Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Kaliyuga’s Most Dangerous Mask-1

কলিযুগের সবচেয়ে ভয়ংকর মুখোশ


চলুন, একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।

আজকের দুনিয়ায় সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষটা কে?

যে রেগে যায়?
যে চেঁচায়?
যে হুমকি দেয়?

না।

সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষটা সে—
যে খুব মিষ্টি করে কথা বলে,
কিন্তু যার আচরণে করুণা নেই।

যার মুখের কথা শুনে বোঝার কোনো উপায় নেই—
তার মনের ভেতরে কী চলছে,
আর সুযোগ পেলেই সে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

এই মানুষটা চেঁচায় না।
হুমকিও দেয় না।
সে হাসে।
ভদ্রতা দেখায়।
ঠিক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে।

আর ঠিক তখনই—
যখন আপনি সবচেয়ে নিশ্চিন্ত,
সে তার আসল রূপ দেখায়।

এই সত্যটা আমরা আজ নতুন করে শিখিনি।

হাজার হাজার বছর আগেই
শ্রীকৃষ্ণ আমাদের এই সতর্কবার্তাই দিয়ে গিয়েছিলেন—

👉 শুধু কথায় নয়, মানুষকে বিচার করো তার আচরণে।

শুনতে অবাক লাগছে?

চলুন, তাহলে একটু বিস্তারিতভাবে খুলে বলি।


Mahabharata Linkage

একদিন ভীম, অর্জুন, নকুল আর সহদেব—
চার ভাই একসঙ্গে এসে উপস্থিত হলেন শ্রীকৃষ্ণ–এর কাছে।
(সেই সময় ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।)

চার ভাইয়ের চোখে ছিল এক অদ্ভুত অস্থিরতা।
যেন তারা বুঝে গিয়েছিল—
যুদ্ধ শেষ হয়েছে ঠিকই,
কিন্তু সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ এখনো শুরু বাকি।

তারা প্রণাম করে বললেন—

“হে মাধব,
কলিযুগ দ্রুত এগিয়ে আসছে।
আমাদের বলুন—
সে যুগ কেমন হবে?”

শ্রীকৃষ্ণ মৃদু হেসে উঠলেন।
সে হাসিতে ছিল আশ্বাস,
আবার গভীর এক সতর্কবার্তাও।

তিনি বললেন—

“আমি শুধু তোমাদের কলিযুগের কথা বলব না।
আমি তোমাদের কলিযুগ দেখাবো

কিন্তু তার আগে—
তোমাদের একটি কাজ করতে হবে।”

এই বলে শ্রীকৃষ্ণ চার দিকের দিকে
পরপর চারটি তীর নিক্ষেপ করলেন।

চারটি তীর ছুটে গেল চারদিকে—
চার দিক,
চার সময়,
চারটি ভিন্ন ভবিষ্যতের পথে।

তারপর শ্রীকৃষ্ণ বললেন—

“তোমরা চারজন চার দিক থেকে
একটি করে তীর এনে দাও।
আর যেখানে তীরটি পড়বে,
সেখানে যা কিছু অদ্ভুত, বিস্ময়কর
অথবা ভয়ংকর দৃশ্য দেখবে—
সবকিছু আমাকে এসে জানাবে।”

এই কথা শুনে
ভীম, অর্জুন, নকুল আর সহদেব
চারদিকে রওনা দিলেন—

সময়কে জানতে,
ভবিষ্যৎকে ছুঁতে,
আর কলিযুগকে চোখে দেখার জন্য।


🏹 প্রথম তীর — অর্জুন যা দেখলেন

অর্জুন দ্রুত ঘোড়ায় চড়ে
প্রথম তীরটির পেছনে ছুটলেন।

কিছুদূর যেতেই তিনি তীরটি খুঁজে পেলেন।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই
তার কান ভরে উঠল এক অপার্থিব সুরে।

একটি অতিমধুর গান 🎶
এত সুন্দর—
যেন স্বর্গের কোনো রাগিনী।

অর্জুন উৎস খুঁজে সামনে তাকালেন।

তিনি যা দেখলেন—
তাতে তার রক্ত হিম হয়ে গেল।

👉 একটি কোকিল পাখি
👉 সুমিষ্ট কণ্ঠে গান গাইছে
👉 কিন্তু তার নখে ধরা একটি জীবন্ত খরগোশ

আরও ভয়ংকর ছিল এই—

গান গাওয়ার ফাঁকেই
কোকিলটি
খরগোশটির দেহ থেকে
মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে।

খরগোশটি তখনও জীবিত।
চোখে আতঙ্ক।
দেহে অসহ্য যন্ত্রণা।
কিন্তু মুখে কোনো ভাষা নেই।

অর্জুন স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।

এ কেমন জগৎ?
এ কেমন নিষ্ঠুরতা—
যেখানে সুর আছে, কিন্তু করুণা নেই?

তিনি তীরটি তুলে নিয়ে
নীরবে ফিরে এলেন শ্রীকৃষ্ণের কাছে।


অর্জুন তার দেখা দৃশ্য বর্ণনা করলেন।
সব শোনার পর শ্রীকৃষ্ণ মৃদু হাসলেন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন—

“এটাই কলিযুগের প্রথম ও সবচেয়ে ভয়ংকর চিহ্ন।

কলিযুগে বহু মানুষ থাকবে
যারা কোকিলের মতো মিষ্টি কথা বলবে।
তাদের ভাষা হবে সুন্দর।
তাদের বাণী হবে মনোহর।
তাদের মুখে থাকবে ধর্ম, জ্ঞান আর মানবতার কথা।

কিন্তু ভেতরে ভেতরে—
তারা নিজের অনুসারীদেরই
শোষণ করবে।
ব্যবহার করবে।
ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেবে।

মানুষ তাদের কথা শুনে মুগ্ধ হবে,
কিন্তু বুঝতে পারবে না—
গানের আড়ালে
তার জীবন থেকেই
মাংস ছিঁড়ে নেওয়া হচ্ছে।

কলিযুগে বিপদ আসবে না
হিংস্র পশুর বেশে।

বিপদ আসবে
মিষ্টি কণ্ঠে,
সুন্দর কথায়,
আর সাধুতার মুখোশ পরে।

স্মরণ রেখো অর্জুন—
যেখানে কথা খুব সুন্দর,
কিন্তু আচরণে করুণা নেই—
সেখানেই কলিযুগ শুরু।


🌍 আধুনিক যুগের বাস্তব চিত্র

এখন একটু চোখ বন্ধ করে
আজকের দুনিয়ার দিকে তাকান।

আজ কোকিল আর জঙ্গলে নেই।
আজ কোকিল—

মঞ্চে দাঁড়ায়।
স্ক্রিনে কথা বলে।
পোস্ট লেখে।
মোটিভেশন দেয়।


Once upon a time—Gurmeet Ram Rahim Singh নামে এক গুরু ছিলেন Rohtak অঞ্চলে।

বাইরে থেকে দেখলে—
সবকিছুই ছিল নিখুঁত।

লক্ষ লক্ষ অনুসারী।
হাজার হাজার মানুষের ভিড়।
বিশাল মঞ্চ।
ক্যামেরার আলো।
তালির শব্দ।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলতেন—

ভালোবাসার কথা।
সেবার কথা।
নৈতিকতার কথা।
নারী-সম্মানের কথা।
মানবতার বড় বড় কথা।

তার কণ্ঠ ছিল শান্ত।
ভাষা ছিল নরম।
হাসিটা ছিল এমন—
যেন এই মানুষটার ভেতরে
এক ফোঁটাও অন্ধকার নেই।

মানুষ বিশ্বাস করেছিল।
মানুষ মাথা নত করেছিল।
মানুষ চোখ বন্ধ করে ভেবেছিল—

“এ তো সাধারণ মানুষ নয়…
এ তো দেবতুল্য!”

কিন্তু ইতিহাস আমাদের একটাই শিক্ষা দেয়—

সময় কাউকে ছাড় দেয় না।
সময় ধীরে হাঁটে,
কিন্তু সত্যকে সে লুকোতে দেয় না।

একদিন…
পরতের পর পরত খুলে যেতে লাগল।

তখন দেখা গেল—

👉 মুখে ছিল মধুর গান,
কিন্তু হৃদয়ে ছিল করুণা নয়, হিসাব।

👉 বাইরে ছিল ধর্মের ভাষা,
কিন্তু ভেতরে ছিল ক্ষমতার নেশা।

👉 মঞ্চে ছিল মানবতার লেকচার,
কিন্তু আড়ালে ছিল নিষ্ঠুরতা।

👉 দুর্বল মানুষ ছিল অনুসারী নয়,
ছিল ব্যবহারযোগ্য সম্পদ।

👉 বিশ্বাস ছিল ভক্তির নামে,
আর শোষণ ছিল সেই বিশ্বাসের দাম।

ঠিক তখনই মানুষ বুঝতে পারল—

এ মানুষ চেঁচায়নি।
হুমকি দেয়নি।
রাগ দেখায়নি।

সে হেসেছে।
ভদ্র থেকেছে।
আর সুযোগের অপেক্ষা করেছে।

ঠিক সেই কোকিল।

মিষ্টি কণ্ঠে গান,
কিন্তু নখের মধ্যে ধরা জীবন্ত খরগোশ।

এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ।

কারণ—
যে আঘাত চিৎকার করে আসে,
তাকে এড়ানো যায়।

কিন্তু যে আঘাত
হাসতে হাসতে আসে,
ধর্মের মুখোশ পরে আসে,
ভালোবাসার ভাষায় আসে—

👉 সেই আঘাতই জীবন থেকে
নিঃশব্দে মাংস ছিঁড়ে নিয়ে যায়।

শ্রীকৃষ্ণ তাই বলেছিলেন—

মানুষের কথা শুনে নয়,
তার আচরণ দেখেই তাকে চিনো।

কারণ
কলিযুগে বিপদ আসে না হিংস্র রূপে।

কলিযুগে বিপদ আসে—
মিষ্টি কণ্ঠে।


🏢 আধুনিক কর্পোরেট বাস্তবতা

আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায়
এই কোকিলটাকে আমরা হামেশাই দেখি
নাম বদলেছে,
কিন্তু চরিত্রটা একদম একই।

সে দাঁড়িয়ে কথা বলে
চকচকে প্রেজেন্টেশনে,
টাউনহলে,
লিঙ্কডইনের পোস্টে,
এনগেজমেন্ট সার্ভেতে—

“People are our greatest asset.”
“We are one family.”
“Employee well-being is our top priority.”

শব্দগুলো শুনলে মনে হয়—
গীতা পড়া হচ্ছে।
কৃষ্ণ নিজে যেন কর্পোরেট স্লাইড বানিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু একটু থামুন।
বাস্তবতাটা একবার দেখুন।

বাস্তবে আমরা কী দেখি?

👉 Overwork এখানে culture।
👉 Overtime without extra payment—“normal expectation”।
👉 Burnout-এর নতুন নাম দেওয়া হয়েছে—commitment
👉 Exhaustion-কে বলা হয়—passion
👉 Silence is rewarded.
👉 Questions are tagged as “attitude problem”।
👉 Ethics ধীরে ধীরে slide করে—targets-এর চাপে।

কেউ কথা বললে বলে—
“Not a culture fit.”

কেউ প্রশ্ন করলে বলা হয়—
“Not leadership material.”

কথা মধুর।
ভাষা নরম।
PowerPoint সুন্দর।

কিন্তু নখের মধ্যে ধরা আছে—
মানুষের সময়,
মানুষের স্বাস্থ্য,
আর মানুষের আত্মসম্মান

ঠিক সেই কোকিল।
মিষ্টি গান চলছে।
খরগোশ নিঃশব্দে ক্ষয় হচ্ছে।

📖 গীতা একে কী বলে?

👉 ধর্মের ভাষায় অধর্ম।
👉 Adharma with a Dharmic vocabulary.

কারণ—
ধর্ম মানে শুধু সুন্দর কথা নয়।
ধর্ম মানে আচরণ।

যেখানে মানুষের মর্যাদা নেই,
সেখানে যত সুন্দর শব্দই থাকুক—
তা ধর্ম নয়, মুখোশ।

এটাই আধুনিক কর্পোরেট কলিযুগ।
চেঁচানো শত্রু নয়।
হাসতে থাকা কোকিলই আসল বিপদ।