Learning from লেজকাটা শেয়ালের গল্প
বন্ধুরা…
গত এপিসোডে কথা দিয়েছিলাম—আমি আবার ফিরে আসব।
কিন্তু শুধু ফিরে আসার জন্য নয়…
ফিরে আসব দারুণ কিছু নিয়ে।
কারণ কিছু গল্প শেষ হয়েও শেষ হয় না।
কিছু গল্প সময়ের সাথে সাথে আরও গভীর হয়।
👉 লেজকাটা শেয়ালের গল্প
তাদের মধ্যেই অন্যতম।
আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে যাচ্ছি—
আমার নিজের জীবনের সবচেয়ে গভীর অভিজ্ঞতাগুলো,
সেই দিনগুলো,
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
আমার Self Realization।
এটা কোনো motivational speeches নয়।
এটা কোনো বানানো গল্পও নয়।
এটা সেই বাস্তব শিক্ষা—
যা আমার চিন্তাভাবনাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল,
যা আমার জীবনের direction পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।
👉 কীভাবে এই লেজকাটা শেয়ালের গল্প
আমাকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছিল,
👉 কীভাবে আমি বুঝতে শিখেছিলাম
👉 আর তারপর কীভাবে আমার জীবনে একটার পর একটা ঘটনা ঘটতে শুরু করেছিল—
সবকিছু আজ একেবারে খোলাখুলি বলব।
আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি—
এত simple storytelling-এর মধ্যে
এত solid, powerful learning
আপনি আগে খুব কমই পেয়েছেন।
তাই অনুরোধ একটাই—
👉 একটু patience রাখুন,
👉 পুরো গল্পটা মন দিয়ে পড়ুন।
কারণ এই গল্পটা হয়তো আমার জীবনের,
কিন্তু এর শিক্ষা আপনার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
চলুন তাহলে শুরু করি…
লেজকাটা শেয়ালের গল্প আমাকে বারবার একটা কথাই শিখিয়েছে—
👉 অনুকরণ আর অনুসরণের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে।
বিদেশি knowledge ,concepts ,advanced theories থাকবেই। মহান গুরুদের দর্শন ,directions,উপদেশ — এগুলো অমূল্য সম্পদ। কিন্তু এগুলোকে অন্ধভাবে অনুকরণ করলে নিজেকে হারিয়ে ফেলা খুবই সহজ।
আজকের দুনিয়ায় অনেকেই জ্ঞান ধার করে, কিন্তু চিন্তা ধার করে না। ফলাফল? একই কথা, একই ভাবনা, একই ভিড়। সবাই একই লেজ কেটে ফেলে— আর পরে বুঝতে পারে, লেজ ছাড়া দৌড়ানো কত কঠিন।
সবার কাছ থেকে শেখো। কিন্তু কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করো না।
এর মানে এই নয় যে কেউ একটা পথ দেখালেই চোখ বুজে তার পিছনে হাঁটতে শুরু করবে। হতে পারে, তোমার পথটা সম্পূর্ণ আলাদা। হতে পারে, সেই পথে খুব কম মানুষই হেঁটেছে। কখনও কখনও তো এমনও হয়— যে পথে এখনও কেউ পা রাখেনি।
কিন্তু হাঁটো। মন থেকে হাঁটো। নিজের অন্তরের আলোয় হাঁটো।
তবে মনে রেখো— এর মানে এই নয় যে চোখ-কান বন্ধ করে, দিশাহীন হয়ে, পাগলের মতো ছুটতে হবে। না, একদম না।
শেখা মানে চোখ খোলা রাখা। শেখা মানে প্রশ্ন করা। শেখা মানে গ্রহণ করা— কিন্তু পরখ করে, বিচার করে।
যে পথে হাঁটছো, সেটা যেন তোমার নিজের পথ হয়। অন্যের পায়ের ছাপ অনুসরণ করো— কিন্তু নিজের পায়ের ছাপ রেখে যাও।
লেজকাটা শেয়ালের গল্পটা শেষ হয় না। এটা প্রতিদিন আমাদের সামনে নতুন রূপে আসে। আর প্রতিবার জিজ্ঞেস করে—
তুমি কি লেজ কাটছো অন্যের দেখাদেখি? নাকি লেজ রেখে নিজের পথে হাঁটছো?
আমি তখন ভীষণ কনফিউজড। মনের ভিতর একটা ঝড় চলছিল—প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল বারবার:
👉 আমি কি গীতা, মহাভারত, উপনিষদ—এই ভারতীয় জ্ঞানগ্রন্থগুলো পড়ব?
👉 নাকি সরাসরি ইংরেজি সেল্ফ-হেল্প বই—যেগুলো কর্পোরেট লাইফের সঙ্গে এত সহজে কানেক্ট করে?
👉 না কি ভারতীয় লেখকদের ম্যানেজমেন্ট বই—যেগুলো আমাদের মাটির কাছাকাছি, কিন্তু গভীরতা নিয়ে মনে সংশয়?
অনেক ভারতীয় গুরুজনের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি গীতা পড়া শুরু করলাম।
কিন্তু কিছুদিন পরই একটা বড় সমস্যা দেখা দিল। আমি পড়ছিলাম… কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না। আর যেটুকু বুঝছিলাম, সেটাকে আমার দৈনন্দিন কর্পোরেট লাইফের দ্বন্দ্ব, সিদ্ধান্ত, চাপের সঙ্গে জুড়তে পারছিলাম না। শব্দগুলো গভীর, অসীম—কিন্তু আমার জীবনের সঙ্গে যেন Dot গুলো মিলছিল না। মনে হচ্ছিল, এটা অন্য যুগের, অন্য জগতের।
তখন আবার প্রশ্ন উঠল—
👉 তাহলে কি ফিরে যাব ইংরেজি সেল্ফ-হেল্প বইয়ে? যেগুলো সরাসরি বলে দেয়—“এইভাবে ভাবো, এইভাবে করো, এইভাবে সফল হও”?
👉 নাকি ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট বইয়ে—যেখানে উদাহরণ দেশি, ভাষা পরিচিত, কিন্তু গভীরতা কি সত্যিই যথেষ্ট?
আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না—কোনটা আসল পথ, আর কোনটা শুধু শর্টকাট।
ঠিক তখনই মনে পড়ল একটা সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গভীর কথা—
👉 “যে বোঝে, সে খোঁজে। আর যে খোঁজে, সে পায়।”
আমি খোঁজা শুরু করলাম। কিন্তু কোনো একটা পথকে আঁকড়ে ধরে নয়।
আমি বুঝলাম—সমস্যা বইয়ে নয়, সমস্যা ছিল আমার পড়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে।
তাই আমি গীতা পড়লাম—ধর্মগ্রন্থ হিসেবে নয়, বরং একটা শক্তিশালী Decision-Making Framework হিসেবে। ইংরেজি সেল্ফ-হেল্প পড়লাম—কিন্তু অন্ধভাবে নয়, নিজের বাস্তবতার ফিল্টার দিয়ে পরখ করে।
ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট বই পড়লাম—শুধু কনসেপ্ট নয়, তার পেছনের গভীর দর্শন ধরার চেষ্টা করে।
আর তখনই যেন একটা আলো জ্বলে উঠল!
আমি আমার নিজের পথ খুঁজে পেলাম। একটা পথ—যেখানে পূর্ব আর পাশ্চাত্য লড়াই করে না, বরং একে অন্যকে সম্পূর্ণ করে।
সেদিন থেকে বুঝেছি—
সঠিক বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সঠিক চোখ—সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ পথ কখনো বাইরে থাকে না। পথ তৈরি হয় ভেতরের বোঝাপড়া থেকে, নিজের অন্তরের আলোয়।
আপনার জীবনেও কি এমন কোনো কনফিউশনের মুহূর্ত এসেছে—
যেখানে দুটো পথের মাঝে দাঁড়িয়ে হারিয়ে গিয়েছেন?
আর কীভাবে সেই অন্ধকার থেকে নিজের আলো খুঁজে পেয়েছেন?
শেয়ার করুন… কারণ আমরা সবাই একে অপরের গল্প থেকে নিজের পথের আলো পাই। 😊