ইতিহাসের অন্দরমহল থেকে মুর্শিদাবাদ ফিরে দেখা
বন্ধুরা… কথা দিয়েছিলাম…
আবার ফিরে আসব ইতিহাসের সেই অজানা অলিগলিতে,
যেখানে গঙ্গার ধারে জেগে আছে এক বিস্মৃত রাজপথ,
যার প্রতিটা ধুলোবালিতে মিশে আছে বাংলার অহংকার।
💫 আজ সেই প্রতীক্ষিত ৩য় অধ্যায় নিয়ে আমি আবার হাজির…
📚 গত পর্বে জেনেছিলাম—
✅ কীভাবে মুকসুদাবাদ রূপান্তরিত হয়েছিল মুর্শিদাবাদে?
✅ কে ছিলেন এই মুর্শিদ কুলি খাঁ— যার নামেই গড়ে উঠেছিল এই ঐতিহাসিক শহর?
🔥 কিন্তু আজকের গল্পে…
আমরা ঢুকে পড়বো এক অন্তিম অধ্যায়ে—
🕯️ বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর শেষ সময়,
⚰️ তাঁর মৃত্যু,
“মৃত্যু… সে কারও বন্ধু নয়, শত্রুও নয়।
সে এক চিরন্তন সত্য—
যে নিঃশব্দে হাঁটে… ধীরে ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে…
এগিয়ে আসে একদিন,
আর কেড়ে নিয়ে যায় সবাইকে তার অদৃশ্য কোলে।
নবাব হোক বা ফকির, সৈনিক হোক বা সম্রাট—
তার কাছে কেউই অমর নয়।
আর এই নির্মম সত্যটাকেই মুর্শিদ কুলি খাঁ বুঝেছিলেন, মানতেন,
এবং প্রস্তুত হয়েছিলেন… এক রাজপুরুষের মতো।
⏳ সাল ১৭২৭
🌆 গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা রাজপ্রাসাদে শুরু হয়েছে উত্তেজনা,
👑 রাজা শয্যাশায়ী…
🕌 এই অংশটা বলতে বলতে আমার গলা আজও কাঁপে…
মুর্শিদ কুলি খাঁ নিজেই বেছে নিয়েছিলেন নিজের কবরের জায়গা…
📜 তিনি আদেশ দিলেন—
“আমার মৃত্যুর পর, আমাকে কাটরা মসজিদের গেটের ঠিক নিচে কবর দেবে।
যেন আমি মৃত্যুর পরেও সবার সেবক হয়ে থাকি।
যেন শতশত মানুষ, যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, আমার কবরের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে…
আমি সেই পায়ের ধূলাতেই মুক্তি খুঁজবো।”
🔥 বন্ধুরা…
এটাই ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছা।
এটাই ছিল এক নবাবের আত্মবিসর্জন।
⚰️ তাঁর মৃত্যুর পর, নবাবের আদেশ মতো,
তাঁকে সমাহিত করা হয় কাটরা মসজিদের প্রবেশপথের নিচে।
📍 আজও, আপনি যদি কাটরা মসজিদের গেট দিয়ে ঢোকেন,
পায়ের নিচে চোখ রাখলেই দেখবেন—
একটি সমাধি,
যার গায়ে লেখা:
“নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ — বাংলার সেবক।”
🛕 কিন্তু বন্ধুরা… গল্প এখানেই শেষ নয়।
ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে—
একটি ছোট্ট, নির্জন, অথচ গভীর অর্থবাহী হিন্দু মন্দির।
কেউ বলে এটি শিবমন্দির,
আবার কেউ বলে—
এটি সেই শিশুপুত্র সুভদ্র-র স্মৃতিচিহ্ন,
যিনি একদিন হিন্দু ব্রাহ্মণ ছিলেন,
আর পরে ইসলাম গ্রহণ করে হয়ে উঠেছিলেন নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ।
🕊️ ইসলাম গ্রহণের পরও,
তিনি তাঁর শিকড়কে কখনও ভুলে যাননি।
তিনি ঘৃণা শেখাননি—
বরং শিখিয়েছেন সহাবস্থান, সম্প্রীতি, আর মানবতার ধর্ম।
🌸 একটি নবাবি মসজিদ,
🌺 একটি সাধারণ হিন্দু মন্দির,
⚖️ আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে— একজন মানুষ,
যিনি ধর্মকে নয়, মানবতাকে বেছে নিয়েছিলেন।
🕊️
তিনিই প্রথম আমাদের শিখিয়েছিলেন —
“মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম — হিন্দু-মুসলমান।
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।”
💫 এটাই মুর্শিদাবাদের আত্মা।
এটাই সেই অদৃশ্য আলো, যেটা যুগে যুগে দেখিয়েছে —
ধর্ম যদি হয় নদীর দুই কূল,
তবে ভালোবাসা সেই স্রোত যা দু’কূলকেই ছুঁয়ে বয়ে চলে।
💭 বন্ধুরা…
আজ আমরা গর্ব করে বলি— “আমরা বাঙালি”
কিন্তু সেই গর্বের প্রাসাদ যদি সত্যিকারের দেখতে চান,
তাহলে একবার চোখে চোখ রাখুন কাতরা মসজিদের গেটের নিচে—
🔍 পাথরের ওপর খোদাই করা সেই ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে বলুন:
“এই ছিল আমাদের বাংলার প্রথম নবাব…
যিনি মৃত্যুর পরেও সবার পায়ের নিচে শুয়ে সেবক রয়ে গেলেন।”
❤️ আমি সেই মুর্শিদাবাদ দেখেছি…
যেখানে মহরমের তাজিয়া আর দুর্গাপুজোর সিঁদুর খেলা একসাথে বয়ে চলে।
যেখানে ঈদের দিন হিন্দু ভাইরা নবাবি সেমাই খায়,
আর পুজোর সন্ধিপুজোয় মুসলিম বন্ধু জুতো খুলে হিন্দু-মুসলিম একসাথে দাঁড়ায়।
👁️ আমি নিজের চোখে দেখেছি—
ভালোবাসার, সহাবস্থানের, আর গভীর সম্প্রীতির এক অনন্য জেলা — মুর্শিদাবাদ।
🙇♂️ এখানে মানুষ আগে মানুষ,
ধর্ম, জাত, ভাষা— সবটাই আসে অনেক পরে।
দেশের নানা প্রান্তে ঘুরেছি,
বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে থেকেছি,
কিন্তু মুর্শিদাবাদের মত এমন নিদর্শন— খুব কম দেখেছি।
এই মাটির প্রতিটি ধূলিকণা আজও বলে —
“❝ এখানে বিভাজন নয়, মিলনের ইতিহাস লেখা থাকে। ❞”
💔 কিন্তু… আজ যখন শুনি…বা চোখে পড়ে খবরের পাতায়…
ধর্ম আর জাতির নামে
মুর্শিদাবাদ জেলাকে ভাঙার পরিকল্পনা চলছে…
✊ তখন বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে।
ধর্মের নামে মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে,
👣 বিভেদের অদৃশ্য দেয়াল গড়ে উঠছে,
রক্তে ভিজছে সেই মাটি,
যে মাটি একদিন বলেছিল—
“মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম…”
📣 বন্ধুরা…
আপনার কণ্ঠই হোক আগামী ইতিহাসের রক্ষাকবচ।
বলুন… লিখুন… দাঁড়ান—
কারণ যদি আজ আমরা না বলি,
তবে কাল এই ইতিহাস আমাদের গলা চেপে ধরবে।
🎬 “মুর্শিদাবাদ – বিভাজন নয়, মিলনের প্রতীক।
এটা শুধু এক জেলা নয়,
এটা এক উত্তরাধিকার। এক আদর্শ। এক আত্মা।”
বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…