মানুষ ভাবে—পাপ ধুয়ে যায় নদীতে।
কিন্তু যদি নদীই একদিন জিজ্ঞেস করে—
‘তোর পাপ গেল কোথায়?’
তখন কী বলবে?
আমরা প্রায়ই মনে করি, একটু ভালো কাজ, একটু দান–ধ্যান, একটু তীর্থস্নান…
হয়ে গেল পাপমুক্তি!
কিন্তু প্রকৃতি কখনো ভোলে না।
প্রকৃতি কখনো হিসেব হারায় না।
কারণ এই বিশ্বটা এক বিশাল ব্যাঙ্ক—
যেখানে জমা পড়ে আমাদের কর্ম।
আর একদিন সেই কর্মই সুদ-সহ ফিরে আসে আমাদের জীবনেই।
এমনই এক মুহূর্তে…
আমি ত্রিবেণীর পবিত্র সঙ্গমে স্নান করলাম এবং জলে দাঁড়িয়ে আমি নিজের মনকে প্রশ্ন করলাম —
“তুমি কি আমার পাপগুলো সংগ্রহ করেছ?”
নদী উত্তর দিল — “হ্যাঁ।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম — “তাহলে তুমি এগুলোর কী করবে?”
ত্রিবেণী হেসে বলল —
“আমি কি পাগল, ওগুলো নিজের কাছে রাখব? আমি সেগুলো সাগরে জমা দেব।”
কৌতূহলী হয়ে আমি সাগরের কাছে গেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম —
“ত্রিবেণী কি আমার পাপগুলো তোমার কাছে পাঠিয়েছে?”
সাগর বলল — “হ্যাঁ।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম — “তুমি সেগুলো নিয়ে কী করবে?”
সাগর মুচকি হেসে বলল —
“আমি কি পাগল, ওগুলো নিজের কাছে রাখব? আমি সেগুলো মেঘের কাছে পাঠিয়ে দেব।”
তারপর আমি মেঘের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম —
“তুমি কি সাগরের কাছ থেকে আমার পাপগুলো পেয়েছ?”
মেঘ বলল — “হ্যাঁ।”
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম — “তাহলে তুমি সেগুলো নিয়ে কী করবে?”
মেঘ ফিসফিস করে বলল —
“আমরা কি পাগল, ওগুলো রেখে দেব? আমরা সেগুলো বৃষ্টির সঙ্গে ঝরিয়ে দেব।”
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম —
“কার উপর?”
মেঘ হাসল দুষ্টুমি ভরা মুখে —
“তোমার উপরই তো!”
এক গভীর উপলব্ধি আমাকে ছুঁয়ে গেল —
আমরা যেখানেই যাই না কেন, কর্ম আমাদের অনুসরণ করে।
এই বিশ্বচরাচর আমাদের মনে করিয়ে দেয় —
ভালো থাকো, ভালো করো, কারণ তোমার কর্ম একদিন তোমার কাছেই ফিরে আসবে।