Corporate Daduji

A Corporate Daduji’s Creation

Murshidabad – 11-Part 2

🎙️ বন্ধুরা,
📍 আজ আর কোনো নতুন গল্প নয়।
আজ আমি এসেছি তোমার কাছে নিজের অমান্যতা স্বীকার করতে।
হ্যাঁ, আমি জানি…
“মুর্শিদাবাদ” ধারাবাহিক-er একাদশ (১১তম) পর্বে আমি যেসব প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলাম,
প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাদের উত্তর দিইনি।

কিন্তু বন্ধুরা,
আমি চাইনি তোমরা উত্তর পাও।
আমি চাইছিলাম, তোমরা খুঁজতে শুরু করো। নিজের মতো করে।


📜 ৩০০ বছরের ধামাচাপা পড়া ইতিহাস —
যেটা রক্তে লেখা হয়েছিল,
আর চাপা পড়েছিল বিশ্বাসঘাতকতায়,
সেটা কি ইউটিউবের একটা ভিডিও দেখে খুঁজে পাওয়া যায়?
একটা বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে?
না বন্ধু —
সত্য এত সহজে ধরা দেয় না।
তাকে খুঁড়তে হয়, পেছনে ছুটতে হয়, গভীরভাবে ভাবতে হয়।


🔥 আমি চাইছিলাম —
তোমার ভেতরটা অস্থির হোক।
ঘুমন্ত আগুনটা জেগে উঠুক।
কারণ উত্তর তখনই মূল্যবান হয়,
যখন প্রশ্নটা উঠে আসে হৃদয় থেকে।


📖 জানো, ভগবদ গীতা কীভাবে তৈরি হয়েছিল?
একটা যুদ্ধক্ষেত্রে।
যখন অর্জুন কাঁপছিল, ভেঙে পড়ছিল, তখন সে প্রশ্ন করেছিল —
বারবার প্রশ্ন। গভীর প্রশ্ন। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন।
আর সেই প্রশ্নের উত্তরে জন্ম নেয় ‘গীতা’
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানের কথোপকথন।


⚔️ তাই আজ আমি তোমাদের বলছি —
প্রশ্ন করো। বারবার করো।
প্রশ্ন হোক তোমার অস্ত্র, তোমার বিদ্রোহ।

ইতিহাস শুধু মুখস্থ করার জন্য নয়।
তা বিশ্লেষণ করার জন্য, উপলব্ধি করার জন্য,
আর ভুল থেকে শিখে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।


🔍 আমি চাই তুমি ইতিহাসের পেছনের ইতিহাস জানো।
Root cause খুঁজো, motive বোঝো।
আর প্রশ্ন করো — “কেন?” “কার জন্য?” “কে লাভবান হল?”

👉 কারণ…
যেদিন তোমার প্রশ্নে আগুন থাকবে,
সেদিনই সেই আগুন তোমায় উত্তর দেবে।


📘 বইয়ের পাতা বদলালেই ইতিহাস বদলায় না।
মানসিকতা বদলাতে হয়। চোখ খোলা রাখতে হয়।
আর সবচেয়ে বড় কথা — সাহস রাখতে হয় প্রশ্ন করার।


🔍 💣 আমরা মুখস্থ করতাম – “মীরজাফর ছিল বিশ্বাসঘাতক।”
শিশু অবস্থায়ই এই লাইনটা আমাদের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছিল —
“তিনি খলনায়ক। তিনি বিশ্বাসঘাতক। দেশদ্রোহী।”

কিন্তু কেউ কি একবারও জিজ্ঞেস করেছে—
কেন সে বিশ্বাসঘাতক হল?
কি এমন কারণ ছিল তার বিশ্বাসঘাতকতার?
কী ছিল তার অন্ধকার অভিসন্ধি, আর তার পিছনের গভীর মনস্তত্ত্ব?


👉 কার ছিল দোষ?
সত্যিই কি সব দোষ শুধু মীরজাফরের?
না কি সিরাজের কিছু সিদ্ধান্তগত ভুল? or somthing else?


👁️ আমরা কি আজও সত্যিটা জানি?
নাকি আমরা শুধু একপেশে পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠা মুখস্থ করে গেছি,
যেখানে একজনকে বলা হয়েছে ‘দ্রোহী’, আর অন্যজনকে ‘নির্দোষ বীর’?


🧨 যতক্ষণ না এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে,
ততক্ষণ “মীরজাফর” শুধু একটা নাম থাকবে — শিক্ষা নয়।
আর সিরাজও থাকবে শুধুই আবেগে গাঁথা একটা ছবি — বাস্তবতা নয়।


এই প্রশ্নটাই তোমার মুক্তি।
এই প্রশ্নটাই তোমার অস্ত্র।


📢 তাই বন্ধুরা,
এবার আর উত্তর খোঁজার সময় নয় —
এবার প্রশ্ন করার সময়।

কারণ প্রশ্নেই আছে বিপ্লব।


🧠 তুমি প্রস্তুত তো?
তুমি প্রস্তুত তো সেই বিপ্লবী প্রশ্ন করার জন্য?
যে প্রশ্ন ইতিহাস লিখবে নতুনভাবে?


🎙️ গল্প থামুক আজ — প্রশ্ন শুরু হোক।
কারণ, প্রশ্নই ভবিষ্যৎ গড়বে।

জাগো। জানো। প্রশ্ন করো।


🎙️ বন্ধুরা,
সত্য কখনও মুখে তুলে দেয় না নিজেকে।
তাকে অর্জন করতে হয়।
তার জন্য রক্ত ঢালতে হয়, ঘাম ঝরাতে হয়, চোখ ভিজিয়ে নিতে হয় অশ্রুতে।


তুমি যদি শুধু মুখে মুখে আওড়াও—
“পলাশীর যুদ্ধ”…
“মীরজাফর”…
“ঘসেটি বেগম”…
“ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি”…
তাহলে তুমি ইতিহাস জানো না,
তুমি জানো শুধুই গল্পের ছায়া।
মুখস্থ করা মিথ্যে বীরত্ব।
তথ্যের কঙ্কাল, যার মেরুদণ্ড নেই।


🎯 ইতিহাস তথ্য নয় — ইতিহাস হল চরিত্র।

👉 কে সাহস দেখিয়েছিল?
👉 কে ভেঙে পড়েছিল?
👉 কে প্রতারিত হয়েছিল?
👉 আর কে লোভে পড়ে বিশ্বাসঘাতক হয়েছিল?

এই চরিত্রগুলো বুঝতে শেখো —
কারণ এগুলোর মাঝেই তুমি নিজেকে খুঁজে পাবে।


❗তোমার চারপাশেও এখন মীরজাফর আছে।
তুমি চিনতে পারো কি?

👉 অফিসের সেই সহকর্মী,
👉 সোশ্যাল মিডিয়ার সেই মুখোশধারী,
👉 রাজনীতির সেই প্রতিশ্রুতি-ভাঙা নেতা —
যাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে বিশ্বাসঘাতকতা


❓কতবার তুমি নিজেই বিভীষণ হয়েছ?
❓কতবার নিজের নীতির সাথে আপোষ করেছ?
❓কতবার চুপ থেকেছ, যখন বলা উচিত ছিল?


📌 বন্ধুরা,
আমি যখন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলাম —
তখন আমার উদ্দেশ্য উত্তর পাওয়া নয়
আমার উদ্দেশ্য ছিল আগুন জ্বালানো
তোমার ভেতরে। আমার ভেতরে। আমাদের ভেতরে।

একটা অস্থিরতা,
যেটা শান্তি নয়, সচেতনতা জাগায়


🔥 সেই আগুন জ্বলে ওঠে যখন তুমি নিজেকে জিজ্ঞেস করো—
👉 “আমি কে?”
👉 “আমার ভূমিকা কী?”
👉 “আমি যা করছি, তা কি ন্যায়ের পথে?”
👉 “আমার দেশ, আমার সমাজ — আমি কি তার কাছে সৎ?”

এই প্রশ্নগুলোই একটা জাতির ভবিষ্যৎ তৈরি করে
এই প্রশ্নগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বিপ্লবের বীজ


📣 বন্ধুরা,
✅ যদি সত্য চাও — প্রশ্ন করতে শেখো।
✅ যদি পরিবর্তন চাও — ভাবনার শিকড় বদলাও।
✅ আর যদি ইতিহাস গড়তে চাও — সাহস দেখাও।


🔔 শেষ কথা একটাই —
আমি উত্তর দিইনি,
কারণ আমি জানি —
“Answering is easy… but awakening — that’s rare.”

এখন প্রশ্নটা তোমার কাছে:
👉 তুমি কি শুধু উত্তর খুঁজবে, না নিজেই একজন প্রশ্নকারী বিপ্লবী হয়ে উঠবে?
👉 তুমি কি কেবল ইতিহাস মুখস্থ করবে, না ইতিহাস গড়বে?


🎙️ তোমার প্রশ্নই তোমার শক্তি।
আর প্রশ্নই একমাত্র সত্যের পথে আলো জ্বালায়।

📌 পর্ব 12-তে আবার দেখা হবে।
ততদিন পর্যন্ত — প্রশ্ন করো,!

Jai Hind✊


ন্ধুরা, আজ এখানেই ইতি — আবার দেখা হবে পরবর্তী অধ্যায়ে…