অরিজিৎ সিংহের সংগ্রামের গল্প–Part 2
২০০5Fame Gurukul Reality Show-এর পর অরিজিৎ বুঝে যান—
শুধু ভালো গলা থাকলে হবে না,
গানের ভিতরের খেলাটা শিখতে হবে।
২০০৬–২০০৭ এই সময় তিনি কাজের সূত্রে ঘুরেফিরে যুক্ত হন Shankar–Ehsaan–Loy-এর কাজের পরিবেশের সঙ্গে।
এখানে অরিজিৎ শেখেন—
- কীভাবে large orchestration বানানো হয়
- কীভাবে choir, harmony, layers বসানো হয়
- কীভাবে discipline ছাড়া বড় গান দাঁড়ায় না
এই phase তাঁকে শেখায়—
🎧 Music is not emotion alone, it’s engineering + emotion.
Then next ঠিক সেই সময়েই তার পথের সঙ্গে জড়িয়ে যায় Salim Merchant-এর studio।
Salim Merchant খুব স্পষ্ট মানুষ।
তিনি flashy voice চাননি—
তিনি চান honesty।
অরিজিৎ সেখানে গিয়ে যা পেত—
- কখনো chorus
- কখনো scratch vocal
- কখনো শুধু বসে থাকা… আর শোনা
অনেক সময় পুরো গানটা রেকর্ড হয়ে যেত,
অরিজিৎ কোনো প্রশ্ন করত না।
সে শুধু দেখত—
- Salim কীভাবে emotion ধরেন
- কোথায় silence দরকার
- কোথায় extra note গানটাকে মেরে ফেলে
এইগুলো কোনো বইয়ে লেখা থাকে না।
এইগুলো শেখা যায়
চুপচাপ পাশে বসে।
Salim Merchant-এর সঙ্গে কাজ করতে করতেই
অরিজিৎ শিখল—
- Sur কম হলেও emotion বেশি হতে পারে
- গান মানে performance না, confession
- গায়কের ego গান নষ্ট করে
এই শিক্ষা পরের দিনে
Bollywood-এর sound বদলে দিল।
বন্ধুরা, যে শেখার জন্য প্রস্তুত থাকে,
সে একদিন নিজেই অন্যদের master হয়ে ওঠে।
২০০৭–২০০৮ এরপর তিনি কাছ থেকে দেখেন
Vishal–Shekhar-এর কাজের ধরন।
এখানে শেখা হলো—
- urban sound
- contemporary beats
- কীভাবে voice texture বদলে যায় genre বদলালে
এই সময় অরিজিৎ বুঝতে শিখলেন—
একজন singer-কে time-এর সঙ্গে evolve করতে হয়।
২০০৮–২০০৯-এই সময় তিনি যুক্ত হন
Monty Sharma-এর কাজের কাছাকাছি।
এখানে অরিজিৎ শেখেন—
- classical discipline
- sur-এর purity
- কম note-এ কীভাবে গভীরতা আনা যায়
এই phase তাঁর গলায় নিয়ে আসে gravitas—
যেটা পরে তাঁর sad / soulful songs-এর backbone হয়ে দাঁড়ায়।
২০০৯–২০১০এরপর আসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—
Mithoon।
Mithoon-এর গান loud না।
ওগুলোর শক্তি—
- silence
- pain
- minimalism
এই সময় অরিজিৎ শেখেন—
“গান মানে shouting না,
গান মানে confession।”
এই শিক্ষা ছাড়া
Tum Hi Ho সম্ভব ছিল না।
২০১০–২০১৩-সবচেয়ে গভীর ও দীর্ঘ কাজের সময়টা আসে
Pritam Chakraborty-এর সঙ্গে।
এখানে অরিজিৎ—
- scratch singer
- guide vocal
- music programmer
- arranger
সব ভূমিকাতেই কাজ করেন।
Pritam-এর studio ছিল তাঁর আসল classroom।
এখানেই তিনি শিখলেন—
- কোন breath গানকে ভেঙে দেয়
- কোন pause গানকে immortal করে
- singer কীভাবে composer-এর ভাবনা নিজের করে নেয়
এই phase-এই
singer অরিজিৎ → storyteller অরিজিৎ হয়ে ওঠেন।
🎧 Scratch Singer মানে কী?
Scratch singer মানে—
👉 যে final গান গায় না
👉 যার কণ্ঠ audience শোনে না
👉 যে শুধু composer-কে বোঝানোর জন্য গান গায়
অর্থাৎ—
“এখানে গানটা এমন feel করবে”
এইটুকুই তাঁর কাজ।
Pritam যখন tune বানাচ্ছেন,
Arijit চুপচাপ বসে থাকতেন।
- কোন sur-এ emotion বদলায়
- কোন pause-এ pain বসে
- কোন breath line-টাকে magic বানায়
তিনি শুধু গান করেননি—
তিনি শুনেছেন, observe করেছেন, absorb করেছেন।
একজন scratch singer হিসেবে
তিনি composer-এর ভাবনাকে নিজের গলায় তুলে ধরতেন।
এই phase-টা ছিল সবচেয়ে কঠিন।
কারণ—
- মঞ্চে কেউ চিনতো না
- বাড়িতে কেউ জানতো না ঠিক কী কাজ করছেন
কিন্তু Arijit জানতেন—
এটা foundation।
দিনের পর দিন scratch গাইতে গাইতেই
একদিন studio-তে কেউ বলল—
“এই voice-টা অন্যরকম…”
এই voice trained না—
lived-in।
এই voice loud না—
honest।
আর ঠিক সেই honesty-টাই পরে
দেশের সবচেয়ে বড় গানগুলোর প্রাণ হয়ে উঠল।
🎧 সেই বিশেষ দিন
সেদিন Studioতে সময় যেন থমকে ছিল।
Pritam Chakraborty তখন কাজ করছেন Aashiqui 2–এর গান আর সুর নিয়ে।
একটা স্পষ্ট চাহিদা ছিল—
প্রথম Aashiqui যেভাবে Kumar Sanu–র সোনালি কণ্ঠে গোটা ভারতকে মুগ্ধ করেছিল,
Aashiqui 2–ও চাইছিল ঠিক তেমনই এক নতুন কণ্ঠ,
যে কণ্ঠে আবারও জাদু হবে।
সুর তৈরি হলো।
গানের নাম— Tum Hi Ho।
এবার এলো সেই মুহূর্ত।
Arijit Singh স্টুডিওতে ঢুকে scratch দিলেন—
মানে, গাইড ভয়েস।
শুধু একটা রেফারেন্স।
কিন্তু—
গান শুরু হতেই স্টুডিও চুপ।
কেউ বলল না—
“আরেকজনকে try করি?”
নীরবতার ভেতর থেকে শুধু একটাই কথা ভেসে উঠল—
“Isse better koi gaa hi nahi sakta.”
সেই এক লাইনে বদলে গেল সব।
👉 Scratch আর scratch রইল না
👉 Guide আর guide থাকল না
👉 এই কণ্ঠটাই— ফাইনাল
একটা গান।
একটা মুহূর্ত।
Tum Hi Ho–র পর
Arijit আর শুধু একজন গায়ক রইলেন না।
তিনি হয়ে উঠলেন—
ভালোবাসার কণ্ঠ,
ব্যথার কণ্ঠ,
বিচ্ছেদের কণ্ঠ,
নিঃশব্দ আত্মার কণ্ঠ।
মানুষ আর গান শোনেনি।
মানুষ শুনেছে—
নিজের গল্প।
বন্ধুরা,
এটা শুধু গানের গল্প নয়—
এটা self-transformation-এর গল্প।
Arijit Singh একটা কথা বলেছিলেন—
খুব সাধারণভাবে, খুব নিজের মতো করে—
“Mera voice thodi aisa tha pehle…
gaale ko tod tod ke textures banaya hai…
bohot torture kiya hai apne aap ko.”
এই কথার ভেতরে লুকিয়ে আছে
একটা মানুষ বদলে যাওয়ার গল্প।
শুরুর দিকের অরিজিতের গলাটা ছিল খোলা মাঠের মতো।
জোরে গান, পরিষ্কার আওয়াজ,
মঞ্চের জন্য তৈরি এক কণ্ঠ।
স্টেজে দাঁড়িয়ে
এই গলা হাততালি আনে।
কিন্তু স্টুডিওতে ঢুকলে
এই একই গলা যেন বেমানান হয়ে যায়।
কারণ স্টুডিওতে
গান গাইতে হয় না—
গান বলতে হয়।
মাইকটা কাছে।
ক্যামেরা অন্য কারও মুখে।
আর কণ্ঠটাকে বসতে হয়
কোনো অভিনেতার চোখের ভেতরে।
তখন অরিজিত টের পায়—
“এই গলা দিয়ে চলবে না।”
সেইখান থেকেই শুরু হয় ভাঙা।
ভাঙা মানে চেঁচিয়ে গলা ভাঙা নয়।
ভাঙা মানে—
নিজের পুরনো অভ্যাসগুলো ছেড়ে দেওয়া।
সব সময় জোরে না গাওয়া।
সব নোটে চমক না দেখানো।
নিজেকে প্রমাণ করার তাড়না থামানো।
এই ভাঙাটাই সবচেয়ে কষ্টের।
কারণ এখানে গলাটা নয়—
ego ভাঙে।
এরপর সে নতুন করে বানাতে শুরু করে নিজের কণ্ঠ।
ছোট ছোট জিনিস
সে শিখেছে ধীরে ধীরে।
রাতের পর রাত।
নিস্তব্ধ স্টুডিও।
একই লাইন বারবার গাওয়া।
নিজের কণ্ঠ নিজেই শুনে আবার গাওয়া।
এইসব দিনের কথাই
সে হেসে বলে—
“নিজেকে torture করেছি।”
এই torture ছিল চুপচাপ।
কোনো দর্শক ছিল না।
কোনো applause ছিল না।
শুধু একটা প্রশ্ন ছিল—
“আর একটু ভালো করা যায় কি?”
বছরের পর বছর পরে
যখন সে গাইল
“Tum Hi Ho”,
এই কণ্ঠটা
প্রাকৃতিক থাকেনি।
এটা বানানো।
বানানো হয়েছে
ভেঙে,
খুঁজে,
সহ্য করে।
তাই বন্ধুরা,
যখন অরিজিত বলেন
“গলাকে ভেঙেছি,”
তিনি গলা ভাঙার কথা বলেন না।
তিনি বলেন—
একটা পুরনো নিজেকে ছেড়ে
নতুন একজন হয়ে ওঠার কথা।
গলা ভাঙা নয়—
নিজেকে বদলানো।
আর ঠিক এই কারণেই
এই কণ্ঠটা আজ
শুধু গান নয়—
মানুষের অনুভূতি হয়ে উঠেছে। 🎶
বন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…