Learning from নিজের মূল্য নিজেই নির্ধারণ করুন-Episode 2
আমাদের একটা বড় সমস্যা আছে—
আমাদের স্মৃতি খুবই ক্ষণস্থায়ী।
জীবন আমাদের কত মূল্যবান শিক্ষা দেয়,
কিন্তু সময়ের স্রোতে সেগুলো আমরা ভুলে যাই।
আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল।
‘জীবনের মূল্য’—এই ছোট্ট গল্পটা,
যা আমার জীবনের দিক পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল প্রায় ২০ বছর আগে…
সেটাই আমি কখনও ভুলে গিয়েছিলাম।
কিন্তু তারপর একদিন হঠাৎই
এই গল্পটা আবার সামনে এল।
আর আমাকে জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে মনে করিয়ে দিল—
কেন এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল।
✨ সেই গল্পটা যা আমাকে বদলে দিয়েছিল
প্রায় দশ বছর আগের কথা।
তখন আমি একটা বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করতাম—
যেখানে কর্পোরেট কালচার ছিল কঠিন, হায়ারার্কি ভারী।
নিয়মিত অফিসে আসতাম, পুরো দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতাম।
দেওয়া টাস্কের চেয়ে অনেক বেশি করে দিতাম—
রাত জেগে প্রজেক্ট শেষ করতাম, নতুন আইডিয়া দিতাম।
তবুও ফল?
পদোন্নতি নেই।
স্বীকৃতি নেই।
কোনও অগ্রগতি নেই।
ধীরে ধীরে মনে একটা বিষাক্ত সন্দেহ ঢুকে গেল—
“আমি কি সত্যিই যোগ্য নই?”
“আমার এত পরিশ্রম কি কেউ দেখেও না?”
“আমার মধ্যে কি কোনও বড় অভাব আছে?”
তাই নিজেকে আরও শাণিত করলাম।
নতুন স্কিল শিখলাম, সার্টিফিকেশন করলাম,
আরও বেশি ঘণ্টা খাটলাম।
কিন্তু বাস্তব বদলাল না—
একই স্ট্যাগনেশন, একই নীরবতা।
ঠিক তখনই একদিন মোবাইলে এসে পড়ল সেই ছোট্ট গল্পটা।
গল্পটা শুনে আমার ভিতরটা কেঁপে উঠল।
মনে হল—এটা শুধু কারও গল্প নয়, এটা তো আমারই জীবনের প্রতিচ্ছবি!
সেই গল্পটা ছিল এরকম:
এক বাবা তার ছেলেকে একটা সাধারণ দেখতে পাথর দিয়ে বললেন,
“বাবা, এটা নিয়ে যা বাজারে বিক্রি কর। কেউ দাম জিজ্ঞাসা করলে শুধু দু’আঙ্গুল তুলে ধরিস, একটা কথাও বলবি না।”
ছেলে বাজারে গেল।
এক মহিলা এসে বলল, “এটা কত?”
ছেলে দু’আঙ্গুল তুলল।
মহিলা ভাবল ২ টাকা, হেসে বলল, “এত বেশি? থাক!” চলে গেল।
পরে এক ফলওয়ালা এসে দাম জিজ্ঞাসা করল।
দু’আঙ্গুল দেখে ভাবল ২০০ টাকা, বলল, “খুব বেশি দাম!” চলে গেল।
তারপর এক ধনী জহরি (গয়নার ব্যবসায়ী) এল।
পাথরটা দেখে চমকে উঠল, “এটা কোথায় পেলে? এ তো অমূল্য হীরা! আমি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনব!”
ছেলে অবাক হয়ে বাড়ি ফিরে বাবাকে সব বলল।
বাবা হেসে বললেন,
“দেখলি বাবা? পাথরটা একই রয়েছে। গুণাগুণ একই।
বদলেছে শুধু জায়গা—আর যারা দেখছে, তাদের চোখ।
তুই যেখানে নিজেকে রাখবি, সেখানকার মানুষ তোকে সেইভাবেই মূল্য দেবে।”
সেই মুহূর্তে আমার চোখ খুলে গেল।
আমি অযোগ্য নই।
আমি কম নই।
আমি শুধু ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম—
যেখানে আমার মূল্য বোঝার চোখ ছিল না।
এই উপলব্ধিটা নীরব ছিল, কিন্তু বজ্রপাতের মতো শক্তিশালী।
সেদিনই সাহস জেগে উঠল।
সিদ্ধান্ত নিলাম—কোম্পানি বদলাব।
সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না।
ভয় ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল, পরিবারের চাপ ছিল।
তবু এগিয়ে গেলাম।
পরবর্তী কয়েক বছরে একাধিক ওয়ার্কপ্লেস বদলেছি।
প্রতিবারই একটা সত্য স্পষ্ট হয়েছে—
আমার পরিশ্রম একই ছিল।
আমার নিষ্ঠা, কাজের মান—সব অপরিবর্তিত।
বদলেছে শুধু পরিবেশ।
আর পরিবেশ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে আমার মূল্যায়ন—
পদোন্নতি এসেছে, স্বীকৃতি এসেছে, সম্মান এসেছে।
আজ বুঝি, জীবনের একটা বড় সত্য হল—
সব পরিশ্রম ব্যর্থ হয় না।
কিছু পরিশ্রম শুধু ভুল জমিতে বীজ বোনা হয়।
জমি যদি অনুর্বর হয়, ফসল ফলবে কী করে?
সেই গল্পটা আর গল্প রইল না—
ওটা হয়ে উঠল আমার জীবনের আয়না।
যাতে আমি প্রথমবার নিজেকে পরিষ্কার চোখে দেখেছিলাম।
ওই আয়না আমাকে শিখিয়েছে—
নিজেকে ছোট ভাবার কোনও কারণ নেই,
শুধু এই জন্য যে যে জায়গায় তুমি দাঁড়িয়ে আছ,
সেখানকার মানুষ তোমার মূল্য বুঝতে পারে না।
জীবনে সাফল্যের জন্য অনেক সময়
নিজেকে বদলাতে হয় না—
শুধু নিজের জায়গাটা বদলাতে হয়।
আর সেই দিন থেকে আমি আর নিজের মূল্য নিয়ে সন্দেহ করি না।
শিখেছি সঠিক অবস্থান বেছে নিতে—
যেখানে আমার মতো মানুষেরা আমার প্রতিভাকে দেখতে পায়, মূল্য দিতে জানে।
তোমার জীবনেও যদি এমন অনুভূতি হয়—
যে পরিশ্রম করছ কিন্তু ফল মিলছে না—
তাহলে মনে রেখো:
তুমি অযোগ্য নও।
তুমি শুধু হয়তো ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে আছ।
জায়গা বদলাও।
দেখবে, পৃথিবী বদলে যাবে।
✨ যদি এই গল্পটা তোমার মন ছুঁয়ে থাকে, শেয়ার করো।
কারণ কখনও কখনও একটা গল্পই জীবনের দিক পাল্টে দিতে পারে।