🎙️ নমস্কার বন্ধুরা!
🔥 অফিসের চক্রব্যূহে কি কখনও এমন কারো সঙ্গে পড়েছেন—
যার মুখে মধুর হাসি, কিন্তু মনে বিষের ফণা? ☠️
যে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী বা পরামর্শদাতা বলে দাবি করে,
কিন্তু আড়ালে দু’পক্ষকে খেলিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করে? 🦊
👉 যদি এমন অভিজ্ঞতা আপনারও হয়ে থাকে, তবে আজকের গল্প আপনার জন্য!
কর্পোরেট পঞ্চতন্ত্র-এ আপনাদের স্বাগতম!আজকের এই গল্প শুধু বনের রাজ্যের নয়,আজকের কর্পোরেট জঙ্গলেরও এক জ্বলন্ত আয়না।
এই গল্প আমরা শৈশবে বারবার শুনেছি। কিন্তু আজ, কর্পোরেট দাদুজির কণ্ঠে এই গল্প নতুন অর্থ নিয়ে হাজির। এ যেন এক আয়না, যা আপনাকে দেখাবে আপনার কর্মজীবনের লুকোনো ফাঁদগুলো।এই গল্প আপনার চোখ খুলে দেবে!
🦁 আজকের গল্প: Cunning Mediator 🪷
অনেক বছর আগে, এক গভীর জঙ্গলে একটা তিতির পাখি থাকত।

তার বাস ছিল একটা গাছের গোড়ায় একটা গর্তে। একদিন, খাবারের খোঁজে সে যখন বাইরে গেছে, তখন কোথা থেকে একটা খরগোশ সেই গর্তের সামনে এসে দাঁড়াল। গর্তটা খালি দেখে খরগোশ ঢুকে পড়ল সেখানে।
সন্ধ্যায় তিতির ফিরে এসে দেখল , তার বাড়িতে খরগোশ বসে আছে। রেগে গিয়ে সে চিৎকার করে বলল—
“এটা আমার বাড়ি, হে খরগোশ! এখুনি বেরিয়ে যাও!”
কিন্তু খরগোশ তাচ্ছিল্য করে পাল্টা বলল, “তোমার বাড়ি? প্রমাণ কোথায়? আমি এসে দেখি গর্ত খালি, তাই আমি ঢুকে পড়েছি। তাই এখন এটা আমার!আমি একে ছাড়ব না,এটা আমার!”
দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক চলতেই থাকল। কথা কাটাকাটি, চিৎকার-চেঁচামেচি—কিন্তু কোনও লাভ হল না।

শেষে তিতির বুঝল, এভাবে ঝগড়া করে কোনও সমাধান হবে না। নিজেদের মধ্যে সমাধান সম্ভব নয়। সে প্রস্তাব দিল—
“চলো, আমরা কোনও নিরপেক্ষ আর জ্ঞানী ব্যক্তিই কাছে যাই। উনিই ঠিক বিচার করবেন।”
খরগোশও রাজি হল।আর দুজনে মিলে একজন জ্ঞানী মানুষের খোঁজে রওনা দিল।
এদিকে তাদের ঝগড়া দূর থেকে শুনছিল এক চতুর বুনো বিড়াল। তার মাথায় সঙ্গে সঙ্গে এক প্ল্যান এলো।সে ভাবল, ওরা তাহলে একজন পবিত্র মানুষের কাছে যাচ্ছে বিবাদ মেটাতে? এটা তো আমার জন্য সুবর্ণ সুযোগ!
বেড়ালটা দ্রুত একটা পবিত্র কুশ ঘাস হাতে নিল, নদীর ধারে গিয়ে দাঁড়াল, চোখ বুজে মন্ত্র পড়ার ভান করতে লাগল। পিছনের পায়ে দাঁড়িয়ে, কুশ হাতে ধরে, সে যেন একেবারে সাধু বাবার মতো দেখতে লাগল।

তিতির আর খরগোশ নদীর ধারে এসে বেড়ালটাকে দেখে খুশি হয়ে গেল। তিতির বলল, “এই তো! ইনি নিশ্চয়ই খুব জ্ঞানী আর পবিত্র!বড় সাধুর মতো লাগছে!”
খরগোশও মাথা নাড়ল, “হ্যাঁ, চলো, ওনার কাছে আমাদের সমস্যার কথা বলি। তবে সাবধান, উনি তো বুনো বেড়াল—প্রকৃতিগতভাবে হিংস্র। দূর থেকেই কথা বলা ভালো।”
আমাদের একটা বিবাদ মেটানোর জন্য আপনার সাহায্য চাই।”
তারা দুজনে দূর থেকে ডাকল, “হে মহাজ্ঞানী পবিত্র মহাত্মা! আমাদের মধ্যে একটা বিবাদ হয়েছে। বিবাদ মেটানোর জন্য দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।”

বেড়ালটা ভান করে বলল, “ওহে প্রিয় বন্ধুরা, আমি আমার সমস্ত জ্ঞান দিয়ে নিশ্চয়ই তোমাদের বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করব। কিন্তু এত দূর থেকে তোমাদের কথা শুনতে পাচ্ছি না। ভয় পেয়ো না! আমি তো একটা পোকাও মারি না। দিনে একবার শুধু দুধ খাই। এই কুশ ঘাস হাতে নিয়ে শপথ করছি-—আমি কাউকে ক্ষতি করব না।আমি নিরীহ। আরেকটু কাছে এসো, নইলে আমার কানে চাপ পড়বে!
বেড়ালের মিষ্টি কথায় পুরোপুরি ভুলে, তিতির আর খরগোশ তার কাছে এগিয়ে গেল। আর ঠিক তখনই—ঝাঁপ! বেড়ালটা এক লাফে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিতিরকে একটি দাঁত দিয়ে আর খরগোশকে নখ দিয়ে ধরে ফেলল।
এইভাবেই The Cunning Mediator দুই পক্ষকে নিজের করে ফেলল।
🌱 গল্পের শিক্ষা (Moral of the Story):
👉 যে ভণ্ড সাধু সেজে বসে, তাকে বিশ্বাস করলে সর্বনাশ নিশ্চিত।
👉 মিথ্যা “Mediator” বা “সন্ত” এর মুখোশে লুকানো চতুর লোকদের থেকে সাবধান থাকুন।
⚠️ কর্পোরেট জগতের সত্যি ঘটনা
বন্ধুরা, শুধু জঙ্গলে নয়—আজকের Corporate Jungle-এও এমন চতুর চরিত্র ভরপুর!
তারা হতে পারে—
- আপনার সহকর্মী, যে মুখে মিষ্টি কথা বলে কিন্তু পিছনে আপনার প্রজেক্টে পা দেয়।
- আপনার বস, যে নিজেকে সবার মঙ্গলকামী দেখায় কিন্তু নিজের স্বার্থের জন্য সবাইকে ব্যবহার করে।
- এমনকি আপনার ক্লায়েন্ট, যে মধুর কথায় আপনাকে ফাঁদে ফেলে বাড়তি কাজ করিয়ে নেয়।
কর্পোরেট জগতে এই ধূর্ত মধ্যস্থরা সবসময় লুকিয়ে থাকে। তারা মিষ্টি কথা, ভালো ভালো প্রতিশ্রুতি, আর নিজেকে নিরীহ দেখানোর ভান করে আপনার ভরসা অর্জন করে। কিন্তু সতর্ক থাকুন! তাদের কথায় ভুলে কাছে গেলেই তারা আপনার ক্যারিয়ার, সুযোগ, বা এমনকি আপনার সম্মানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
তাই, গল্পের মতোই, কর্পোরেট জঙ্গলে পা ফেলার আগে সাবধানে চিন্তা করুন। কে আসল জ্ঞানী, আর কে ধূর্ত বেড়াল—তা ভালো করে বুঝে নিন।
💬আজকের গল্প কেমন লাগলো?
Comments এ share করো ⬇️
আর পরের গল্পের জন্য প্রস্তুত থাকুন! 🔔✨