭২৭ সাল।
গঙ্গার তীরে বসে থাকা এক শহর — মুর্শিদাবাদ।
হঠাৎ এক খবরে কেঁপে উঠল গোটা বাংলার প্রশাসনিক স্তম্ভ —
মুর্শিদ কুলি খাঁ আর নেই।
🎙️যে মানুষটা দিল্লির মুঘল দরবারের চোখে বাংলার “নবাব” হয়ে উঠেছিলেন,যিনি ভাগীরথীর পাড়ে গড়ে তুলেছিলেন বাংলার অর্থনৈতিক রাজধানী,যার দক্ষতা, শৃঙ্খলা, আর অর্থনৈতিক সংস্কারে বদলে গিয়েছিল গোটা বাংলা —
আজ তাঁর মৃত্যু মানে শুধু এক ব্যক্তির অবসান নয়,
একটি যুগের পরিসমাপ্তি।
আজ তাঁর শূন্যতা যেন আকাশ ফাঁড়া শোকগাথা।
⚰️সেদিন গঙ্গার হাওয়ায় কেমন একটা নীরবতা ছিল,
পাখিরাও যেন থেমে গিয়েছিল,
আর দূর থেকে ভেসে আসছিল কাশিমবাজারের মন্দির-মসজিদের মিলিত ঘন্টার ধ্বনি—
যেন একটা যুগ নিজেই মাথা নিচু করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
👑 কিন্তু বন্ধুরা, মৃত্যু কখনও একা আসে না…
তার সাথে আসে প্রশ্ন, উত্তেজনা, যুদ্ধের পূর্বাভাস।
📜 প্রশ্ন.কে হবেন উত্তরসূরি?
কার হাতে উঠবে বাংলার নবাবি গদি সেই সিংহাসন?
কেউ ভাবতেও পারেনি, এই মৃত্যু হবে বাংলার রাজনীতির এক নতুন রক্তাক্ত অধ্যায়ের শুরু।
🧔 সরফরাজ খাঁ, মুর্শিদ কুলির নিজের নাতি, যাঁকে তিনি নিজের জীবদ্দশায়ই উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেছিলেন—
তিনিই এবার নবাবি গদিতে/সিংহাসনে বসেন।
কিন্তু…
👤 অন্দরমহলে জমতে থাকল ষড়যন্ত্র,
রাজপথে জন্ম নিল চাপা অসন্তোষ।
কেউ মানতে পারল না এই সহজ উত্তরাধিকার।
মুর্শিদ কুলি খাঁর মৃত্যু হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতির এক অদৃশ্য অগ্নিপরীক্ষা।
👑 সরফরাজ খাঁ নবাব হলেন ঠিকই…
কিন্তু অভিজ্ঞতায় ছিলেন কাঁচা।
দরবারে সদিচ্ছা ছিল, কিন্তু অভিজ্ঞান ছিল না।
আর ঠিক তখনই—
🌩️ চারপাশে জমতে লাগল ঘনঘোর রাজনীতির মেঘ।
আর সেই মেঘের আড়াল থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল এক নীরব ঝড়…
এক চরিত্র, যিনি বদলে দেবেন বাংলার ভাগ্য।
🌪️ তাঁর নাম – আলীবর্দী খাঁ
👤 কিন্তু কে ছিলেন এই আলীবর্দী খাঁ?
🧬 জন্ম ও বংশপরিচয়:
১৬৭১ সাল, দক্ষিণ ভারতের দাক্ষিণাত্যে জন্ম হয় তাঁর।
পিতা মির্জা মুহাম্মদ শাহ কুলি খান মাদানি, ছিলেন আওরঙ্গজেবের দুধ-ভাইয়ের বংশধর।
মাতার গোত্র আফশার তুর্কি, যাঁদের পূর্বপুরুষ খোরাসানে বাস করতেন।
🎓 ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিদীপ্ত, সাহসী, এবং শিক্ষিত।
কিন্তু ভাগ্য সহজ ছিল না।
অসংখ্য যুদ্ধ, চক্রান্ত আর দুঃসাহসিক পথে হেঁটে নিজেকে তৈরি করেছিলেন তিনি।
🛡️ ক্ষমতা লাভ ও শাসনকাল:
১৭৪০ সাল — ইতিহাস ঘুরে দাঁড়ায়।
গিরিয়া যুদ্ধ —
এক অগ্নিপরীক্ষায় সরফরাজ খাঁকে হারিয়ে
নবাব হন আলীবর্দী খাঁ।
🎯 এর মাধ্যমে নাসিরি বংশের অবসান ঘটলো।
আর শুরু হল এক নতুন অধ্যায় —
আফশার বংশের প্রতিষ্ঠা।
পরবর্তীতে ১৭৪১ সালে ফুলওয়ারিওন যুদ্ধে ওড়িশার ডেপুটি গভর্নর রুস্তম জংকে পরাজিত করে ওড়িশা দখল করেন।
🎖️ সে যাত্রা ছিল না সহজ…
❝আলীবর্দী জানতেন —
তলোয়ারে শাসন চলে, কিন্তু হৃদয়ে রাজত্ব করতে হয়।
তিনি শুধু সেনানায়ক ছিলেন না, ছিলেন বাংলার স্থিতির এক স্তম্ভ।❞
📌 বন্ধুরা,
আজকের পর্ব এখানেই শেষ নয়…
কারণ পরবর্তী পর্বে আসছে —
🔥 মারাঠা আক্রমণ
🔥 বাংলার পর পর দুর্ভিক্ষ
🔥 সিরাজের উত্থান
🔥 পলাশীর ষড়যন্ত্রের ছায়া…
📢 শেষের কথা:
“এক নবাবের বিদায় মানেই নতুন ইতিহাসের সূচনা।
আর সেই সূচনাতেই ছিল বাংলার ভাগ্যলিপির রূপান্তর…”
▶️ [পরবর্তী পর্বে…]
আমার মুর্শিদাবাদ – পর্ব ৫: “আলীবর্দী খাঁর ভয়ঙ্কর লড়াই – মারাঠা হানার বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধ!”