Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Murshidabad-series-11

🎙️ বন্ধুরা,
📍 আবার আমরা হাজির হয়েছি আমাদের প্রিয় ধারাবাহিক “মুর্শিদাবাদ”-এর একাদশ (১১তম) পর্বে

আজকের পর্বটা একটু অস্বস্তিকর — কারণ আজ প্রশ্ন উঠবে আমাদের শেখা ইতিহাস নিয়ে। আজ আমরা গল্প শুনতে আসিনি, বরং প্রশ্ন করতে এসেছি। প্রশ্ন — যা ভিত নাড়িয়ে দেবে।

🎙️ পর্বের নাম:

👉 “আমরা কি সঠিক ইতিহাস পড়েছি, নাকি আমাদের ভুল শেখানো হয়েছে?”

🎯 আজকের পর্বে আপনি জানতে চলেছেন:

📜 প্রথম :
নবাব সিরাজউদ্দৌলা —

যাঁর নামেই আজ মুর্শিদাবাদের ট্যুরিজম চলে,
সেই নবাবের নিজস্ব প্রাসাদ ‘হীরাঝিল’ কোথায়?

🏰 কেন সেই রাজপ্রাসাদ আজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে?
কেন সংরক্ষণ করা হয়নি?

🗡️ কেন তাঁর তলোয়ার নেই, নেই পোশাক, নেই এমনকি একটিও আসল স্মৃতিচিহ্ন?

🖼️ শুধু কিছু ছবি আর গল্প আমাদের হাতে —
কিন্তু সেগুলোও কি আসল?
না কি সেগুলোও সাজানো বা ম্যানিপুলেটেড?

👉 আপনি কি মনে করেন এটা কাকতালীয়?
নাকি এটা পরিকল্পিত
সিরাজের নাম, অস্তিত্ব, অবদান, স্বপ্নসব কিছু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত?


📜 দ্বিতীয় :

নবাব সিরাজউদ্দৌলা মারা যান ১৭৫৭ সালে,
কিন্তু…
👉 তার মৃত্যুর পরেও,
তাঁর প্রিয় বেগম লুৎফুন্নিসা কাটালেন পুরো ৩০ বছর
ঠিক সেই খোশবাগেই,
যেখানে তাঁর স্বামীর কবর!

কেন?

⛓️ লুৎফুন্নিসা কি বন্দিনী ছিলেন?
না কি ইচ্ছাকৃত নির্বাসনে গিয়েছিলেন স্বামীর স্মৃতির পাশে?

কেন তিনি অন্য কোথাও যাননি?

💔 এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বার করুন
কারণ
ইতিহাস মানে শুধু যা লেখা আছে তাই নয়, ইতিহাস মানে যা চাপা পড়ে আছে তা খুঁজে বার করাও।


🎬🚶‍♂️ তাহলে চলুন… শুরু করা যাক আজকের পর্ব!
একটা পর্ব নয় — এক টুকরো গহীন অনুসন্ধান।
📜 আমরা যাচ্ছি সেই ইতিহাসের পাতা উল্টাতে,
যা আমাদের শিখিয়েছে মুখস্থ করতে,
কিন্তু প্রশ্ন করতে শেখায়নি।

একবার চিন্তা করুন।


🎙️ “পলাশীর যুদ্ধের পর কী হয়েছিল?”

পলাশীর যুদ্ধের পর পতন হয়েছিল কেবল এক নবাবের নয়
পতন হয়েছিল বিশ্বাসের, সাহসের, আর ইতিহাসের সততার।

🔪 মীরজাফর এবং তার পুত্র মীরন, ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিরাজকে শুধু হত্যা করেনি
তারা বাংলার বুক থেকে সিরাজের সমস্ত স্মৃতি, সমস্ত অবদান, এমনকি তার গড়ে তোলা সৌন্দর্যহীরাঝিল প্রাসাদ পর্যন্ত মুছে দিতে চেয়েছিল।

তারা জানত
👉
সিরাজ বেঁচে নেই ঠিকই, কিন্তু যদি তার প্রতি ভালোবাসা থেকে যায় জনগণের মনে,
তাহলে একদিন না একদিন বিদ্রোহ হবেই।

🧠 তাই শুরু হল এক সুপরিকল্পিত মিথ্যার চক্রান্ত।
একজন তরুণ, আবেগী, আত্মবিশ্বাসী শাসককে বানিয়ে তোলা হল
এক উচ্ছৃঙ্খল, নিষ্ঠুর, নারীলোভী, অহংকারী এবং দুশ্চরিত্র শাসক!

💥 হীরাঝিল ছিল সিরাজের স্বপ্নসেই স্বপ্নকেও ধ্বংস করে দেওয়া হল, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তাকে মনে না রাখে।


কিন্তু প্রশ্ন উঠবেই

কেন? কেন এমন অপপ্রচার?

👉 কারণ, মীরজাফররা নিজের বিশ্বাসঘাতকতাকেন্যায়সঙ্গতপ্রমাণ করতে চেয়েছিল।
তারা চেয়েছিল জনগণকে বোঝাতে
🔊 “
আমরাই নাকি জনগণের স্বার্থে সিরাজকে সরিয়েছি!”

তারা ভেবেছিল জনগণকে বোকা বানানো যাবে,
তারা ভেবেছিলইতিহাসকে manipulate করে সত্যকে গলা টিপে মেরে ফেলা যাবে।

কিন্তু

🧠 সত্যকে চাপা রাখা যায়, মুছে ফেলা যায় না।

📢 আজ সেই সত্য আমাদের জানতেই হবে। ইতিহাসকে শুধরে নিতে হবে।

👉 এই ইতিহাস শুধু পড়ার জন্য নয়, বোঝার জন্য।
কারণ ইতিহাস না জানলে, বিশ্বাসঘাতকরা আবার ফিরে আসে — শুধু মুখোশ বদলে।

🎙️ বন্ধুরা, একবার গভীরভাবে ভাবুন…
নিজের বিবেক, যুক্তি আর হৃদয়ের অনুভূতি দিয়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করুন .এমনভাবে নয়
❌ কে কী বলছে সেটা নয়,
✅ আপনি কী অনুভব করছেন — সেটাই আসল।


🔵 প্রশ্ন নম্বর :
ধরুন, আপনার স্বামী ছিলেন দুশ্চরিত্র, নিষ্ঠুর, নারীলোভী, বহুবিবাহে আসক্ত একজন মানুষ। তার মৃত্যু হয়েছে ।

❓ এখন বলুন —
আপনি কি সেই দুশ্চরিত্র মানুষের প্রতি অনন্তকাল ভালোবাসা দেখিয়ে, একা, নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়ে দেবেন মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত? স্বামীর মৃত্যুর পরের ৩০ বছর?

❗ মনে রাখবেন — আপনি চাইলে আপনার ভবিষ্যৎ বদলাতে পারতেন।
রাজপুরুষদের বিয়ে করতে পারতেন, আরামে জীবন কাটাতে পারতেন।

তবু আপনি যদি—
নিজের সমস্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগ, আর বিশ্বাস নিয়ে
একজন মৃত মানুষের কবর
তাঁর স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে তিন দশক পেরিয়ে দেন…

তাহলে একটিবারও কি প্রশ্ন জাগে না মনে?

👉 সে কি সত্যিই ছিল একজন ‘দুশ্চরিত্র’, ‘নারীলোভী’, নিষ্ঠুর পুরুষ?
👉 নাকি আমরা তার গল্পটা শুনেছি শুধু বিশ্বাসঘাতকদের মুখ থেকে?

📜 ইতিহাস যদি শুধু বিজয়ীর লেখা হয়,
তাহলে পরাজিতের চোখের জল কে লিখে দেবে?

🔵 প্রশ্ন নম্বর :

🎙️ আপনি কি কখনও মুর্শিদাবাদ ঘুরে দেখেছেন?
যে শহরের প্রতিটি ইট, প্রতিটি মোড়, প্রতিটি অলিগলিতে লুকিয়ে আছে শতাব্দীর ইতিহাসরাজপ্রাসাদ, মসজিদ সবই সাক্ষী।

তাহলে বলুন তো
কোথায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্মৃতি?

🏰 আপনি কি খেয়াল করেছেন?
যে নবাবের মৃত্যু নিয়ে আজও এত বিতর্ক, যাকে ঘিরে শত শত কাহিনি
তার নিজের গড়ে তোলা প্রাসাদহীরাঝিলআজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত।
ভেঙে গেছে, ভাঙনের জলে ডুবে গেছে,
তার অস্তিত্বের শেষ চিহ্নটুকুও আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

🗡️ কোথায় Siraj-এর তলোয়ার?
কোথায় তার পোশাক, আসবাব, নথি?
কিছুই নেই।

📷 শুধু কয়েকটা ছবি আর গল্প
তাও আমরা জানি নাসত্যি, নাকি পূর্ব পরিকল্পিত অপপ্রচার!


তাহলে প্রশ্ন উঠবেই
এমন কেন?

যার নামেই মুর্শিদাবাদের ট্যুরিজম ব্যবসা চলছে,
তার স্মৃতিগুলোই এত অযত্নে পড়ে থাকে কেন?

👉 আপনি কি মনে করেন এটা কাকতালীয়?
নাকি এটা পরিকল্পিত অপচেষ্টা
সিরাজের নাম, অস্তিত্ব, অবদান, স্বপ্নসব কিছু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত?


💔 এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বার করুননিজেকে জিজ্ঞেস করে।
কারণ
ইতিহাস মানে শুধু যা লেখা আছে তাই নয়, ইতিহাস মানে যা চাপা পড়ে আছে তা খুঁজে বার করাও।

🎬 That’s all for today, বন্ধুরা!
📚 ইতিহাসের আরেকটা পাতার ধুলো আমরা ঝেড়ে ফেললাম —
কিন্তু সামনে আরও অনেক পাতা খুলে দেওয়ার বাকি!

📍 See you in the next episode

ন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…