Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Lotus Flower-1

মাসিমার ঝুলি:গোবরে পদ্মফুল

আজ বছরের প্রথম দিন। চারপাশে নতুন সূর্যের আলো। নতুন বছরের নতুন গল্প শোনার জন্য সবাই জড়ো হয়েছে। মাসিমার ঝুলি আজ যেন আরও রহস্যময়। বাচ্চাদের চোখে কৌতূহল, বড়দের মনে গভীর আগ্রহ।

মাসিমা ধীরে ধীরে ঝুলিটা খুললেন। চোখে এক অদ্ভুত ঝিলিক। হেসে বললেন, “তোমরা জানো, আজকের গল্পটা শুধু গল্প নয়। এটা তোমাদের জীবনের বড় শিক্ষা দিয়ে যাবে। কিন্তু শোনো, গল্পটা খুব সাধারণ নয়। এটা এক অদ্ভুত জগতের কথা, যেখানে নিয়ম, বিশ্বাস আর ঈর্ষার মাঝে এক ফুল জন্ম নিয়েছিল। শুনতে চাও?”

সবাই একসঙ্গে বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ! বলো, মাসিমা! বলো!”

মাসিমা হেসে বললেন, “এই গল্পের নাম ‘গোবরে পদ্মফুল’।

কিন্তু সাবধান! এ গল্প শুনলে তোমাদের মন, তোমাদের চিন্তা—সব বদলে যেতে পারে। এবার চুপ করে বসে শোনো।”


গল্প শুরু

Once upon a time অনেক দূরে, এক অদ্ভুত জায়গা ছিল, নাম গোবরস্তান। সেই জায়গায় ছিল এক কড়া নিয়ম—সেখানে কেউ উজ্জ্বল হতে পারবে না। সবাইকে মলিন, ফিকে হয়ে থাকতে হবে। কারণ তাদের দেবতা বলতেন, “মলিনতাই পুণ্য, উজ্জ্বলতা পাপ।”


কিন্তু একদিন, সেই গোবরস্তানের মাঝখানে ঘটে গেল এক অবাক করা ঘটনা। গোবরের মধ্যে ফুটে উঠল এক অপূর্ব পদ্মফুল। এ যেন অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো ব্যাপার। গোবরবাসীরা হতবাক।

“কীভাবে সম্ভব? গোবরের মধ্যে ফুল ফোটে?”
কেউ বলল, “এটা কাগজের ফুল। বৃষ্টি এলেই ধুয়ে যাবে।”
কেউ বলল, “এটা ছত্রাক। ফুলের মতো দেখতে। বেশি দিন টিকবে না।”

কিন্তু দিন গেল, বৃষ্টি এল, ঝড় বয়ে গেল। ফুলটি মলিন হলো না, বরং আরও উজ্জ্বল হলো।

এবার গোবরবাসীদের মন খারাপ হতে শুরু করল। তাদের মনে ঈর্ষার জন্ম নিল।
সর্দার বলল, “ফুলটি আমার চেয়ে সুন্দর! এটা থাকতে পারে না। একে উপড়ে ফেলতে হবে!”
তাদের প্রধান দেবতাও বললেন, “ফুলের ঘ্রাণ আমাদের দুর্গন্ধ নষ্ট করছে। এটা পাপ! যে একে উপড়ে ফেলতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে!”


গোবরবাসীর দ্বন্দ্ব

গোবরস্তানে দুটো পক্ষ তৈরি হলো। এক পক্ষ বলল, “ফুলটি আমাদের কোনো ক্ষতি করছে না। বরং আমাদের সুন্দর হতে শেখাচ্ছে। তাকে থাকতে দাও।”
আরেক পক্ষ বলল, “না! এটা নিয়ম ভাঙছে। এখানে উজ্জ্বল কিছু থাকতে পারে না। একে উপড়ে ফেলতে হবে।”

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কী জানো? কেউ কখনও জানতে চাইল না—ফুলটি কী চায়।


মাসিমার প্রশ্ন

এতক্ষণ চুপ করে শোনার পর, মাসিমা হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা বলো তো, গোবরবাসীরা এমন করল কেন? কেন তারা ফুলটিকে মেনে নিতে পারল না?”

একটা ছোট ছেলে বলল, “কারণ তারা ঈর্ষা করছিল, মাসিমা।”
একটা মেয়ে বলল, “কারণ তারা নতুন কিছু বুঝতে চায়নি।”

মাসিমা মাথা নেড়ে বললেন, “ঠিক। আমাদের চারপাশেও তো এমন হয়। কেউ যদি আলাদা কিছু করে, যদি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, আমরা কি তাকে মেনে নিতে পারি? না কি ঈর্ষা করি, তার বিরুদ্ধে কথা বলি?”


মাসিমা ধীরে ধীরে ঝুলিটা বন্ধ করলেন। বললেন, “নতুন বছর শুরু হয়েছে। এবার ঠিক করো—তোমরা গোবরবাসীর মতো মলিন থাকবে, নাকি পদ্মফুলের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেও উজ্জ্বল হবে? নতুন বছরে তোমাদের আলোর পথে হাঁটার শপথ নিতে হবে।”

সবাই চুপচাপ বসে থাকল। যেন গল্পের গভীর বার্তায় তারা ডুবে গেছে।

তোমরা কী করবে?
তোমাদের চারপাশে থাকা ‘পদ্মফুল’দের পাশে দাঁড়াবে, নাকি গোবরবাসীর মতো তাদের আলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে?


গল্পের শিক্ষা: ভারতীয় কর্পোরেট পেশাদারদের জন্য

বন্ধুরা, গোবরস্তানের পদ্মফুলের গল্পটি শুধু একটি কল্পনা নয়; এটি আমাদের কর্পোরেট জীবনের একটি বাস্তব আয়না।

আমরা যখন কোনো সহকর্মীকে আলাদা কিছু করতে দেখি, তার দক্ষতা, তার উজ্জ্বলতা আমাদের সামনে ফুটে ওঠে—তখন কী করি? আমরা কি তাকে সমর্থন করি? নাকি তার সাফল্যকে হিংসার চোখে দেখি?

আমাদের কর্পোরেট জীবনে এই গল্পের তিনটি মূল শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:


গল্পের শিক্ষা Key Takeaways.

১. নতুনত্বকে গ্রহণ করুন:

নতুন কিছু এলে ভয় না পেয়ে, তা বুঝতে চেষ্টা করো। আপনার অফিস বা টিমে যদি কেউ নতুন কিছু করার চেষ্টা করে, তাকে সমর্থন দিন। তার সাফল্যকে হিংসা না করে, তাকে শিখতে দিন, তার সঙ্গে শিখুন। কারণ নতুনত্বই ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেয়।

২. ঈর্ষার জায়গায় অনুপ্রেরণা আনুন:

যখন কেউ ভালো কাজ করে, তাকে উৎসাহ দিন। ঈর্ষা করলে আপনি শুধু নিজেকে পিছিয়ে রাখছেন। অন্যের উজ্জ্বলতা দেখে আপনি আরও উন্নত হতে পারেন, যদি সেই আলো থেকে অনুপ্রেরণা নেন।অন্যের উজ্জ্বলতা থেকে ঈর্ষা নয়, অনুপ্রেরণা নাও।

৩. টিমের শক্তি বাড়ান:

একটি টিম তখনই সফল হয়, যখন সদস্যরা একে অপরের শক্তি বাড়ায়। কেউ যদি উজ্জ্বল হয়, তাকে নিচে নামানোর বদলে তার পাশে দাঁড়ান। কারণ টিমের প্রত্যেকের উজ্জ্বলতা, পুরো টিমের শক্তি বাড়ায়।

শেষ কথা:

বন্ধুরা, কর্পোরেট দুনিয়া একসঙ্গে এগিয়ে চলার জায়গা। কোনো একজনের সাফল্য মানে গোটা টিমের সাফল্য। নতুন বছরে এই শপথ নিন—

  • সহকর্মীদের আলোর উৎস হতে দিন।
  • তাদের সাফল্যে নিজের সাফল্যের রাস্তা খুঁজুন।
  • এবং মনে রাখুন, যিনি অন্যকে আলোকিত করতে পারেন, তার নিজের আলো কখনও ম্লান হয় না।

আপনার অফিসে পদ্মফুলের মতো কাউকে দেখলে তাকে সমর্থন দিন। আর নিজে সেই পদ্মফুল হয়ে ওঠার সাহস রাখুন। কারণ, উজ্জ্বলতা শুধু আপনার নয়, সবার ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে।

নতুন বছর, নতুন শপথ—আলো ছড়ান, আলো গ্রহণ করুন। কারণ আলোই ভবিষ্যতের পথ দেখায়।