মাসিমার ঝুলি: কাদা না আকাশের তারা? এক দৃষ্টিভঙ্গির রহস্যময় গল্প
চাঁদের আলোয় ভিজছে উঠোন। সবাই নীরবে বসে আছে, মাসিমার গল্প শোনার অপেক্ষায়। এমন নীরবতা, যেন রাতও নিশ্বাস বন্ধ করে বসে আছে। হঠাৎ মাসিমা চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিলেন। তারপর ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন:
“তোমরা কি জানো, দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে জীবনও বদলে যায়? আজ আমি তোমাদের এমন এক গল্প বলব, যা শুনলে তোমাদের মনই পাল্টে যাবে। তবে সাবধান! গল্পের শেষে এমন কিছু আছে, যা তোমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।”
একটা চাপা গুঞ্জন উঠল। সবাই আরও মনোযোগী হয়ে বসে পড়ল।
ধূসর মরুভূমি আর এক মেয়ের গল্প
মাসিমা শুরু করলেন,
“এক নববিবাহিতা মেয়ে। শহরের বিলাসিতায় অভ্যস্ত। কিন্তু বিয়ের পর তাকে স্বামীর সঙ্গে যেতে হল দূরের এক মরুভূমিতে। তোমরা জানো, মরুভূমি মানে শুধু ধুলো আর ধূসরতা। সেই মেয়েটির কাছে মরুভূমি মানে ছিল যন্ত্রণা।
দিনের পর দিন, ধুলো ঝড়, গরম বাতাস। তার একাকিত্ব বেড়ে চলল। চারপাশে কিছু আদিবাসী প্রতিবেশী—তাদের ভাষা, চালচলন কিছুই সে বোঝে না। একদিন সে আর সহ্য করতে পারল না।
তখন সে তার মাকে চিঠি লিখল:
“আমি আর এখানে থাকতে পারব না। সবকিছুই আমার কাছে অচেনা আর কঠিন। আমি বাড়ি ফিরে আসছি।”
মায়ের চিঠি আর দৃষ্টিভঙ্গির আলো
কয়েকদিন পর তার মায়ের কাছ থেকে একটা ছোট্ট চিঠি এলো। কিন্তু এই চিঠিটা তার পুরো জীবন বদলে দিল।
তাতে লেখা ছিল:
“দুই জন লোক কারাগারের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল।
একজন দেখল কাদা, আর অন্যজন দেখল আকাশের তারা।”
মাসিমা থামলেন। তার কথার গভীরতা যেন সবাইকে নিস্তব্ধ করে দিল। তারপর তিনি আবার বললেন,
“মেয়েটি সেই চিঠি পড়ে যেন নতুন চোখ পেল। বুঝল, সমস্যা তার চারপাশে নয়, তার নিজের মনে। এবার সে নিজেকে বদলানোর সিদ্ধান্ত নিল।”
মরুভূমি থেকে নতুন পৃথিবী
মাসিমার গলা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল।
“মেয়েটি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।
- সে আদিবাসী প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে শিখল।
- সে সূর্যাস্তের লাল আকাশ দেখে মুগ্ধ হতে শিখল।
- রাতের আকাশের তারা তাকে নতুন রহস্যের স্বাদ দিল।
আর তুমি জানো কী হল? সেই ধূসর মরুভূমি এক নতুন রঙিন পৃথিবীতে পরিণত হল।
তার মনে হলো, মরুভূমি আর যন্ত্রণার নয়, বরং সৌন্দর্যের। জীবনটা তার কাছে যেন নতুন করে বাঁচার জায়গা হয়ে উঠল।”
গল্পের অপ্রত্যাশিত মোড়
সবাই যেন শান্ত। মনে মনে ভাবছে, এই তো জীবন বদলে গেল। কিন্তু মাসিমা রহস্যময় গলায় বললেন,
“এখানেই কি গল্প শেষ? তুমি কি ভেবেছ, সব ঠিকঠাক হয়ে গেল? না, জীবন এমন সরল নয়। সেই মেয়েটি সুখী হতে পারল, কিন্তু তার মা?”
সবার মুখে বিস্ময়। মাসিমা একটু থামলেন। তারপর বললেন,
“মেয়েটি জানত না, চিঠি লেখার পর তার মা কীভাবে হারিয়ে গেলেন। হ্যাঁ, তার মা কোথাও নেই। কেউ জানে না, তিনি কোথায় গেলেন। মেয়েটি খুঁজতে গিয়ে শুধু একটা গল্প শুনল। এক বৃদ্ধ আদিবাসী বললেন:
‘তোমার মা মরুভূমির মাঝখান দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, যে সত্যিকারের তারা দেখতে চায়, তাকে এই ধুলোয় হাঁটতে হবে। হয়তো তিনি এখানেই কোথাও আকাশের তারার মাঝে মিশে গেছেন।’”
মাসিমার কণ্ঠ যেন হাওয়ায় মিশে গেল। সবাই স্তব্ধ। এ কী অদ্ভুত মোড়?
শেষ কথার ভাবনা
“তোমাদের জীবনেও এমন সময় আসবে, যখন মরুভূমি মনে হবে অসহ্য। মনে হবে পালিয়ে যেতে হবে। তখন তোমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
আর হ্যাঁ, কখনও সেই মানুষগুলোকে ভুলে যেও না, যারা তোমার জীবনে আকাশের তারার মতো। তাদের উপস্থিতি হয়তো তোমাকে সবসময় দৃশ্যমান পথ দেখাবে না, কিন্তু তাদের আলো তোমার পথচলা সহজ করবে।
তবে প্রশ্ন একটাই রয়ে গেল: মেয়েটির মা কি সত্যিই হারিয়ে গেলেন? নাকি তিনি মরুভূমির কোনো রহস্য নিয়ে বেঁচে আছেন?”
পরবর্তী গল্পের টিজার
মাসিমা মুচকি হেসে বললেন,
“তোমরা কি জানো, সেই বৃদ্ধ আদিবাসী কে ছিলেন? কীভাবে তিনি এত কিছু জানতেন? সে গল্পও রহস্যে ভরা।
পরের গল্পে আমি তোমাদের জানাব, কীভাবে এক সাধারণ মানুষ একটা পুরো মরুভূমি বদলে দিয়েছিল। এই রহস্য তোমাদের আরও গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।”
আপনার জীবনের সেই ‘তারারা’ কে, খুঁজে বের করার সময় এসেছে। তারাদের আলো দেখতে শিখুন। আর মাসিমার ঝুলির পরবর্তী রহস্যময় গল্প শুনতে অপেক্ষা করুন।