Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

KFC Founder -Sanders Life Story

জীবন যখন দেয় লেবু, তখন লেবুর শরবত বানাও!


জীবন কি কখনো আপনাকে এমন বাঁধা দেয়নি, যখন মনে হয়েছে সব শেষ? যখন ভেবেছেন, “এখন আর কিছু করার নেই”? আজকের গল্পটি এমন একজন মানুষের, যিনি জীবনের প্রতিটি ধাক্কা সযত্নে গ্রহণ করে তা দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আসুন, সেই অদম্য লড়াইয়ের গল্প শোনা যাক।


একটি হতাশ শৈশবের শুরু

মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবা হারানো এক ছেলের গল্প।
১৬ বছর বয়সে স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া।
১৭ বছরে চাকরি খোঁজা শুরু, আর ৪ বার চাকরি হারানো।
১৮ বছর বয়সে বিয়ে এবং ১৯ বছর বয়সে বাবা হওয়া।

জীবন তো চলছিল, কিন্তু ঝড় তখনো থামেনি।
২০ বছর বয়সে স্ত্রী তাকে ফেলে চলে গেলেন, নিয়ে গেলেন তার প্রিয় কন্যাকেও।


নতুন স্বপ্নের পথে ব্যর্থতার ছায়া

সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, ব্যর্থ হলেন।
ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নিলেন, সেখানেও সুবিধে করতে পারলেন না।
নিজের মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে চাইলেন, কিন্তু অপহরণ পরিকল্পনাতেও ব্যর্থ হলেন।
রেললাইনের কন্ডাকটরের কাজ নিলেন, সেখানেও ব্যর্থতা।


আলোহীন জীবনে এক নতুন সিদ্ধান্ত

শেষমেশ, এক ক্যাফের রাঁধুনি হিসেবে কাজ শুরু করলেন।
৬৫ বছর বয়সে অবসরে গেলেন, সরকারের কাছ থেকে পেলেন মাত্র ১০৫ ডলার
এতদিন ধরে সংগ্রামের পর সেই ১০৫ ডলার যেন তাঁকে মনে করিয়ে দিল—জীবন তাঁর কাছে মূল্যহীন।

তখনই সিদ্ধান্ত নিলেন আত্মহত্যার।


গাছের নিচে জীবনের হিসেব

গাছের নিচে বসে জীবনের ব্যর্থতা লিখতে গিয়ে একটি অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল।
তাঁর মনে হচ্ছিল,
“জীবনে কিছুই করতে পারিনি।”

এমনকি জীবনের ছোটখাটো চেষ্টাগুলোও যেন ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর চারপাশের পৃথিবী চলতে থাকল, কিন্তু তাঁর মনে ভাঙনের সুর। তিনি ভেবেছিলেন, জীবন অর্থহীন। কিন্তু সেই মুহূর্তেই একটি অদ্ভুত অনুভূতি তাঁকে বদলে দিল।


মুহূর্তটি, যা জীবন বদলে দিল

তিনি হঠাৎ ভাবলেন,
“তাহলে কি আমার জীবনে কিছুই নেই? আমি তো অন্যদের থেকে রন্ধনশিল্পে বেশি পারদর্শী।”

এটি ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এই উপলব্ধি তাঁকে নিজের ভেতরের শক্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করল। তিনি বুঝলেন, জীবন তাঁকে যে দক্ষতা দিয়েছে, সেটি অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা।

তিনি নিজেকে বললেন,
“আমি যদি এই শক্তিটাকে কাজে লাগাই, তাহলে হয়তো আমি ব্যর্থ নই।”


আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই আছে সুপারপাওয়ার

আমাদের প্রত্যেকেরই এমন কিছু ক্ষমতা আছে, যা অন্যদের থেকে আলাদা।
কেউ হয়তো অসাধারণভাবে গল্প বলতে পারে, কেউ গণিতে জাদু দেখাতে পারে, আবার কেউ সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারে।

কিন্তু আমরা প্রায়শই নিজেদের সেই বিশেষ ক্ষমতাগুলোকে গুরুত্ব দিই না। বরং ব্যর্থতার অনুভূতি আমাদের গ্রাস করে।


৮৭ ডলার দিয়ে একটি স্বপ্নের সূচনা

মাত্র ৮৭ ডলার ধার করে, কিছু মুরগি কিনলেন।
তাঁর নিজের তৈরি রেসিপিতে ফ্রাই করলেন মুরগিগুলো।
এরপর Kentucky-তে প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেই ফ্রাইড চিকেন বিক্রি করা শুরু করলেন।

সেখান থেকেই জন্ম নিল Kentucky Fried Chicken (KFC)


৬৫ থেকে ৮৮ বছরের পথচলা

৬৫ বছর বয়সে আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন।
৮৮ বছর বয়সে তিনি ছিলেন এক সফল ব্যবসায়ী।
তিনি শুধু সফল নন, বিশ্বজোড়া পরিচিত নাম Colonel Sanders


গল্পের শিক্ষণীয় বার্তা

  1. কোনো সময়ই দেরি নয়।
    • ৬৫ বছর বয়সেও তিনি নতুন করে শুরু করেছিলেন।
  2. পরিকল্পনা এবং চেষ্টার শক্তি।
    • ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করলে সফলতা আসবেই।
  3. আপনার শক্তি চেনেন।
    • তিনি বুঝেছিলেন, তাঁর রন্ধনশিল্পই তাঁর আসল শক্তি।
  4. অন্তরের বিশ্বাস হারাবেন না।
    • একবার ব্যর্থ হলেই জীবন শেষ নয়। প্রতিটি ব্যর্থতাই আপনাকে পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য তৈরি করে।

মাসিমার ঝুলির থেকে শিক্ষা

হয়তো আপনার জীবনেও এখন ব্যর্থতা আর হতাশার সময় চলছে।
কিন্তু মনে রাখবেন, আজকের ব্যর্থতাই আগামী দিনের সফলতার বীজ।

একবার বসে ভাবুন, আপনার জীবনের সেই শক্তি কী, যা আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে?
আজ থেকে শুরু করুন, সঠিক পরিকল্পনা করুন, আর দেখুন কীভাবে জীবন বদলে যায়।

মাসিমার ঝুলির পরবর্তী গল্প শুনতে চোখ রাখুন।
হতাশাকে জয় করুন, নিজেকে নতুনভাবে গড়ুন। ধন্যবাদ।