Learning from লেজকাটা শেয়ালের গল্প
আপনি কি এখনও মনে করেন—
ম্যানেজমেন্ট শেখার একমাত্র উপায় শুধু বিদেশি management books?
Philip Kotler, Stephen Covey, Peter Drucker—
এদের নাম না পড়লে ম্যানেজমেন্ট শেখাই যায় না?
অথবা বিদেশি management guru ছাড়া
best management practice শেখা সম্ভব নয়?
যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে খুব মন দিয়ে এই গল্পটা শুনুন।
কারণ এটা কোনো জঙ্গলের গল্প নয়। এটা একটা ম্যানেজমেন্টের গল্প। শুধু অন্য ভাষায় বলা।
লেজকাটা শেয়ালের গল্প।
আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে, প্রথমবার এই গল্পটা আমি শুনেছিলাম।
আপনি যদি এখনো লেজকাটা শেয়ালের গল্প না পড়ে থাকেন,
তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একবার অবশ্যই পড়ে নিন।
2012 সেই সময় আমি কাজ করছিলাম একটা Japanese company-তে।
সত্যি বলতে কী—
company-টা ছিল অসাধারণ।
training culture ছিল দুর্দান্ত।
employee development নিয়ে তারা ছিলেন ভীষণ serious।
প্রায়ই Japan থেকে trainer-রা আসতেন—
আমাদের শেখাতে, গড়ে তুলতে, আর সবচেয়ে বড় কথা, ভাবনার দিগন্ত বদলাতে।
আজও কয়েকটা নাম আমার কানে স্পষ্ট বাজে— তাকিওনা মুতেআসি,টাকাহাসি, হাসিmoto, etc…

ওরা শুধু প্রশিক্ষক ছিলেন না, ওরা ছিলেন walking philosophy। ওরা আমাদের শুধু কাজ শেখাতেন না— কীভাবে ভাবতে হয়, সেটাও শেখাতেন।
ওদের মুখে বারবার শুনতাম একটা কথা— “If you want to grow, you must continuously upgrade yourself.”
সেই upgrade-এর জন্য তারা আমাদের recommend করতেন বিভিন্ন foreign writer-এর বই,management books,leadership philosophy।
আমরা পড়তাম— Management theory, Leadership Model & Frameworks, বিদেশি case study.

সবই ছিল অত্যন্ত valuable। সবই ছিল চোখ খোলার মতো।
কিন্তু তখনও আমি একটা জিনিস বুঝতে পারিনি— সব জ্ঞান universal নয়।
সব শিক্ষা transferable নয়।
সেই সময় আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম— যা বিদেশে কাজ করেছে, তা এখানেও ঠিক একইভাবে কাজ করবে।
কারণ আমি তখন শিখছিলাম, কিন্তু বিচার করে শিখিনি।
ঠিক সেই সময়টাতেই এই লেজকাটা শেয়ালের গল্পটা আমার কানে এসেছিল— কিন্তু পুরোপুরি মনে ঢোকেনি।
আজ বুঝি— সেই গল্পটা সেদিনই আমার জীবনে ঢুকে পড়েছিল। শুধু তার ফল পেতে আমার আরও কিছু বছর লেগেছিল।
কারণ কিছু গল্প একবার শোনা যায়, কিন্তু বোঝা যায় অনেক পরে— যখন জীবন নিজেই তার গভীর মানে খুলে দেয়।
আরও শুনতে চান কী হয়েছিল তারপর? কীভাবে এই গল্পটা আমার জীবনের দিক বদলে দিয়েছে? Stay tuned…… পরের অংশটা আরও গভীর। 😊
শুরুতে সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো সুন্দর লাগছিল। বিদেশি বইগুলো, তত্ত্বগুলো, নেতৃত্বের model,, দক্ষতার সূত্র— সবকিছু পরিষ্কার, সাজানো-গোছানো, নিখুঁত।
আমি মনপ্রাণ দিয়ে পড়তাম, শুনতাম। মনে মনে ভাবতাম—“এটাই তো ঠিক পথ, এটাই আধুনিকতা।”
কিন্তু ধীরে ধীরে বাস্তব কাজের মাঠে নেমে একটা অস্বস্তি টের পেতে শুরু করলাম। কাগজে যা নিখুঁত, মাঠে তা সবসময় নিখুঁত হয় না।
বিদেশি বই বলছে—মানুষ যুক্তিতে চলে। কিন্তু আমি দেখছিলাম—আমাদের মানুষ অনুভবে, সম্পর্কে চলে।
বই বলছে—প্রণোদনা মানে টাকা, সংখ্যা। কিন্তু এখানে প্রণোদনা মানে সম্মান, নিরাপত্তা, পরিবারের মতো বন্ধন।
বই বলছে—সময়ই সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু এখানে দেখলাম—মানুষ আগে মানুষকে দেখে, তারপর সময়কে।
তখনও পুরোপুরি বুঝিনি। শুধু অনুভব করছিলাম—কোথাও একটা ফাঁক আছে।
একটা ঘটনা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
একবার একটা বিদেশি management concept—ঠিক বইয়ের মতো করে— আমি টিমে প্রয়োগ করতে চেয়েছিলাম। সব পরিকল্পনা নিখুঁত।
কিন্তু ফল এল উল্টো। টিমে অস্বস্তি, চাপা ক্ষোভ। মুখে কেউ কিছু বলছে না, কিন্তু কাজের গতি কমে গেল।
সেদিন প্রথমবার নিজেকে প্রশ্ন করলাম— আমি কি ভুল করছি? নাকি বইয়ের theory এখানকার মাটিতে খাপ খায় না?
সেই প্রশ্নের উত্তর সেদিন পাইনি।
কিন্তু অনেক বছর পরে, জীবনে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়ে হঠাৎ করে সেই পুরনো গল্পটা ফিরে এল মনে— জঙ্গলের শেয়াল, বিদেশফেরত শেয়াল, লেজ কাটার প্রস্তাব।
আর সেই মুহূর্তে যেন আলো জ্বলে উঠল!

সমস্যা শেখায় নয়—সমস্যা অন্ধভাবে অনুকরণে।
অনুকরণ বনাম অনুসরণের রহস্য
অনুকরণ আর অনুসরণ—দুটো শব্দ দেখতে কাছাকাছি, কিন্তু অর্থে আকাশ-পাতাল ফারাক।
অনুকরণ মানে অন্ধের মতো পিছনে ছোটা—চোখ বন্ধ করে, প্রশ্ন না করে, শুধু কপি করা। যেন কেউ লেজ কেটে ফেলেছে বলে তুমিও কেটে ফেললে, নিজের প্রয়োজন না ভেবে।
অনুসরণ মানে আলোর পথে হাঁটা—চোখ খোলা রেখে, বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে, ভালোটা গ্রহণ করে নিজের পথে এগোনো। যেন কারও আলো দেখে নিজের মশাল জ্বালানো।
তুমি কোনটা বেছে নেবে—সেটা পুরোপুরি তোমার ওপর নির্ভর করে।
বিদেশি জ্ঞান, উন্নত তত্ত্ব—এগুলো আলো দেয়, দিগন্ত খুলে দেয়। কিন্তু পথ দেখায় শেষ পর্যন্ত নিজের বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতা।
অন্ধ অনুকরণে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না। বুদ্ধিমান অনুসরণে নিজেকে গড়ে তুলুন।
মনে রাখবেন—আলো ধার করা যায়, কিন্তু নিজের চোখের জ্যোতি নিজেকেই জ্বালাতে হয়। 😊
সেই দিন থেকে আমি নিজের জন্য একটা নিয়ম বেঁধে নিলাম— সব জায়গা থেকে শিখব, কিন্তু প্রয়োগ করব নিজের নিজের বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতা বুঝে।
বই আমাকে ভাবতে শেখাবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবে আমার অভিজ্ঞতা আর অন্তরের আলো।
এই উপলব্ধি ধীরে ধীরে আমার চিন্তাভাবনার গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিয়েছে। আমি আর কোনো তত্ত্বকে অন্ধভাবে চূড়ান্ত সত্য মনে করি না। প্রতিটি জ্ঞানকে পরখ করে দেখি—এটা আমাদের বাস্তবতায়, আমাদের মানুষের জীবনে কতটা খাপ খায়।
আজ পিছনে তাকিয়ে হৃদয় ভরে কৃতজ্ঞতা অনুভব করি— বিদেশি শিক্ষা আর গুরুদের জন্য, যারা আমার দিগন্তকে অসীম করে দিয়েছে। আর তার থেকেও অনেক বেশি কৃতজ্ঞ—নিজের ভুলগুলোর জন্য, যেগুলো আমাকে সবচেয়ে গভীর শিক্ষা দিয়েছে।
কারণ জীবন শেষ পর্যন্ত এটাই বারবার শিখিয়েছে— জ্ঞান ধার করা যায়, অনুপ্রাণিত হওয়া যায়, কিন্তু বুদ্ধি আর প্রজ্ঞা নিজেকেই গড়ে তুলতে হয়।
আর শিকড় যত গভীর, গাছ তত অটুট—ঝড় যতই আসুক, দাঁড়িয়ে থাকবে অবিচল।
আপনার জীবনেও কি এমন কোনো “লেজকাটা” মুহূর্ত এসেছে—যেখানে অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে নিজের বুদ্ধির আলো জ্বলে উঠেছে? শেয়ার করুন না… আমরা সবাই একে অপরের গল্প থেকে শিখি, বড় হই। 😊
গল্পটা এখানেই শেষ।
আসলে এটা তো সবে শুরু!
পরের পর্বে আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব something new .Stay tuned.
Next episodeটা miss করবেন না।
We’ll meet again very soon.